রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধর্মপাশায় সুনই জলমহাল অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ◈ মাদক কারবারিদের বাড়ির সামনে ছবি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হবে—–ধামইরহাটে অপরাধ দমন সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ◈ মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের  বিরুদ্ধে পত্নীতলায় মানববন্ধন ◈ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সমাহিত হলেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতা দেওয়ান হালিমুজ্জামান ◈ ধামইরহাটে সড়ক ও জনপদের কাছে জনগণের অসন্তোষ-ক্ষোভ প্রকাশ ◈ কুড়িগ্রামে রাজাকার পূত্রের মনোনয়ন বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ◈ কালিহাতীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যডভোকেসি সভা ◈ মানিকগঞ্জে ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ◈ শ্রীনগরে মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিক্ষোভ মিছিল ◈ শ্রীনগরে বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১

শুদ্ধি অভিযান॥ ‍আতঙ্কে নেতারা

প্রকাশিত : ০৭:৪৩ AM, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Friday ২০৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আওয়ামী লীগে চাপা আতঙ্ক। নিজস্ব বলয়ে তাদের আলোচনার বিষয় কে আছেন তালিকায়, কতদূর চলবে এ অভিযান। টানা ক্ষমতায় থেকে যারা অবৈধ উপায়ে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থবিত্ত করেছেন। মাদক-জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে দুর্নীতি করেছেন এসব দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী-এমপি-শাসকদলের নেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অভিযানের বিষয়ে সরকারের দুয়েক জন কর্তাব্যক্তি ছাড়া কেউ কিছু জানেন না। এ জন্য আতঙ্ক আরও বেশি ভর করেছে দলের নেতাদের মধ্যে। তবে এর মধ্যেও আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের নেতারা চান, এ অভিযান যেন মুখ থুবড়ে না পড়ে। ভবিষ্যতে এসব অভিযুক্তদের যেন দলে পদায়ন না করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা অভিযুক্তদের এ তালিকায় শুধু যুবলীগ নেতারাই নন; সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতা, একাধিকবারের এমপিরা রয়েছেন। অভিযুক্তরা সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আছেন। হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তাদের প্রদীপের নিচ থেকে আলোর সামনে নিয়ে আসা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ তালিকায় আছেন, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্তত তিনজন নেতা (ক্যাসিনোর মদদদাতা), প্রথম সারির কেন্দ্রীয় দুই নেতা (সরকারি দায়িত্ব পালনে ভয়াবহ দুর্নীতি করেছেন), ক্যাসিনো সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা যিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নেওয়া সাবেক তিন মন্ত্রী আছেন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের তালিকায়। তাদের মধ্যে দুয়েক জন নিয়মিত দলের হয়ে বক্তব্য বিবৃতিও দিয়ে থাকেন। সাবেক দুই উপমন্ত্রীও আছেন এ তালিকায়Ñ যারা প্রভাব খাটিয়ে বিপুল বিত্ত বৈভব গড়ে তুলেছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজনও আছেন নজরদারিতে। বিশেষ করে ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার সময় যাদের ফোন করেছিলেন এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া রিমান্ডে যাদের নাম বলেছেন।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, রাজধানীর দুই এমপি ও একজন সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রামের দুজন, ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত দুবারের এক এমপি, ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার নির্বাচিত এক এমপি (জমি দখলদার), রাজশাহীর এক বিত্তশালী এমপি, নরসিংদীর গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এক এমপি, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ, জেলার একজন করে এমপি আছেন এ তালিকায়। কক্সবাজারের এক সাবেক এমপি অভিযানের হিট তালিকায় রয়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার তিনজন এমপির বিষয়ে সরকারপ্রধান খোঁজখবর রাখছেন। ওই জেলার একজন এমপির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই এমপি ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত। পাশাপাশি জেলার অপর এক এমপিকে অধিবেশন চলাকালে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা রসিকতার ছলে সতর্ক করেছিলেন। অপর সংসদ সদস্যের বিষয়ে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ একটি পদে রয়েছেন একজন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার অস্বাভাবিক মাত্রায় সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই বিভাগের ছয়টি আসনের একটি জেলার সদর আসনের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। যিনি ওই জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদের একটিতে রয়েছেন। বিগত সরকারের সময় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে, তাদের অনেকেই এখন নিরাপদ অবস্থান নিয়েছেন। খুব বেশি প্রকাশ্য হচ্ছেন না। কেউ কেউ নিজেদের পরিচিত বড় নেতাদের কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করছেন, এ অভিযান আসলেই কতটা সিরিয়াস। ঢাকার বাইরেও অভিযান চলবে কি না, এমন জিজ্ঞাসাও করছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। সবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শুধু ছাত্রলীগ বা যুবলীগের নেতারাই নজরদারিতে আছেন তা নয়, মূল দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপকর্মে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

গত সপ্তাহের বুধবার অনেকটা আকস্মিকভাবেই রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবে অভিযানে চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, মাদক, অস্ত্র ও নগদ টাকা। গ্রেফতার করা হয় ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পরে আলাদা অভিযানে গ্রেফতার হন কথিত যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ওরফে টেন্ডার শামীম ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ। মঙ্গলবার নগদ পাঁচ কোটি টাকা ও আট কেজি স্বর্ণসহ আটক করা হয় গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে। সারা দেশেও ডজনখানেক আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। র‌্যাব গত বুধবার আটক করেছে বিএনপি নেতা ও মোহমেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান ভূঁইয়াকে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি রাজধানী জুড়ে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত যুবলীগের অভিযুক্ত নেতাদের খোঁজা হচ্ছে। এ তালিকায় রয়েছেন মতিঝিলের আলোচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ, কাউন্সিলর আনিসুর রহমান, যুবলীগ নেতা মেহরাব হোসেন স্বপন, গাজী সারওয়ার হোসেন বাবু, খায়রুল, উজ্জল, জামান, মুরসালিন, মনির হোসেন, রানা, শাহাদাত হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান উদ্দিন জামাল, ইমরান, তসলিম, জসীম উদ্দিন ও এটিএম গোলাম কিবরিয়া। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।

ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত যুবলীগ উত্তরের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানও রয়েছেন আতঙ্কে। ক্যাসিনো থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ঢাকা মহানগরের ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতিও আছেন এ তালিকায়। এলিফ্যান্ট রোডের অ্যাজাক্স ক্লাব নিয়ন্ত্রণ হতো যুবলীগ নেতা আরমান, তছলিম ও খোরশেদের নেতৃত্বে।

যুবলীগের আরেক সমালোচিত নেতা আনিসুর রহমানকেও (কাজী আনিস) খোঁজা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দারা বলছেন, উত্তর যুবলীগের কয়েকজন নেতাও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত। গুলশানের যুবলীগ নেতা মো. আলমের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উত্তর যুবলীগ নেতা মো. ইসমাইল, মামুন সরকার, শ্রমিক লীগ নেতা কাজী জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উত্তরা ১ নম্বরের সেক্টরের পূবালী ব্যাংক, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর আহমেদ টাওয়ার, হোটেল সারিনা, সুইট ড্রিমস, উত্তরার অ্যাপেক্স, ৯ নম্বর সেক্টরের আকাশ প্লাজাসহ বেশ কিছু জায়গায় তারা ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর বসাত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT