রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:৪৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ শাহজাদপুরে ইরি-বোরো রোপন শুরু, শৈত্যপ্রবাহের কারনে চিন্তিত কৃষক ◈ কলমাকান্দায় ডাকঘরের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ ◈ সীতাকুণ্ডে ২ ডাকাত আটক গণধোলাই ডাকাত নিহত ◈ লালমোহনে এশিয়ান টেলিভিশনের বর্ষপূর্তি পালিত ◈ শাহজাদপুরে শীতার্তদের পাশে আলোকবর্তিকা হাতে স্কুল শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু ◈ মৌলভীবাজারে নবগঠিত ছাত্রদের ১৯টি ইউনিট কমিটি ৪৮ঘন্টার মধ্যে বাতিলের আল্টিমেটাম ◈ ইউপি নির্বাচন কে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা ◈ বিগত দিনে পাশে ছিলেন বর্তমানেও জনগণের পাশে থাকতে চান সফল কাউন্সিলর মোঃহাবিবুল্লাহ ◈ জিনদপুরে মানব কল্যান সংস্থার আয়োজনে ব্যাডবিন্টন খেলার ফাইনাল অনুষ্ঠিত

লাপাত্তা ক্ষমতাসীন দলের দুই শতাধিক নেতা!

প্রকাশিত : ০৬:৫০ AM, ২ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার ২৮২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ করেই ক্যাসিনো-মদ ও জুয়ার আসরসহ অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। ইতোমধ্যে অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজির বদৌলতে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়া বেশ কয়েকজন সরকারি দলের নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন এসব অপকর্মের মূলহোতা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

গত সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে এমন দুই শতাধিক নেতার হদিস মিলছে না। পরিবার-পরিজন ফেলে ওই নেতারা কোথায় আছেন, তার সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারছেন না। এর মধ্যে ৫০ জনের মতো দেশ ছেড়েছেন, বাকিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর ফুটপাত, বাসস্ট্যন্ড, নৌ ও রেলপথের টার্মিনাল, শিক্ষা অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন আ.লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতারা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জায়গা দখল, বাড়ি দখল, নদী দখল, ক্লাব পরিচালনার নামে ক্যাসিনো ব্যবসা খুলে বসেন ওই নেতারাই।

এসব অপকর্মের হোতাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে লাইসেন্স করাসহ অবৈধ অস্ত্র। আ.লীগের শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় সাংসদদের কমিশন দিয়ে অন্তত আট বছর ধরে আধিপত্য চালাচ্ছেন তারা। তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আ.লীগের অনেক নেতাকর্মীই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রমাণও মিলেছে। সরকারি দপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রণসহ একশ্রেণির নেতা সারা দেশে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। যা নিয়ে আ.লীগের সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে দলের শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর তৎপর হয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্পোর্টস ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করে বিপুল অবৈধ অর্থ উপার্জনসহ বদলে যাওয়া যুবলীগ, কৃষক লীগের একাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নামধারী নেতা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য শফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন।

রাজধানীতে আধিপত্য বিস্তারে শীর্ষে রয়েছে যুবলীগ। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে যুবদলের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো প্রথমেই আয়ত্তে নেয় যুবলীগ। এরপর সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে যুবলীগের আয়ত্ত। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি মানে রাতারাতি বিত্তশালী বনে যাওয়া। গোটা এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন যুব সংগঠনটির নেতারা।

দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ পাঁচ নেতা ও সাবেক এক নেতার ক্ষমতার বদৌলতে মূলত ওয়ার্ড পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় নেতারা। ইউনিটটির সভাপতির ছত্রছায়ায় একাধিক মার্কেট ও বাড়ি দখল করার ঘটনাও ঘটেছে। রাত হলেই ওই নেতাদের ছত্রছাত্রায় মাদক ব্যবসাসহ ক্লাবের নামে চলে জুয়ার আসর। এসব অপকর্মের মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত দেড়শ কোটি টাকা অবৈধ আয় হয়, যার বিরাট অংশ পান নিয়ন্ত্রক নেতারা।

রাজধানীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্যাসিনোর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে জুয়ার ক্লাব। রাত হলেই এসব ক্লাবগুলোতে জুয়ারিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ক্লাবপরিচালনায় আনা হয়ে থাকে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিজ্ঞ জুয়ারিসহ সুন্দরী নারী। সুন্দরী নারী ক্লাবগুলোতে আগত জুয়ারিদের আলাদা আনন্দের খোরাক জোগায়। শুধু ক্লাব নয়, বাসা-বাড়িতেও নিয়মিত জুয়ার আসর বসানো হয়। ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় প্রশাসন মাসোয়ারার বিনিময়ে এসব অপকর্মে সায় দেয়।

সরকার প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর লাপাত্তা রাজধানীর চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও হাইব্রিডরা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাজধানীর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এর মধ্যে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি পরিচালনা করতেন ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক। এই ক্লাবে নিয়মিত ক্যাসিনো, জুয়া, মাদকের আসর বসত। সবকটি ক্লাব পরিচালনার মূলহোতা হিসেবে যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নাম উঠে এসেছে। ক্লাবগুলোতে সম্রাটের বিশাল আকৃতির ছবি ঝোলানো থাকতো।

সম্রাটের হয়ে ক্যাসিনো সাঈদ, খালেদ, আরমান, খোরশেদ, লোকমানরা ক্লাব পরিচালনা করে আসছে। যুবলীগ নেতা সম্রাটের অন্যতম সহযোগী ৯নং ওয়ার্ড কমিশনার ও যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ মতিঝিল, দিলকুশা, আরামবাগ ও ফকিরাপুলের ক্লাবপাড়ার অভিযান শুরুর পর থেকে লাপাত্তা। তিনি দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।

এছাড়া সম্রাট ও সাঈদের হয়ে মাঠপর্যায়ে ক্লাবগুলোসহ ফুটপাত দেখভালের দায়িত্বে থাকা যুবলীগ নেতা ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাসান উদ্দিন জামাল, কামরুল হাসান রিপন, ছোট হাসান, জাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন স্বপন, সরোয়ার হোসেন মনা, জসীম উদ্দিন, মনির, খায়রুল, রানা, আব্দুল মান্নানকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

এছাড়া রাজধানীর একাধিক ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযুক্ত যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার বাবু, মোরসালিনও গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রথম কয়েকদিন সম্রাটের কাকরাইল অফিসে তাদের দেখা মিললেও গত চার দিন ধরে তারও হদিস নেই। গ্রেপ্তার হওয়া জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ চৌধুরী কমিশন নিয়ে এসব অপকর্মের মদদ জোগাতেন এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা দিয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা প্রায় সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যার মধ্যে আ.লীগ, যুবলীগসহ প্রশাসনের ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ফকিরাপুলে অবস্থিত ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব সিলগালা করেছে র্যাব। ওই ক্লাবের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাড. আবু কাউসার মোল্যা। যুবলীগ দক্ষিণের নেতা ও স্থানীয় কমিশনার মমিনুল হক সাঈদ ক্লাবটি পরিচালনা করতেন।

এরপর ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সফরসঙ্গী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে অ্যাড. আবু কাউসার মোল্যাকে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় এক সহ-সভাপতি, দুইজন সাংগঠনিক, দপ্তর সম্পাদক এবং দক্ষিণ মহানগরের সম্পাদকসহ দুই সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজিসহ অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

মতিঝিল, গুলিস্তান, নবাবপুর এলাকায় সম্রাটের শিষ্য চিহ্নিত চাঁদাবাজ আরমান, খোরশেদ, ২০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোয়াখালীর শহীদুল ইসলাম খোকন, সহ-সভাপতি দুলাল, উজ্জল মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের নিয়ন্ত্রক সম্রাটের চাচা দাবিদার আলী আহমদ এবং তার দুই সহযোগী শফিক ও তৌহিদও এলাকা ছাড়া।

আলী আহাম্মদ আটটির মতো বিয়ে করেছেন, তিনটি বাড়ি রয়েছে তার। গত সপ্তাহ থেকে তারা ওই এলাকায় আসেন না। নবাবপুর, সিদ্দিকবাজারে হাকিম, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সামনের বস্তির মাদক সম্রাট গিয়াস উদ্দিন ঘেষু ও মনির। এ দুজনই বিএনপির সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমের সহযোগী ছিলেন। গত দুদিন তাদের কাউকেই গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায়নি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় এলাকার নিয়ন্ত্রক স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবু। মীরহাজির বাগের সিড মার্কেট থেকে মাসে চাঁদা নেন পাঁচ লাখ টাকা। ১১নং ওয়ার্ড আ.লীগের কার্যালয়ের পাশেই তার মদদে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর। ৫৩নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে গোটা এলাকার সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে চলে চাঁদা উত্তোলন।

শীর্ষ সন্ত্রাসী কচির নামে ৪৭নং ওয়ার্ড পোস্তগোলা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন চিশতী। ওই এলাকা থেকে মাসে চাঁদা আদায় হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। ৫৪নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আলমগীরের ছত্রছায়ায় শ্যামপুর থানার পাশে নিয়মিত চলে জুয়ার আসর। এরা সবাই এলাকায় থাকলেও প্রকাশ্যে আসছেন না।

রাজধানীর মুগদা-মান্ডা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম। মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকাদারিসহ সব ধরনের কাজের কমিশন নেন তিনি। এছাড়া ওই এলাকায় যুবলীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম ও মুগদা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদের নেতৃত্বে ফুটপাতের চাঁদা আদায়সহ একাধিক স্থানে জুয়ার আসর বসে।

এরা দুজনেই সম্রাটের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বাসাবো, গোড়ান, নন্দীপাড়া এলাকার স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, জায়গা দখল, টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। গোড়ান আদর্শ স্কুলের কাছে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণসহ বনশ্রীর প্রজেক্টের ভেতরেও একাধিক জমি দখল ও বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের পর কাউন্সিলর আনিস ও সহযোগীরা প্রকাশ্যে আসেন না।

খিলগাঁও এলাকার ত্রাস ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল ও তার ভাই খিলগাঁও গার্লস স্কুলের সভাপতি জুয়েল। চাঁদাবাজিসহ অবৈধ অর্থে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিপুল অর্থ কামিয়েছেন। অভিযান শুরুর পর থেকেই এলাকা ছাড়া।

মালিবাগ এলাকার আতঙ্ক টোকাই মনিরও এলাকা ছেড়েছেন। ৯০ দশক থেকে মালিবাগ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে টোকাই মনির। একসময় মির্জা আব্বাসের ক্যাডার হিসেবে যুবদলের রাজনীতি করতেন। সময়ের বদলে তিনি এখন থানা আ.লীগের নেতা। সেও এখন এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানও লাপাত্তা গত রোববার থেকে। অভিযান শুরু পর সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঢাকা উত্তর যুবলীগের কর্মসূচিতে তাদের দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাকে আর কোথাও দেখা যায়নি। তার নাম আলোচনায় আসার পর দেশ ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশেষ ব্যক্তির ছত্রছায়ায় পিয়ন থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্পাদক হয়েছেন। এরপর ওই নেতার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছে গোয়েন্দারা।

এছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কাজল, গুলশানের যুবলীগ নেতা শান্ত, মহাখালী-বনানী এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেন উত্তর যুবলীগের সহ-সভাপতি আক্তার, বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মাসুদ, তার সহযোগী নুরু, যুবলীগ নেতা মফু জুয়েল, নাসির উদ্দিন ও মিলন গা ঢাকা দিয়েছেন।

ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাচাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সারা দেশে এসব অপকর্মের সাথে জড়িত সহস্রাধিক শীর্ষ কর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশ ২০০৮ সাল পরবর্তী সময়ে আ.লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেছেন।শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও মাদকের চক্রকে ভেঙে না দেয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। যে-ই অপরাধ করুক না কেন, ছাড় দেয়া হবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT