রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ মে ২০২১, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১২:১১ পূর্বাহ্ণ

লবণ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কক্সবাজারের চাষীরা

প্রকাশিত : ০৫:৩৪ PM, ২০ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার ১৬৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

উৎপাদন খরচের বিপরীতে লবণের মূল্য অনেক কম হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফসহ পুরো জেলায় হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ এখনো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মালিকরা এসব লবণ মাঠের আশে পাশে মজুদ করে রেখেছেন।

গত ২ মৌমুসের লবণও এখনো অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দু,পাশে অবিক্রিত লবণ মওজুদ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) সুত্র জানায়, গত মৌসুমে কক্সবাজারে ১৮ লক্ষ ২৪হাজার মেট্টিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। বিক্রির পর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সাড়ে ৪ লাখ মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত আছে। লবণ নিয়ে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা লবণ চাষে আগ্রহ হারাতে বসেছেন। কমমূল্যের কারণে হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ সেখানে অবিক্রিত অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের মূল্য ১শ ৯০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি কেজি ৫ টাকার কম। প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ২শ টাকা।

টেকনাফের লবণ ব্যবসায়ী আব্দুল গাফফার ও আব্দুস ছালাম কালু জানান,উৎপাদনের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় বিগত মৌসুমের ১৫ টন লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। খরচ না পোষালে কিভাবে লবণ ব্যবস্যা করব? প্রতি বছর লোকসান দিয়ে এভাবে ব্যবসা করা যায় না।

হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোছাইন মুহাম্মদ আনিম জানান,ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় গত মৌসুমে লবণ জমিয়ে বড় ধরণের ভূল করেছি। লবণ চাষ করে বর্তমানে লাখ লাখ টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।

হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছাবের খাঁন জানান, শুধু হ্নীলাতেই ১৫ হাজার মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে বিধায় ওই লবণ এখনো জমা রেখেছেন। পরবর্তী মৌসুম চলে আসার সময় হলেও ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি লবণের ন্যায্য মূল্য বৃদ্ধির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিসিক টেকনাফের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে লাভ নেই। মূল্য কম হওয়ায় টেকনাফেও ১৫ হাজার মেঃ টন লবণ অবিক্রিত আছে।

বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ছৈয়দ আহমদ জানান, বিশেষ একটি শ্রেণী ফায়দা লুটিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

মূল্য না থাকায় শুধু কক্সবাজারসহ পুরো দেশে সাড়ে ৬ লাখ মেঃ টন লবণ অবিক্রিত আছে বলেও জানান ডিজিএম ছৈয়দ আহমদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT