রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৬ জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নোয়াখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ ◈ রাজারহাটে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ◈ রৌমারীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ। ◈ বেদে সম্প্রদায়সহ বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে,মধ্যনগর থানা পুলিশ ◈ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ডামুড্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ◈ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কালিহাতী থানা পুলিশের আতশবাজি প্রদর্শনী ◈ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে শেরপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ◈ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উপভোগ করেণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ◈ দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

শুভ্র ভালোবাসা || মনির মোহাম্মদ

প্রকাশিত : 12:42 PM, 19 June 2022 Sunday 51 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

শুভ্র ভালোবাসা
মনির মোহাম্মদ

আর যাই হোক, এইবার বেলি কেডস ছাড়া ঈদ হবে না। মন বেজায় খারাপ, ঈদের আগের দিন থেকেই মুখ ভোঁতা করে আছি। এই ভোঁতা মুখ সোজা করার একটিই উপায় বেলি কেডস লাগবে। শুধু বেলি কেডস দিলেই হবে না, জুতোর পেছনে বাতি লাগবে।

জুতো না এনে উপায় আছে লাল-নীল মখমলের প্যন্টের সাথে এই জুতো ছাড়া বন্ধু মহলে ইজ্জতের বারোটা বেজে যাবে। আম্মা নানা রকম ভাবে বুঝালো। আমি কী আর বুঝ নেওয়ার পাত্র! বন্ধু বান্ধবের কাছে একটি ইজ্জত আছে না? বড়তো আর কম হই নাই, কয়দিন পরেই ক্লাস ফাইভে বৃত্তি দিব। তার উপর স্কুলে প্রতি মঙ্গলবার সিভিল ড্রেস পড়ে যাওয়া যায়। লাল-নীল মখমলের সাথে সাদা বেলি কেডস, আহা আমারে আর পায় কে? টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তাও আবার সাদা-কালো ১৪ ইঞ্চি নিপ্পন টিভিতে।

মন আকাশে মেঘ গাঢ় হতে হতে একসময় জীবনের প্রথম এবং শেষবারের মত ভাত অনশনে বসলাম। সব খাওয়া যাবে শুধু ভাত খাওয়া যাবে না। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে এল আমি ভাত খাইনা। দাদু এলেন বিচারকের ভূমিকায়। এইবার যদি কিছু একটা হয়। বেলাশেষে সেই আশায়ও গুড়ে বালি। কালো ফিতা ওয়ালা বাটা কোম্পানির চপ্পল অলরেডি কেনা হয়ে গেছে। কী করা যায় আব্বার কপাল জুড়ে চিন্তার রেখা। ছেলে তাঁর ভাত খায় না। তখনকার সময় যোগাযোগ ব্যবস্থাও এত ভাল ছিল না। ব্রহ্মপুত্র নদের উপরে ব্রীজের কথা কল্পনাও করেনি তখন। কয়েক মাইল হেঁটে রিক্সা নিয়ে বাস স্টপেজ এ যেতে হয়। বাসও মাশাল্লাহ সেই গতিতে চলে, ৩০ কিলো যেতে তিন ঘন্টা লাগিয়ে দেয়। তার উপর ফেরি পাড় হয়ে সদরে আসতে হয়। অবশেষে দাদাজানের কথায় আব্বা সেই বিকালেই ময়মনসিংহ সদরে চলে গেলেন। সেদিন আর ফিরতে পারেননি।

ঈদের দিন সকাল বেলা আব্বা হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে ফিরলেন সাথে ছিল স্বপ্নের বেলি কেডস। কী আনন্দ! কাউকে বুঝানো যাবে না। মনে হচ্ছে নীল আসমানের বুক চিরে এক খন্ড সাদা মেঘ এনে আমার হাতে দিলেন। শুভ্র ভালোবাসায় মাখামাখি আমার কল্পনার পৃথিবী।

আব্বার ক্লান্তি জমানো মুখটি এখনও মনে আছে। আব্বা এখনও সেই গল্প করেন আর আমি অনুভব করি ক্লান্তিমাখা পিতার স্নেহ। আজ নিজে পিতা হয়ে সেটি আরও তীব্রভাবে অনুভব করছি। বাবারা আসলেই অন্যরকম।

লেখকঃ কথাসাহিত্যিক

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT