রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:৩০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কবিতা : ইতি – মোঃ সাইফুল ইসলাম  ◈ রায়পু‌রে চোরাই মোটরসাই‌কেল উদ্ধার, মূল হোতার খোঁ‌জে পু‌লিশ ◈ হাঁটাবান্ধব পরিবেশ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি ◈ ভূঞাপুরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের এলাকায় লাইন জোড়াতালি-জরাজীর্ণ ◈ উলিপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে পুড়ে গরুর মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে জয়কালি মন্দিরের কিচেন ব্লক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ◈ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যেগে সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ◈ গোপালপুরে ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু ◈ রামগঞ্জে মাদ্রাসা ছা‌ত্রের পা‌য়ে শিকল বে‌ধে নির্যাত‌নের অ‌ভি‌যোগ মাদ্রাসা শিক্ষ‌কের বিরু‌দ্ধে ◈ ঘাটাইলে কাশতলা জামে মসজিদ ও রাস্তা পুনঃ র্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

লক্ষ্য থেকে দূরে কারিগরি শিক্ষা

প্রকাশিত : ০৪:২৪ AM, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২৮২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষায় সরকার বিশেষ জোর দিলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি। শিক্ষক সংকট, ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব, যাচাই-বাছাই ছাড়াই কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের কারণে এ লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। তবে ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০৩০ সালে এ হার ৩০ শতাংশে উন্নীত হবে বলেও আশা করছেন তারা। ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষার হার এক শতাংশ থাকলেও গত দশ বছরের ব্যবধানে এ হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে দাবি করছে সরকার। তবে বাস্তবে এ হার আরও কম। ফলে প্রকৃত অর্থে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী দেশের কারিগরি শিক্ষার্থীদের হার মাত্র ১৪ শতাংশ। ২০২০ সালে যেটি ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এ হার অনেক কম। আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা ও বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি মূলত ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ব্যানবেইসের ২০১৮ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় হাজার ৮৬৫টি। এরমধ্যে সরকারি ৮৬৬টি ও বেসরকারি পাঁচ হাজার ৯৯৯টি। শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৪ জন। এতে যুক্ত করা হয়েছে ৬ মাস মেয়াদি বিভিন্ন শর্ট কোর্স। এই কোর্সের আওতাধীন দুই হাজার ৬০০টি ট্রেনিং সেন্টার। আর এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দুই লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী।

এই শিক্ষার্থীদের আলাদা করলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয় ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৫।আবার নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত কারিগরির আওতায় অধ্যয়ন করে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৪ শতাংশ। কিন্তু এসব সার্টিফিকেট কোর্স আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার আওতায় পড়ে না। আবার কারিগরি শিক্ষার অধীনে রয়েছে দুই হাজার ৬১৭টি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) স্কুল ও কলেজ। এ শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন করতে হলে ব্যবসায় বিজ্ঞান শাখায়ই করতে হয়। এটিও কোনোভাবেই কারিগরি শিক্ষার আওতায় পড়ে না।

আবার বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা কারিগরি কোনো জ্ঞান পাচ্ছেন না বলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি নিজেই স্বীকার করেছেন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিএম কলেজ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা পাচ্ছে না।

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শর্ট কোর্সের উপ-পরিচালক ড. ইন্দ্রানী ধর বলেন, আমাদের শর্ট কোর্সগুলো দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় তিন হাজার। আমাদের নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে আমরা এই সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের সদ্য একটি বৈঠক হয়েছে, এতে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের একসঙ্গে করে প্রথমবার বসতে যাচ্ছি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিএম কলেজও কারিগরির অধীনে পড়ে না। কারণ তাদের অধ্যয়নের বিষয়সমূহ রয়েছে সাধারণ শিক্ষার ব্যবসায় প্রশাসনেও। এসব কলেজে অধ্যয়নরত আছেন ৩৫ হাজার ২২৫ শিক্ষার্থী। বিএম কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাদ দিলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় সাত লাখ ৩২ হাজার ২৫৯ জন।

এই হিসাবে কারিগরিতে শিক্ষার হার ৮.৪৪ শতাংশ। যেখানে জার্মানিতে ৭৩ শতাংশ, জাপান ৬৬, সিঙ্গাপুর ৬৫, অস্ট্রেলিয়া ৬০, চীন ৫৫, দক্ষিণ কোরিয়া ৫০, মালয়েশিয়ায় ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন কারিগরি মাধ্যমে।

কারিগরি শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে কারিগরি শিক্ষার যে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার কথা ছিলো আমরা তার থেকে অনেক দূরে। ২০২০ সালে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেক আগেই ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনা দরকার ছিলো।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে এ হার কম হবে। আবার অনেক শিক্ষার্থীই প্র্যাকটিক্যাল ছাড়াই কারিগরি শিক্ষা শেষ করছে। ফলে কাগজে কলমে শতাংশের উন্নতি হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান কারিগরি শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের দেয়া এই হার সঠিক নয়। কারণ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এক নয়। বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরের ধাপ কারিগরি শিক্ষা। সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে এক করে হিসাব করছে। এতে কারিগরির প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না।

তবে কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ আর প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০২০ সাল নাগাদ কারিগরি শিক্ষায় ২০ শতাংশ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিপ্লোমা কোর্সে আসন সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৫৭ হাজার ৭৮০-তে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে মহিলা কোটা ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও ২৩ জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে সরকার। যার ফলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫-এ। বর্তমানে যার সংখ্যা ৫২টি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে যার সংখ্যা সব মিলিয়ে দাঁড়াবে ৮-এ।

বর্তমানে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, ও চট্টগ্রামে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৪৫৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ প্রায় সাত হাজার ৭৭৩টি বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এক হাজার ৬৩০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৮ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে ২০০৮ সালে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৭৫, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৭৮০ জনে।

এছাড়া ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১০০টি উপজেলায় ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অবশিষ্ট ৩৮৯টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এবং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তাছাড়া আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষতাভিত্তিক কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধির জন্য কারিগরির পাশাপাশি সাধারণ ধারার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একটি কারিগরি বিষয় (বৃত্তিমূলক) বাধ্যতামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২১ সাল থেকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে।

এদিকে, কারিগরি শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অনেকেই দক্ষ শিক্ষকের অভাবের কথা বলছেন। পাশাপাশি উপকরণের অভাব, অনুন্নত কারিকুলামসহ নানা সমস্যাও ছোট করে দেখতে চান না খাত সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া যত্রতত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না বলেও মনে করেন অনেকেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি) ডা. মো. ফারুক হোসেন এর আগে আমার সংবাদকে বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২০ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে অর্থাৎ আমরা যখন উন্নত বিশ্বের কাতারে যাবো তখন ৭০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT