রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৪৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইভাই নিহত ◈ রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক এর অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন কারিগরি শিক্ষার ফেরিওয়ালা তৌহিদ ◈ নাটোরে সুগার মিল শ্রমিকদের কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান ◈ নওগাঁয় সাংবাদিক পাভেলের পিতার রুহের মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল ◈ ধামইরহাটে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে পূনর্বাসন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ◈ নাটোরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ জন জেল হাজতে ◈ পরিসংখ্যানের প্রয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে: রাষ্ট্রপতি ◈ করোনায় প্রধানমন্ত্রী সকল সেক্টরকেই সহায়তা করছেন: তোফায়েল ◈ দেশে করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু ◈ রোহিঙ্গা নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডস দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: স্টেফ ব্লক

লাভের ওপর লাভ করছে তারা

প্রকাশিত : ০৫:২২ AM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Tuesday ২৬৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দু’দফা হাত বদল হতেই দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম। মিয়ানমার থেকে ৩৫ টাকায় কেনা পেঁয়াজ চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে এনে ৩৫ টাকার পেঁয়াজ আমদানিকারক বিক্রি করছেন ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায়। আবার পাইকারি মোকাম থেকে খুচরা বাজারে যেতে একই পেঁয়াজের দাম আরেক দফা বেড়ে হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। পরিবহন এবং উঠানো-নামানো বাবদ তিন টাকা খরচ বাদ দিলেও প্রতি কেজি পেঁয়াজে শুধু আমদানিকারক লাভ করছেন ২০ টাকা। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় মিয়ানমারের নিম্নমানের পেঁয়াজেও হচ্ছে এত বেশি মুনাফা। দায়িত্বশীলদের কোনো মনিটর না থাকাতেই পেঁয়াজের ঝাঁজ ‘লাভের মধু’ হয়ে ঢুকছে ব্যবসায়ীদের পকেটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে গত ১০ দিনে মিয়ানমারের প্রায় ৭০০ টন পেঁয়াজ এসেছে।

একেক ব্যবসায়ী একেক দামে আনলেও এসব পেঁয়াজের টনপ্রতি গড় দাম ছিল ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৩৬ হাজার টাকা। মিয়ানমারের সরবরাহকারীরা এই দামে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে টেকনাফ স্থলবন্দর পর্যন্ত। ১৩ টন পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আসতে ভাড়া নিচ্ছে ১৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পরিবহনে খরচ হয় ১ টাকা ৩০ পয়সা। ট্রলার থেকে পণ্য ট্রাকে ওঠানো এবং ট্রাক থেকে নামানো বাবদ কেজিতে আরও ১ টাকা লেবার চার্জ যুক্ত করলে খরচ দাঁড়ায় মোট দুই টাকা ৩০ পয়সা। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতিকেজিতে ১ টাকা ডেমারেজ চার্জ যুক্ত করলেও এ খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন টাকা ৩০ পয়সা। এসব খরচ হিসাবে এনে প্রতি কেজিতে আমদানিকারক ৫ টাকা লাভ করলেও পাইকারি মোকামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। কারণ খাতুনগঞ্জে যারা পেঁয়াজের ব্যবসা করছেন তারা কেজিতে ৫০ পয়সা কমিশন নেন। কিন্তু আমদানিকারক পাইকারিতে ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করায় তা খুচরা বাজারে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। হাতবদলে এভাবে দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় মিয়ানমারের পেঁয়াজও আর কম দামে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণকারী সংস্থা ক্যাব মনে করছে, পেঁয়াজ কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেভাবে কাজ করেনি। তাই মিয়ানমারের পেঁয়াজও মাত্রাতিরিক্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। জানতে চাইলে ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ার সুযোগে কম দামে কেনা মিয়ানমারের পেঁয়াজও মাত্রাতিরিক্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ী যোগসাজশ করে দ্বিগুণ দামে পণ্য বিক্রি করছে। যথাযথভাবে মনিটর করা হলে এ অন্যায় করার সাহস পেত না কেউই। চিন্তা করতে পারত না ভোক্তার পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা করারও।’ পূজার বন্ধের আগে পেঁয়াজের বাজারে মনিটরিং জোরদার করা না হলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি মোকাম হচ্ছে হামিদ উল্লাহ মিয়া মার্কেট। এ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া সমকালকে বলেন, ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে দর বেশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ভারত সরকার পেঁয়াজের নূ্যনতম রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে। আগে যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি করা যেত তা ৮৫০ ডলারে ওঠায় দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে। কিন্তু মিয়ানমারের পেঁয়াজ টনপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ ডলারে কিনতে পেরেছে আমদানিকারকরা। এ কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের তুলনায় মিয়ানমারের পেঁয়াজ অর্ধেক দামে বিক্রি হওয়ার কথা। গত ১০ দিনে খাতুনগঞ্জে আসা মিয়ানমারের পেঁয়াজও ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায় কিনতে হয়েছে আমাদের। ১০ থেকে ১২ টাকা বাড়তি যোগ হয়ে খুচরা বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়। নূ্যনতম লাভ করা হলে পাইকারিতে এটি ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা ও খুচরাতে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ দিনে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এককভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ এনেছেন এমএইচ ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ হাশেম। টেকনাফের এ ব্যবসায়ী একাই প্রায় ৪০০ টন পেঁয়াজ এনেছেন বলে স্বীকার করেছেন সমকালের কাছেও। তার আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রতিকেজির দাম পড়েছে গড়ে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। কিন্তু ঢাকার পাইকারি মোকামে তিনি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৫৫ টাকার বেশি দামে। এখনও প্রায় ২০০ টন পেঁয়াজ পাইপলাইনে আছে এ ব্যবসায়ীর। পূজার আগে সুবিধাজনক সময়েই তিনি এসব পেঁয়াজ আনবেন দেশে। পাইপলাইনে আরও প্রায় ১৫০ টন পেঁয়াজ আছে জিন্নাত ব্রাদার্সের মালিক শওকত আলীর। এর বাইরে প্রায় ৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি।

সর্বোচ্চ পেঁয়াজ আমদানির কথা স্বীকার করলেও অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগ অস্বীকার করে এমএইচ ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, ‘দেশে আনা ৪০০ টন পেঁয়াজের ক্রয় মূল্য ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যে ছিল। পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দামে আরও অন্তত ১০ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ডেমারেজ হিসাব করেই পণ্য বিক্রি করেছি আমি। অতিরিক্ত মুনাফা আমরা করছি না। করছে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।’ আরেক আমদানিকারক শওকত আলী বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করেছে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিকারকরা। আমরা মিয়ানমারের পেঁয়াজ আনাতে তাদের একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।’ মিয়ামনারের পেঁয়াজ ভারতের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের দর যে হারে চলছে আমাকে তার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সব পেঁয়াজের দাম বাড়তি ছিল বলে আমরাও বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি।’

গত ১০ দিনে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৭০০ টনের মতো পেঁয়াজ এসেছে বলে জানান টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পেঁয়াজ গুণগতমানের দিক থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের নিচে। স্বাভাবিকভাবে এটির দামও অনেক কম হওয়ার কথা। মিয়ানমারে ৩২ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম। পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করলে দেশে এই পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে।’

প্রসঙ্গত শুক্রবার খাতুনগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ দামে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও গতকাল সোমবার ভারতীয় পেঁয়াজ আগের চেয়ে কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা কমে ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম এখনও প্রায় অপরিবর্তিত আছে। এখনও ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ পেঁয়াজ। হালিশহরের ফইল্লাতলী খুচরা বাজারে এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT