রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:৪৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

লোকান্তরিত বাবাকে নিয়ে আবিদ আজমের ভাবনা

প্রকাশিত : ০৩:৪৪ PM, ২০ জুন ২০২১ রবিবার ১৯৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

তরুণ কবি, ছড়াকার, সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী আবিদ আজম তার পরমাত্মীয় বাবাকে হারান ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। বাবার স্মৃতিকে আঁকড়ে নিজের টাইমলাইনে লিখেন তার ভাবনার কিছুটা। পাঠকের জন্য লেখা প্রকাশ করা হলো-

 

আমার বাবা হারিয়ে গেছে দূর আকাশের নীলে,
রাত্রি এলে তাইতো খুঁজি তারাদের মিছিলে…”
আবিদ আজম

 

কোন এক মঙ্গলবারের অমঙ্গগল রাতে হৃৎপিন্ডের অসুখে লোকান্তরিত হয়েছেন আমার জনক। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে তাঁর গৌরবজনক তিরোধনের পর বিবেকের আদালতে নিজেকে বারবার আমি আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাই…

শয়নে এবং জাগরনে প্রতিমূহুর্তেই আমি শুনি বিচারকের দ্বায়িত্বশীল ধ্বনি, অর্ডার অর্ডার… বলুন, আপনার সুস্থ্য পিতার হৃদযন্ত্রে কী কারণে এমন জীবনঘাতি অসুখ বাসা বেঁধে ছিলো,যা তাঁকে মাটির খাদ্যে পরিনত করলো ?

প্রশ্ন শুনে রিক্ত-শূণ্য আমি উপরে তাঁকিয়ে দেখি মেঘাচ্ছন্ন এক আকাশ,মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল কয়েকটি পাখি মনের অবচেতনে সমগ্র পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে জবার খুঁজে না পেয়ে জগতের প্রতিপালকের কাছে আকুল আশ্রয় চাইলাম…

ঠিক তখনই জবান খুলে গেল আমার…

মাননীয় আদালত, আমিও পরম বিস্ময় নিয়ে ভাবি, আমার দরবেশ বাবার হৃৎপিন্ডে কী এমন অসুখ বাসা বেঁধেছিলো, তাঁর কম্পিত হৃৎপিন্ড সর্বদা কি আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে থাকতো,হাশরের মাঠে ডান হাতে আমলনামা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতেন?নাকি জীবন-জীবিকার সংস্থানকল্পের তাগিদে তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রবল পরিশ্রান্ত?

দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জাগতিক যন্ত্রণা পোহাচ্ছিলেন খুব? নিজের বেহেস্তবাসী পিতা-মাতাকে অনেক মিস করতেন? অসুস্থতার পরে নিজের প্রতি যথাযথ যত্ন হয় নি বলে তাঁর মন আর্তনাদ করে উঠতো? আব্বা কি ‘মনদূরত্বে থাকা’অধম পুত্রের ভবিষ্যত চিন্তা করে হতাশায় ভুগতেন, অসুস্থ শরীরে তাবলীগ জামায়াতে দূর-দূরান্তে যেতে না দেয়ায় আফসোস? দূরে বিয়ে হওয়া কন্যার জন্য কোন বেদনা? নাকি বিয়ে হবার পর প্রিয় ছোটকন্যার উপস্থিতির অভাববোধ? ছোট ছেলের জন্য টেনশন? না পরম পূণ্যবতী প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি কোন গোপন অভিমান? পরিজন, আত্মীয় স্বজনদের প্রতি কোন বিরক্তি? নাকি জীবনের পড়ন্ত বেলায় যথাযথ খোঁজ না রাখার কারণে সন্তানতুল্য ভাই-ভাবিদের প্রতি কোন অভিযোগ?

গ্রামে বেদখল হয়ে যাওয়া জমি-জিরোতের জন্য আফসোস? আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, মাননীয় আদালত, হাসপাতালের বেডে শুয়ে আব্বা আসলে নিজের হাতে লাগানো কতগুলো বৃক্ষের কথা ভেবে অশ্রু ঝড়াতেন, ভাবতেন গ্রামের বাড়ি, ক্ষেত-খামার আর সেই নদীটির কথা, যেখানে শৈশবে পীর বাবার সাথে তিনি গোসল করতেন।

রাষ্ট্র-দেশ-সমাজ ভাবনা তাঁকে পেরেশান করে তুলেছিলো? নাকি বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন? নিপীড়িত মানবতা, নির্যাতিত মুসলমান কিংবা রোহিঙ্গাদের ভাগ্য নিয়ে তিনি বিপন্নবোধ করতেন?

কিশোর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা বাছাই পর্বে বাদ পড়ে যাবার জন্য কোন বেদনাবোধ করতেন? নাকি স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে না পেরে সে দুর্ভাগ্য মেনে নিয়েছিলেন?

মাননীয় আদালত, আমার মনে হয় হাসপাতালে বসে বাসার বারান্দায় বেড়াতে আসা কয়েকটা নাম না জানা পাখির কথা ভাবতেন, যাদের তিনি নিজ হাতে খাবার দিতেন। কিংবা মায়ের রান্না করা সুস্বাদু খাবারে মুখ দেওয়া হঠাৎ অতিথির মতো জুড়ে আসা ওই দুটো বিড়ালের কথা ভাবতেন,যাদের সমাদর করতে তাগিদ দিয়ে বলতেন,নবীজি পশু-পাখি ও বিড়াল ভালবাসতেন…

আব্বা কি অসুস্থতার সময় নফল-তাহাজ্জুদের নামাজ মিস হবার করাণে মনঃপীড়ায় ভুগতেন? নাকি ঔড়ষজাত সন্তানদের ফযরের নামাজ কাযা হবার কারণে পিতা হিসেবে হাশরের মাঠে আল্লাহর জিজ্ঞাসার কথা ভেবে ভয় পেতেন? পরে নিজের পাপ-পূণ্যের হিসাব মেলাতে মেলাতে যেই আধ্যাত্মিক পুরুষ জায়নামাজে দাঁড়াতেন…

ক্ষমা করবেন মাননীয় আদালত, আমার ধারনা কষ্টের হাজারো কবিতা মনের ভেতর লিখতে লিখতে তাঁর হৃদপিন্ড হয়ে উঠেছিলো, কালো বর্ণের একটি ক্রন্দনরত গোলাপ, যা তাঁকে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে করতে জান্নাতুল ফেরদৌসের দিকে একপা-দু পা করে এগিয়ে নিয়ে গেছে…

 

লেখক : কবি, ছড়াকার ও গণমাধ্যমকর্মী

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT