রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ সরকার বাজার শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রুপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান ও সম্পাদক সেলিম ◈ শেরপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলর মর্তুজার মতবিনিময় ◈ রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানুর তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ◈ নতুন দায়িত্বে নূরে আলম মামুন ◈ ভাষা সৈনিকের নাতি শুভ্র’র খুনীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা রেহাই পাবে না…..গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ◈ ২ টাকার খাবারের কার্যক্রম এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ◈ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘আলোর মিছিল’ এর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন ◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

শুদ্ধি অভিযান ঝড়ের ঝাপ্টা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে

প্রকাশিত : ০৬:৩৯ AM, ৪ অক্টোবর ২০১৯ Friday ২৪৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলেন। কাক্সিক্ষত পদপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অনেকে নানামুখী চেষ্টার পাশাপাশি অনুসারীদের নিয়ে শোডাউনও শুরু করেন। তবে চলমান শুদ্ধি অভিযান অনেকের জন্যই কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। পদোন্নতি নয়, অবস্থান টিকিয়ে রাখাই এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযান শুরুই হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ঘর থেকে। এ শুদ্ধি অভিযানের ঝড়ে সম্মেলনের আলোচনাই স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। গত বুধবার রাতে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে এ আলোচনা।

ডিসেম্বরের ২০-২১ তারিখ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ তারিখ ঘোষণা করা হয়। এর চার দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ রাজধানীর মতিঝিলে একটি ক্লাবে অভিযানে নামে র‌্যাব। গ্রেপ্তার হন যুবলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা। ফলে সম্মেলনের তোড়জোড় শুরু হতে না হতেই চুপসে যায়।

এর পর গত বুধবার রাতে গণভবনের দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে অনির্ধারিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক জানান, ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ এবং কৃষক লীগের সম্মেলন হবে। সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এ নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের সম্মেলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে দুর্নীতিবিরোধী চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, চলমান অভিযানের ছাপ প্রতিফলিত হবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনেও। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত নেতারা দলীয় পদ হারাবেন এসব সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। তাদের স্থলে অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা আসবেন নেতৃত্বে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, চলমান দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনসহ দলের সহযোগী সম্মেলনেও লক্ষ করা যাবে। যাদের নামে অভিযোগ উঠেছে তারা আগামী সম্মেলনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না।

একই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এসব সম্মেলনে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ও অপকর্মকারী কমিটিতে স্থান না পায় সে ব্যাপারে নেতাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

চলমান অভিযানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ অভিযান আরও চলবে। দলের নেতাদের সতর্ক করে তিনি বুধবার রাতের ওই বৈঠকে বলেন, আপনারা কাউকে বাঁচাতে কোনো তদবির করবেন না আমার কাছে। কে কাকে আশ্রয় দেন, সব খবর আছে আমার কাছে। গণভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন এ কথা বলছিলেন তখন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার মুখ শুকিয়ে গিয়েছিল।

রাজধানীতে ক্যাসিনো কাণ্ডে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নামে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা ক্যাসিনো খেলতে যেতেন, কারা ক্যাসিনো কারবারের ভাগ নিতেন তার একটি তালিকা সরকারপ্রধানের কাছেও জমা দিয়েছেন সরকারি একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া আসা করা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জানান, চলমান শুদ্ধি অভিযানের পর দলের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ই বদলে গেছে। অথচ জাতীয় সম্মেলনের আওয়াজ ওঠার পরপর এসব নেতার অনেকেই নেতাকর্মীর বিশাল শোডাউন নিয়ে পার্টি অফিসে ঢুকতেন। তাদের অনেকেই এখন অনেকটা চুপিসারে পার্টি অফিসে আসা যাওয়া করছেন। ওই নেতাদের পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আগামী সম্মেলনে তাদের পদোন্নতির দরকার নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান পদটা টিকে থাকা বা নিদেনপক্ষে ডিমোশন দিয়ে সদস্যপদটুকু থাকলেও চলবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রী। ক্যাসিনো কারবার থেকে শুরু করে সারাদেশের সরকারদলীয় প্রায় সব বিতর্কিত এমপি ও নেতার আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত তিনি। এর পাশাপাশি দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তিনজনই সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। ক্যাসিনোকাণ্ডে দুজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, আর আরেকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দায়ে দুদকে ফাইল প্রস্তুত হচ্ছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের দুজন বাদে বাকি ৬ জনের বিরুদ্ধেই দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ৬ জনের মধ্যে তিনজনের নামে সরাসরি পদবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। একজন আবার মূল দলের চেয়ে বেশি মনোযোগী একটি সহযোগী সংগঠন নিয়ন্ত্রণে। যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ভবনে টেন্ডারবাজি-দখলবাজি করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দলটির সম্পাদকম-লীর অনেক নেতার নামেই অর্থের বিনিময়ে উপ-কমিটিতে অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের কাছে পদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাদের সবার তথ্যই আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে রয়েছে। আগামী সম্মেলনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন না এই নেতারা। অনেকের মধ্যেই পদ হারানোর শঙ্কা বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সম্পাদক বলেন, দলের নেতারা যারা এতদিনে অনিয়ম, দুর্নীতি করেছেন তারা এখন ‘ইয়া নফসি’ ‘ইয়া নফসি’ করছেন। প্রধানমন্ত্রী কখন কাকে ধরেন সেই আতঙ্কে রয়েছেন এরা। বিশেষ করে প্রধামন্ত্রী যখন বলেছেন, অন্যায়কারীরা আমার পরিবারের সদস্য হলেও পার পাবেন না। এটাকে একটা বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে দলে। কারণ প্রধানমন্ত্রী এর আগে দলের অনেক প্রভাবশালী নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে উপদেষ্টা পরিষদে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ দিয়েছেন অনেককেই। তাই এবার দলেও বড় পরিবর্তন এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সম্মেলনে প্রস্তুত চার সহযোগী সংগঠন

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত চিঠিতে সব সহযোগী সংগঠনকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করতে বলা হয়েছে। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, যুবলীগের পরবর্তী জাতীয় কংগ্রেস হবে ৩০ নভেম্বর। এর আগে যে কোনো সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলন হবে।

কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা বলেন, ৯ অক্টোবর আমাদের সংগঠনের সভা হওয়ার কথা। সেখানেই সম্মেলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। প্রাথমিকভাবে ধরে নিচ্ছি নভেম্বরের শেষ দিকে সম্মেলন করে ফেলব।

শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনের জন্য আমরা ২০১৮ সালে নেত্রীর অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন কোনো রেসপন্স পাইনি। সম্মেলনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। নেত্রী যখন বলবেন তখনই আমরা সম্মেলন করব। আমরা এখনো তারিখ ঠিক করিনি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার বলেন, আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। নেত্রীর নির্দেশনা পেলেই তারিখ ঠিক করে ফেলব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT