রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:০৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কুড়িগ্রামে দুই ছাগল চোরকে আটক করলেন ওসি নিজেই ◈ কালিহাতীতে বিধিনিষেধ না মানায় ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ◈ অপহৃত কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রির হুমকিতে মুক্তিপন আদায়ের চেষ্টা; ব্যবস্থা নিল পুলিশ ◈ ঠাকুরগাঁও এর হরিপুরে বিপুল সংখ্যক মাক্স ও সাবান বিতরণ ◈ নারায়ণগঞ্জে ছু‌রিকাঘা‌তে যুবক খুন ◈ কালিহাতীতে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ◈ ঘাটাইলের সাবেক এমপি মতিউর রহমানের স্ত্রীর মৃত্যু ◈ “হোসাইন’র কথায় অবমুক্ত হলো ইসলামিক গান আল-কোরআন” ◈ ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ৫টি ভেন্টিলেটর ও ১টি আইসিইউ মনিটর হস্তান্তর ◈ শ্রীনগরের রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন আওলাদ হোসেন

লকডাউন মানছেন না মোটরসাইকেল চালক-আরোহীরা

প্রকাশিত : ০২:১২ PM, ১ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার ৭৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনা ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে রাজধানীর বিজয় সারণি মোড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম বেশি দেখা গেলেও নিয়ম না মেনে রাস্তায় মোটরসাইকেল ছিল চোখে পড়ার মত।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকে মানুষজন তেমন একটা দেখা যায় নি রাস্তায়। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষ ও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের ছিল সরব উপস্থিতি। র‍্যাব, সেনাবাহিনী এবং বিজিবির গাড়িও দেখা গেছে মাঝে মাঝে।

রাস্তার মাঝখানে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে একটার পর একটা গাড়ি থামিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করছে। বাইরে বের হওয়ার সঠিক কারণ যারা জানাতে পারছে তাদের গাড়ি ব্যারিকেড পার হয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। অপরদিকে যারা জরুরি কোন কারণ দেখাতে পারছে না তাদের গাড়ি ফেরত যাচ্ছে।

আরোহীসহ মোটরসাইকেল চলানো নিষেধ থাকলেও তা মানতে নারাজ মোটরসাইকেল চালকরা। বিভিন্ন অজুহাতে পাঠাও চালকরা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন। বিজয় সারণি, হেলিপ্যাড, জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী সহ প্রায় সব জায়গায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়। তারা বিভিন্ন ভাবে তাদের বাইরে বের হওয়ার কারণ বুঝাতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্য দের।

পুলিশের দাবি, সকাল থেকে ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন, করোনা টেষ্ট করতে হাসপাতালে যাওয়া, করোনা আক্রান্ত সন্তানকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া, কুকুরের কামড় দিছে, ক্যান্সার রোগী বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরুরি দায়িত্ব পালন, টেলিযোগাযোগ সংস্থার সাথে জড়িত কাজে সহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে তারা যাতায়াত করছেন বলে তাদেরকে বলছেন।

মোটরসাইকেল আরোহী তাহসান জানান, আমার বাচ্চা করোনা আক্রান্ত হয়ে তাঁর মা সহ হাসপাতালে রয়েছে, ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দিতে বাধ্য হয়ে আমাকে হাসপাতালে যেতেই হচ্ছে। মহাখালী থেকে ঢাকা মেডিকেল কিভাবে যাব, তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাঠাও নিয়ে যাচ্ছি।

সরকারের নিষেধ থাকা স্বত্তেও পাঠাও সার্ভিস কেন দিচ্ছেন জানতে চাইলে ফারুফ নামে এক পাঠাও চালক বলেন, ঘরে অসুস্থ মা, বউ, বাচ্চা রয়েছে।অসুস্থ মায়ের জন্য ঔষধ, বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে তো টাকা লাগে। ঘরে তো আর জমানো টাকা নেই যে তা দিয়ে লকডাউনে খরচ করবো। ইচ্ছা না থাকা স্বত্তেও মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছি দেখি যদি পাঠাও চালিয়ে কিছু টাকা পাই।

বিজয় সরণিতে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এ এস আই কাইয়ুম বার্তা২৪.কম’কে জানান, আমরা কম বেশি প্রত্যেকটি গাড়ি থামিয়ে তাদের বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছি। বিশেষ করে যারা মোটরসাইকেল আরোহী তারা যাতে দুই জন সহ যেতে না পারে বা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হতে না পারে সেই দিকে আমরা খেয়াল রাখছি। প্রয়োজন ও আইন মেনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, নিশ্চিত হয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি। যারা অহেতুক গাড়ি বের করছে তাদেরকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণকে আইন মানতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

মোটরসাইকেল আরোহীর বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া বাইরে এসেছেন তাদেরকে আমরা নামিয়ে দিচ্ছি, কাউকে কাউকে আমরা থানায় নিয়ে যাচ্ছি। অনেকে আমাদের দেখে দূর থেকে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সামনে গিয়ে উঠছেন, সেক্ষত্রে আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে অনেকেই স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা হাসপাতালের কথা বলছে, ফলে মানবিক বিবেচনায় আমরা তাদের যেতে দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, করোনার সংক্রমণ রোধে মোটরসাইকেলের চালক ছাড়া অন্য কোনো আরোহী না নেওয়ার অনুরোধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সারা দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ছাড়া সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নিয়মিত টহলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের চালক ছাড়া কোনো আরোহীকে নেওয়া যাবে না।

ডিএমপি বলছে, চলমান লকডাউনের মধ্যে মোটরসাইকেলে চালকের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি রাইড শেয়ারিং করছেন অথবা কেউ কেউ পেশাগত কারণেও রাইড শেয়ার করছেন। একই ব্যবহৃত হেলমেট বারবার বিভিন্ন মানুষ ব্যবহার করছেন। এতে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT