রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:১৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ ◈ নেয়াখালীতে ছেলের পরিকল্পনাতেই মাকে পাঁচ টুকরো

সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত : ০৬:১৪ AM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Thursday ২০৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

উখিয়ায় আলোচিত এক মহাসমাবেশের পর আরও সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা। তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বা নেটওয়ার্ক এখন আরও শক্তিশালী। এক ক্যাম্পে কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে খবর চলে যাচ্ছে অন্য ক্যাম্পে। স্থানীয় কেউ তাদের কোনো অপকর্মের বিষয়ে কথা বললে সংঘবদ্ধ হয়ে চড়াও হচ্ছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয় বাসিন্দা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তোয়াক্কা করছে না তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এবং আশপাশ এলাকার প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন বলতে গেলে রোহিঙ্গাদের হাতেই। এসব এলাকায় রোহিঙ্গারা নিজেদের মতো করে একটি জগৎ সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সরেজমিন গত এক সপ্তাহ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছেও শোনা গেছে প্রায় অভিন্ন তথ্য।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভেতরে ভেতরে চলছে বাংলাদেশ সরকার ও আইনবিরোধী নানা কৌশলী প্রচারণা। দিন দিন ব্যাপক উগ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে রোহিঙ্গাদের আচরণে। স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরও অনেক সময় চড়াও হচ্ছে তারা। স্থানীয়দের যেন সহ্য করতেই পারছে না তারা।
রোহিঙ্গাদের চাপ-প্রভাব ও নানা ধরনের অত্যাচারে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন উখিয়া ও টেকনাফের অনেক বাসিন্দা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে উত্তেজনা ও উস্কানি ছড়াচ্ছে তারা। তাদের নেপথ্যে মদদ দিয়ে যাচ্ছে কতিপয় এনজিও এবং মিয়ানমারের একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, রোহিঙ্গাদের আচরণে আগের চেয়ে অনেক বেশি উগ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে। একশ্রেণির রোহিঙ্গা খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ইতোমধ্যে অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মাসদুয়েক আগে কুতুপাংলয়ের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই পুলিশ সদস্যকে কোনো বিষয়ে বাকবিতÐার জেরে আটকে রেখেছিল রোহিঙ্গারা। পরে খবর পেয়ে র‌্যাবের বেশকিছু সদস্য সেখানে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আনে। এছাড়া একবার র‌্যাব সদস্যদের একইভাবে আটকে রাখে বেশ কয়েকজন উগ্র রোহিঙ্গা। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এমন অনেক ঘটনাই ঘটে, যা বাইরে সেভাবে প্রকাশ পায় না। কারণ এখানে প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিদেশি কতিপয় এনজিও এসব রোহিঙ্গা বসতির সার্বিক বিষয় দেখভাল করছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল, তল্লাশি বা অভিযানকে ভালোভাবে নেয় না এসব এনজিও। আর সে সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তবে তাদের মাত্রাতিরিক্ত বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাÐের কারণে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রোহিঙ্গা বসতি এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।
টেকনাফের নয়াপাড়া শালবন এলাকার মুদি দোকানি রাসেল সময়ের আলোকে জানান, বর্তমানে রোহিঙ্গারা এখানে ভয়ঙ্কর-উগ্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কেউ কোনো বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঝগড়া করলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা করছে বা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তুলে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের আস্তানায় নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এমনকি নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও ঘটাচ্ছে তারা। সম্প্রতি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমরকেও একইভাবে হত্যা করে। তার দুই মাস আগে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী ইলিয়াসকে নয়াপাড়া বাজার থেকে দিনদুপুরে তুলে নিয়ে যায়। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান ইলিয়াস। একই মাসে নয়াপাড়া প্রধান সড়কে অটোরিকশায় হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তিন যুবককে রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধ হয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় অনেক লোকজন জড়ো হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ রকম আরও অনেক ঘটনাই এখানে ঘটছে।

স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধভাবে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্র-সরঞ্জাম মজুদের ধারণা পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়েন্দারা। এসব কিছুর নেপথ্যে এখন রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ ও রাখাইনের কিছু সংগঠন। তারা মিলেমিশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুকৌশলে নানা উস্কানি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দারা সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বৈধ-অবৈধ ব্যবসা, শ্রমবাজার, স্থানীয় পরিবহন (অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রিকশা) ব্যবস্থা, হাটবাজার, মার্কেটসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই দাপটের সঙ্গে বিচরণ করছে রোহিঙ্গারা। এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরেও কৌশলে তারা ইট-সিমেন্টের স্থাপনা ও দোকানপাট গড়ে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, কক্সবাজারের সব অপরাধের মূলেই ইয়াবা কারবার। আর এই ইয়াবার প্রচলন এসেছে রোহিঙ্গাদের হাত ধরে। রোহিঙ্গারা যখন প্রথম কক্সবাজারে ঠাঁই নেয় তারপর থেকেই মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাÐ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো টেকনাফ ও উখিয়ায় যেখানে সাড়ে ৪ লাখ স্থানীয় বাসিন্দা, সেখানে এখন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। প্রশাসনের পক্ষে এতসংখ্যক রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মাহবুবুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় একজন যুবলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহত যুবলীগ নেতা রোহিঙ্গাদের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের তথ্য দিয়েছিলেন বলেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের বেপরোয়া অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা না গেলে পরিস্থিতি এক সময় আরও ভয়াবহ হবে।

‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র সমন্বয়ক করিমউল্লাহ কলিম সময়ের আলোকে বলেন, এখানকার বর্তমানে প্রধান সমস্যা রোহিঙ্গা ও মাদক। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারবাসী প্রতিনিয়তই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সময় পার করছে। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা নানা সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারবঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভে ফুসছে। ফলে এ এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এটি রোহিঙ্গাদের ভেতর থেকেও হতে পারে, আবার স্থানীয়দের মধ্যে থেকেও হতে পারে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত দেরি হবে এ সমস্যা ততই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বাংলাদেশের আগামী দিনের এক নম্বর সমস্যা হতে পারে রোহিঙ্গা।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। যার বেশিরভাগই এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী কিছুদিনের মধ্যে। এ সময়ে মিয়ানমারে নিজ দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর গণহত্যা, বর্বরোচিত নির্যাতন ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক। মানবিক কারণে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও তারা এখানে ঠাঁই পেয়ে অনেকেই শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, খুন-ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাÐ। বর্তমানে একশ্রেণির রোহিঙ্গা অপরাধের অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT