রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:২২ অপরাহ্ণ

স্থানিয় সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

শাহরাস্তিতে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান

আতংকিত শিক্ষার্থী-অভিভাবক!

প্রকাশিত : ০৬:৩৩ AM, ৩ অক্টোবর ২০১৯ Thursday ৩৭৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

‘উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের’ পরিত্যক্ত ভবনের একাংশের খন্ড চিত্র।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।’ একশত বিশ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৯৯ সালে স্থানীয় দানবীর গোলাম রহমান এই বিদ্যালয়টি স্থাপনে প্রয়োজনীয় অর্থ ও জমি দান করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসাবে তার ছেলে মরহুম নূরুল হক দায়িত্ব পালন করেন। এবিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৫৫০ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছেন এবং কর্মরত শিক্ষক আছেন ২৭ জন। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রী সুখ রঞ্জন দাস।

ইংরেজ আমলে প্রতিষ্ঠিত এবিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পর হতে অদ্যাবধি এঅঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে এক গৌরব উজ্জল ভূমিকা। শাহরাস্তি উপজেলার প্রচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা জেএসসি এবং এসএসসি পরিক্ষায় অনেক ভালো ফলাফল করে এঅঞ্চলে মাথা উঁচু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ভবনের অভাবে এঅঞ্চলের প্রাচীনতম এ প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানসহ দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে ৩টি ভবন রয়েছে।তন্মেধ্যে একটি ৩ তলা ও একতলা ২টি ভবন রয়েছে। ইতিপূর্বে ভবন তিনটির দুইটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার কারনে শিক্ষকগন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ভবনে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করছেন। যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের এই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসেপড়ে প্রাণহানিরমত ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে মনে করেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকগন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবন দুইটির একটি ভবনের দুইটি কক্ষে ২জন শিক্ষক ক্লাস গ্রহন করছেন। অন্য ভবনে রয়েছে প্রধান শিক্ষকের অফিস ও সহকারি শিক্ষকদের কমন রুম। উক্ত ভবন দুইটির পিলার, দেয়াল, ছাদের আস্তর ধসে পড়েছে এবং আংশিক বিধ্বস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে থাকা ভবন দু্ইটি ব্যবহার করারমত অবস্থা হারিয়েছে বেশ ক’বছর আগে। বৃষ্টির সময় ভবনের ছাদ বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। ভেসে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষের পুরো মেঝ।দেয়ালগুলো সেঁতসেঁতে অবস্থায় ফেঁটে ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে আছে যা স্পষ্ট বুঝা যায়। যেকোন সময় ভবন ধসেপড়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ভয়ে শিক্ষকগন অফিস কক্ষে বসতে চান না। শিক্ষকগন এড়িয়ে চলেন ভবন দুইটি। বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর প্রান্তে থাকা ৩ তলা ভবনটি নির্মাণ কাজে ত্রুটি থাকার কারনে পিলারগুলি ভেঙ্গে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এভবনটির ত্রুটি মেরামতের কাজ করা হবে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী সুখ রঞ্জন দাস। তিনি বলেন, আমার এই প্রতিষ্ঠানে পনের’শর বেশি শিক্ষার্থী। এদেরকে শ্রেণিকক্ষে বসার জায়গা দিতে পারছিনা। আমার বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষের অভাব দূর করতে আমি চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের মাননীয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এপ্রসংগে তিনি আরো বলেন, আমরা গর্বের সাথে আমাদের বর্তমান শিক্ষাবান্ধব শেখ হাসিনার সরকারের শিক্ষার বিষয়ে গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ স্বীকার করছি। আমরা আশা করি, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ১২০ বছরের পুরানো এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের সমস্যার সমাধানের বিষয়টি সহানুভুতির সাথে বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন বরাদ্দ দিবেন।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, শাহরাস্তি উপজেলার সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ এটি। শ্রেণিকক্ষের অভাবে অগত্যা ভবন ধসের আতঙ্ক নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকগন। এহেন দূরাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্থানিয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি ডিও লেটার প্রদান করেন। তিনি দাবিযুক্ত কন্ঠে বলেন, দেড় হাজারোর্ধ শিক্ষার্থীর পাঠদানে আমরা এক দিকে হিমশিম খাচ্ছি অন্যদিকে ক্লাস চলাকালীন সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি কখন কি ঘটে যায়।

এবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা এই পরিত্যক্ত ভবনের শ্রেণি কক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস করি। বৃষ্টি হলেই ছাদের ফাটল বেয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে আর তখন আমরা আতংকে থাকি। কখন কি হয়ে যায়! এই বিদ্যালয়টি আমাদের প্রাণের। তাই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্থানিয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও চাঁদপুরের বাসিন্দা শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকগন বলেন, আশপাশের ১৭টি গ্রামের ছেলে-মেয়ে এই বিদ্যালয়ে তাদের মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহন করে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপেক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। প্রয়োজনীয় ভবনগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় আমাদের সন্তানদের ওই ভবনেই ক্লাস করতে হয়। যা প্রতিটি মূহুর্তেই জেগে থাকে আতংক। আমাদের সন্তানদের ক্ষয়-ক্ষতি হলে কে নেবে এর দায়-দায়িত্ব? উপজেলার প্রাচীনতম সেরা এই বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত উন্নতি থেকে পিছিয়ে থাকায় তারা দুঃখ প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানিয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT