রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ এখন থেকে রোববার সাহিত্য সকাল প্রকাশ ◈ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশের রোল মডেল পবা উপজেলা ভূমি অফিস ◈ ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার ◈ নেত্রকোণার কলমাকান্দায় টানা বৃষ্টির কারণে জমির আমন ধান ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন কৃষকরা ◈ রাণীশংকৈলে পাঁচ জুয়াড়ি আটক ◈ সবাই জানে! জানেনা যাদের জানার কথা. . . . . ◈ নান্দাইলে প্রস্তাবিত প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ◈ দুর্গাপুরে থামছে না সোমেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙ্গন ◈ কুড়িগ্রামের সকল থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সেবা ডেস্কে চলছে সেবা ◈ শেকৃবিতে ভিসির দায়িত্বে রেজিস্ট্রার,বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

সমালোচকদের সমস্যা তারা তাদের ‘সমালোচনার’ সমালোচনা নিতে পারেন না –সাদাত হোসাইন।

প্রকাশিত : ০৯:৪২ AM, ১১ অগাস্ট ২০২০ Tuesday ২০৬ বার পঠিত

সাজেদুর ‍আবেদিন, সাহিত্য প্রতিনিধ:
alokitosakal

সময়ের তুমুল জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন। দৈনিক আলোকিত সকালের সাহিত্য প্রতিনিধি সাজেদুর আবেদীন শান্ত‘কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখালেখি, ব্যক্তিগত-জীবন ও সাহিত্য-জীবনের গল্প শোনাচ্ছেন সাদাত হোসাইন।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ করোনার এই অবরুদ্ধ সময়ে কি করছেন ?

সাদাত হোসাইনঃ আমার ক্ষেত্রে করোনাকালে তেমন পরিবর্তন নাই। কারণ আমি নিয়মিত লেখালেখি করি, তাই বেশিরভাগ সময়ই বাসায় থাকি। এই সময়েও আমি বাসায় বসে লেখালেখি করেছি। প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যাসহ বেশকিছু উপন্যাসের কাজ করছি।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ জীবনে প্রথম লেখা প্রকাশ পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিলো? প্রথম লেখাটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে?

সাদাত হোসাইনঃ প্রথম লেখা প্রকাশ পাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম। তবে আমার লেখা কিন্তু প্রথমেই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। হয়েছে অনেক পরে। তাও সাম্প্রতিক সময়ে। তবে ছেলেবেলায় পত্রিকার খবর থেকে আমার নামে রয়েছে এমন বিভিন্ন অক্ষর কেটে পাশাপাশি সাজিয়ে প্রথম আমার নাম ও লেখা ছাপার অক্ষরে দেখি। ওটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ আলোকচিত্রকর থেকে আপনার লেখক হয়ে উঠার কথা শুনতে চাই।

সাদাত হোসাইনঃ আমি আসলে গল্প বলতে চেয়েছি। গল্প বলার কিন্তু অনেক মাধ্যম আছে। আমি ফটোগ্রাফিটাকে আমার গল্প বলার মাধ্যম হিসাবে নিয়েছিলাম। তখন অনেকেই আমার ফটোগ্রাফি খুব পছন্দ করতেন। বলতেন, তোমার ছবিতো অনেক সুন্দর, তো তুমি তোমার তোলা ছবির সাথে ছোটো ছোটো গল্পও লিখতে পারো। মানে ওই ছবিরই গল্প। তো আমি যখন ছবির সাথে ছোট ছোট গল্প লেখতে শুরু করলাম তখন দেখি অনেকেই তা গ্রহণ করছেন। আমার প্রথম বই “গল্পছবি” মুলত ফটোগ্রাফির বই। যেটা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। সেখান থেকেই সিরিয়াসলি আবার লেখালেখিতে আসা।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ আপনি বিগত সাক্ষাৎকার গুলোতে বলেছেন ‘হতাশাই আমার অনুপ্রেরণা’। হতাশা বাদে আর কোনো অনুপ্রেরণা কি কাজ করেছে?

সাদাত হোসাইনঃ সেইটা হলো পাঠক। এখনে এসে মনে হয় এই যে অসংখ্য পাঠক আগ্রহ নিয়ে আমার লেখা পড়ছেন, এটা বিশাল বড় অনুপ্রেরণার জায়গা।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ আপনার মতে লেখার উপর জোর দেওয়া উচিত নাকি লেখার সংখ্যার উপর জোর দেওয়া উচিত? কেনো?

সাদাত হোসাইনঃ আমার কথা হচ্ছে যে, এইসব কোনো কিছু ভাবার দরকার নেই। একজন লেখকের লিখতে ভালো লাগছে, সে লিখবে। তার নিজেস্ব ভাবনা , নিজেস্ব ভালোলাগা তার উপর লিখবে। লেখালেখির ক্ষেত্রে আসলে কোনো সুত্র চলবে না বা চলে না। লেখালেখির কোনো সুত্র নাই । অনেকেই কিন্তু বলে যে, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো লেখা লেখলে সেই লেখাটি খুব ভালো হয়। বাট ইট’স নট ট্রু। ট্রু মানে কি আমি তোমাকে বলি, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত উপন্যাস আছে যেমন “ ডক্টর জেকেলি এন্ড মিস্টার হাইড” এই উপন্যাস মাত্র ৬ দিনে লেখা হয়েছে। তারপরে “দ্যা বয় ইন দি স্ট্রাইপড পাজামাস” এই উপন্যাসটি পৃথিবীর গ্রেটেস্ট একটা উপন্যাস এইটা লেখা হইছে মাত্র ৩ দিনে। এ রকম অনেক বিশ্বখ্যাত যত উপন্যাস রয়েছে, যা খুব অল্প সময়ে লেখা হয়েছে। তো কোয়ান্টিটি, কোয়ালিটি সময় এগুলা দেখে আর কি লেখালেখি চলে না। আমার কথা তোমার যদি লিখতে ভালো লাগে লিখবা। কোনো সুত্র ফলো করা উচিত নয়। লেখালেখি কোনো থিউরি বা তত্ব দিয়ে হয়না এইটা হচ্ছে প্রাক্টিস এর ব্যাপার।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ সাহিত্যিক না হলে ব্যাক্তি জীবনে কি হইতেন?

সাদাত হোসাইনঃ আমার খুব স্বপ্ন ছিলো ক্রিকেটার হওয়া । আমি ভালো ক্রিকেট খেলতাম। তবে একটা ব্যপার কি, আমাদের ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত স্বপ্নের নানান পরিবর্তন হয়। যেমন আমাদের বাড়ির পাশে ছোট খেয়া নৌকা ছিলো। ত, আমি যখন নৌকায় উঠতে যেতাম আমাকে উঠতে দিতো না, তখন আমার অনেক মন খারাপ হত। তখন আমি ভাবতাম আমি যদি খেয়া নৌকার মাঝি হতে পারতাম তাহলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু বড় হতে হতে বিভিন্ন সময় সেই ইচ্ছে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ছিল বোধহয় ক্রিকেটার হওয়াই।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ একজন সাহিত্যিক হিসাবে ফেসবুকের মাধ্যমে সাহিত্য চর্চাকে কি হিসাবে দেখেন? ফেসবুক কি বাংলা সাহিত্যের শত্রু নাকি মিত্র?

সাদাত হোসাইনঃ মানুষ প্রথমদিকে কিন্তু ওই যে গুহা চিত্রের মাধ্যমে মনের অনুভুতি প্রকাশ করছে। তারপর দেয়ালে লিখে, আমরা ছোট বেলায় শুনেছি মানুষ তালপাতায় লিখতো, মিশরে প্রথম প্যাপাইরাস কাগজ তৈরি হওয়াত পর মানুষ কাগজে লেখা শুরু করলো। তো পৃথিবীতে যত প্রযুক্তি হয়েছে আমরা তত পরিবর্তন হয়েছি। এইটা হচ্ছে বিবর্তনের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আগে ফেসবুক ছিলোনা তাই মানুষ ফেসবুকে লেখে নাই। কিন্তু এখন ফেসবুক রয়েছে তাই মানুষ ফেসবুকে লিখেছে। এইটা বিবর্তনের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এইটা কে গ্রহন করতেই হবে। ফেসবুক একটি অসাধারণ ব্যাপার। পজেটিভ কাজের জন্য এইটা দারুন ভুমিকা রাখতে পারে, যদি আমরা সেই ভাবে ব্যাবহার করি।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ পাঠক হিসাবে বর্তমান সময়ের লেখকদের মধ্যে কার লেখা পড়তে বেশি ভালো লাগে?

সাদাত হোসাইনঃ এই সময় বলতে বয়সে আমাদের কাছাকাছি না, তারপরেও আমার শাহাদুজ্জামানের লেখা পড়তে বেশি ভালো লাগে। কলকাতার বিনোদ ঘোষাল আছে তার লেখা পড়তেও ভালো লাগে । আর আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক হচ্ছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ আপনার উপন্যাসের ফিনিশিং থাকে না কেনো? যেমনঃ নির্বাসন।

সাদাত হোসাইনঃ নির্বাসনের ব্যাপারটা আমি এক্সপ্লোর করি। আমি যদি সব লিখেই শেষ করে দেই, তাহলে পাঠকের ভাবনার যায়গা কোথায়? এখানে পাঠক শুধু আমার ভাবনাটাই ভাবতে পারছে। তাদের আলাদা করে ভাবার আর স্কোপ থাকছে না। কিন্তু পাঠকেরও তো একটা ভাবনার জগত আছে , তাদের ও তো কল্পনার জগত আছে। আর পাঠকের চিন্তার জন্য আমি উপন্যাসের এই যায়গাটুকু ছেড়ে দিয়েছি যে এইটা পাঠক চিন্তা করুক।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ অনেকেই বলে আপনি নাকি সমালোচনা গ্রহন করতে পারেন না, এ সম্পর্কে যদি বলতেন

সাদাত হোসাইনঃ যারা এটা বলে যে আমি সমালোচনা নিতে পারি না, তারা মূলত আমার কথা না বুঝে এটা বলে। ধরো তুমি যা বলবা, তাই কি আমাকে নিতে হবে? আমি তা নিতে বাধ্য? কেন? তুমিতো ভুলও হতে পারো। তুমি মূর্খ হতে পারো। অযোগ্য, জ্ঞানহীন হতে পারো। সেই বিষয়ে তোমার সম্যক ধারণা, জানাশোনা নাও থাকতে পারে। পারে না? তো তোমার কথা বা বক্তব্য বা তথাকথিত সমালোচনা শুনে যদি তোমাকে আমার ওই ক্যাটাগরির লোক মনে হয়, তারপরও তোমার সমালোচনা আমাকে নিতে হবে? ‘সমালোচনা’র নামে তুমি যা বলবা তাই আমাকে কেন, কোন যুক্তিতে নিতে হবে? এখন আমি যদি ধরো এই ফেসবুকেই লজিক্যালিও তোমার কোনো সমালোচনার প্রতিবাদ করি, তাহলে তুমি বলছো যে আমি সমালোচনা নিতে পারি না। তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়াচ্ছে? বিষয়টা দাড়াচ্ছে যে তুমি আসলে তোমার সমালোচনার ‘সমালোচনা’ নিতে পারো না। মানে তুমি আপাদমস্তক একটা হিপোক্রেট। মানে তুমি যা বলছ, সেটাকে তুমি স্বতসিদ্ধ, সর্বজনগ্রাহ্য, মানতেই হবে ধরে নিচ্ছ? কেন ভাই? তুমি কে যে তুমি যা বলছো, তা আমার কাছে মূর্খামি মনে হলেও আমাকে মেনে নিতে হবে? হ্যাঁ, আমি তোমার বক্তব্য শুনতে পারি। কিন্তু মেনে নিতে বাধ্য নই। আমি আমার বোধ, বিবেচনা, বোঝাপড়ায় যেটা মেনে নেয়ার মতো, গ্রহণযোগ্য, সেটা মেনে নেবো। যেটা গ্রহণযোগ্য নয়, সেটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবো। এটাই হওয়া উচিত তাই না?

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ সাদাত হোসেইনের ব্যক্তি জীবনের একটা ব্যর্থতার কথা শুনতে চাই?

সাদাত হোসাইনঃ আমি ব্যর্থতা বলতে যা বুঝি বা সফলতা সবই হচ্ছে আমার কাছে এক্সপেরিয়েন্স। অভিজ্ঞতা। ব্যর্থতা বা সফলতা কে সঙ্গায়িত করা খুব ডিফিকাল্ট। আমার অভিজ্ঞতা বলে, কোনো একটা পার্টিকুলার ব্যর্থতা হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী কোনো সময়ের সফলতার কারণ বা বীজ। আবার কোনো একটি সফলতা হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী কোনো সময়ের ব্যর্থতার সূচনা বা বীজ।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ সর্বশেষ প্রশ্ন, একজন সাদাত হোসাইন থেকে এক ডজন সাদাত হোসাইন তৈরি করতে আপনার কেমন ভুমিকা থাকবে?

সাদাত হোসাইনঃ আমার মতে, সবাইকে সাদাত হোসাইন হওয়ার দরকার নেই । যে যার মত, সে তার নিজেস্ব আইডেন্টি নিয়ে তৈরি হবে এইটাই। কেও কাউকে আসলে তৈরী করতে পারে না, নিজের চেষ্টা, নিজের সক্ষমতা, নিজের স্বপ্ন থাকতে হবে, কেও কারো মতো হতে পারে না মানুষকে তার সামর্থ্যের যায়গাটা ও তার দুর্বলতার যায়গাটা বুঝতে হবে। সাদাত হোসাইনই যে হইতে হবে বিষয়টা এরকম না। যার যে জায়গায়টায় স্বতস্ফুর্ত থাকবে এবং সক্ষমতা থাকবে সে সেই যায়গাটাই যাবে।

সাজেদুর আবেদীন শান্তঃ ধন্যবাদ আপনাকে ।

সাদাত হোসাইনঃ তোমাকেও ধন্যবাদ। ভালো থেকো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT