রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১০:০২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ তাহিরপুর হাওর পাড়ে বৃক্ষরোপণের স্থান পরিদর্শন করেন,ইউএনও ◈ সরকারি কাজে বাধা, যুবকের তিনমাস কারাদণ্ড ◈ গজারিয়ায় কম্বিং অভিযানে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২ টি বেহুন্দি জাল আটক করে -কোস্ট গার্ড ◈ বান্দরবানে সেনা জোনে ১১০ ব্রিগেড সিগন্যাল কোম্পানী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত ◈ শাহজাদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন অব্যাহত ◈ জুতা পরে কমলমতি শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে দেয় না প্রধান শিক্ষক ◈ রবিবা’র আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ পাকুন্দিয়ায় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ◈ ভূঞাপুরে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ◈ যশোরের শার্শায় ইজিবাইক চালককে হত্যা করে বাইক ছিনতাই

সঞ্চয় ও বিলাসিতা

প্রকাশিত : ১১:১৬ AM, ২৮ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার ৩৩৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সঞ্জিত চন্দ্র পণ্ডিত:
“দুনিয়াটা মস্ত বড় খাও দাও ফুর্তি করো আগামীকাল বাঁচবে কি না বলতে পারো” আশির দশকের জনপ্রিয় জনি সিনেমার এই গানটি কিশোর হৃদয়ের অনূভুতিকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছিল। অভিভাবকদের নানা নিয়মের বেড়াজালে থেকে নিজকে মুক্ত করার অদম্য বয়স ছিল তখন। আমাদের আগের প্রজন্মের একটি দিকনির্দেশনা ছিল সঞ্চয়ী মনোভাবাপন্ন হিসেবে আমাদের প্রজন্মকে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে আমরা বাঁশের চৌঙ্গা থেকে মাটির ব্যাংকে পয়সা জমাতাম। যারা আরেকটু অগ্রবর্তী ছিল তারা প্রাইজবন্ডের মাধ্যমে অর্থ সঞ্চয় করতো। সঞ্চয় হলো খারাপ সময়ের আর্থিক নিরাপত্তা।
হালের কিছু কার্যক্রম এই সঞ্চয় প্রবণতাকে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একদিকে মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করার জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিম অটোমেশনের নামে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সাধারণত নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত , অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীগণই মূলতঃ এই ধরণের সঞ্চয় স্কিমের সম্মানিত গ্রাহক। ব্যাংকিং ব্যবস্থার দীনতা এই শ্রেণীদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এই সকল স্কিমে বিনিয়োগে বাধ্য করেছে। সকলের সম্পদের সঠিক হিসাব থাকা এবং নিয়মাফিক কর দেয়া এই অটোমেশনের ইতিবাচক দিক কিন্তু সঞ্চয়ের সিলিং বেঁধে দেয়া ও ব্যাংক হিসেবে বাধ্যতামূলক লেনদেন করা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি কৌশল।
অটোমেশনের পূর্বে বিভিন্ন স্কিমে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা, একজন মহিলা বিনিয়োগকারী এক কোটি পয়ষট্টি লক্ষ টাকা, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা ও একজন মহিলা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী দুই কোটি পনের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে পারতেন। অনেক গ্রাহক রয়েছেন যাদের সর্বোচ্চ সীমায় বিনিয়োগ রয়েছে। আর নতুন ব্যবস্থায় একজন সর্বোচ্চ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির পর পঞ্চাশ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত টাকা তাদেরকে অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা আর হলমার্ক সহ নানা কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এই সকল গ্রাহককে বিলাসী জীবন যাপনে বাধ্য করবে। মার্কেটে মুদ্রার যোগান বেশী থাকবে। ফলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটবে।
সঞ্চয়ের এই ধরনের গ্রাহকের মূল চাহিদা হলো নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে মুনাফা অর্জন। এক্ষেত্রে সরকারকে বাজেটের একটা বড় অংশ মুনাফা দিতে হচ্ছে। সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিলে এর অর্ধেক খরচ হবে তাই সঞ্চয়ের সিলিং কমানো, কর বাড়ানো, টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, ব্যাংক হিসেবে অর্থ লেনদেনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে যাতে এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ কম হয়।
সময়ের দাবি অনুযায়ী সিস্টেম ডিজিটালাইজড হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু একটা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের মানুষের সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা অবশ্য কর্তব্য। জাপানের মতো দেশেরও মোট অর্থের ৮৭ ভাগই সঞ্চিত অর্থাৎ মাত্র ১৩ ভাগ বিনিয়োগকৃত। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঞ্চিত অর্থের বেশি মুনাফা প্রদান সব সময় এই শ্রেণীর মানুষ প্রত্যাশা করে না। সেক্ষেত্রে সিলিং অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তন করা যেতে পারে। প্রথম ৫০ লক্ষ পর্যন্ত বর্তমান রেট, পরের এক কোটি ব্যাংক রেটে মুনাফা প্রদান করলে জনগন আস্থার সাথে টেনশনবিহীন সঞ্চয়ে উৎসাহিত হতো। অন্যদিকে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ না নিয়ে এই উৎস থেকেই ঘাটতি বাজেট মেটাতে সক্ষম হতো। জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ২০২২-২৩ সালের দিকে তাদের অতিরিক্ত অর্থ মার্কেটে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
করোনার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেখানে আগামীকাল বেঁচে থাকতে পারবো কিনা জানিনা সেখানে এতোসব মনিটরি পলিসি, ফিসকেল পলিসি নিয়ে না ভেবে বরং আশির দশকের ওই গানের বাস্তবায়ন আমরা সবাই মনোনিবেশ করি।
(লেখক: ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল, ডাক অধিদপ্তর, ঢাকা-১০০০)

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT