রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১২:২০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কুড়িগ্রামে দুই ছাগল চোরকে আটক করলেন ওসি নিজেই ◈ কালিহাতীতে বিধিনিষেধ না মানায় ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ◈ অপহৃত কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রির হুমকিতে মুক্তিপন আদায়ের চেষ্টা; ব্যবস্থা নিল পুলিশ ◈ ঠাকুরগাঁও এর হরিপুরে বিপুল সংখ্যক মাক্স ও সাবান বিতরণ ◈ নারায়ণগঞ্জে ছু‌রিকাঘা‌তে যুবক খুন ◈ কালিহাতীতে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ◈ ঘাটাইলের সাবেক এমপি মতিউর রহমানের স্ত্রীর মৃত্যু ◈ “হোসাইন’র কথায় অবমুক্ত হলো ইসলামিক গান আল-কোরআন” ◈ ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ৫টি ভেন্টিলেটর ও ১টি আইসিইউ মনিটর হস্তান্তর ◈ শ্রীনগরের রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন আওলাদ হোসেন

লকডাউনেও কাজের খোঁজে রাস্তায় অপেক্ষা

প্রকাশিত : ০২:১৭ PM, ১ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার ৯৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কাক ডাকা ভোরে রামপুরা সুপার মার্কেটের সামনে এসেছেন লাল মিয়া। হাতে কোদাল আর কাস্তে।

সেখানে দাঁড়াতেই ছুটে এসে বললেন, “একটা কাজ দেও বাবা”।

হুড়োহুড়ি করে এলেন আরও ৩০-৩৫ জন। তারা সবাই দিনমজুর।

দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের কপালে নতুন করে চিন্তার রেখা এঁকেছে লকডাউনের বিধিনিষেধ।

বৃদ্ধ লাল মিয়া বললেন, “১৫ দিন কোনো কাজ পাই না, বুড়া হয়ে গেছি বলে কেউ নেয় না।”

ওই মার্কেটের সামনে কেউ এলেই ভাবছেন- কেউ বুঝি শ্রমিকের সন্ধানে এসেছেন!

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই তাদের কারও।

“আমি ঘরে থেকে কী করব, না খেয়ে মরব? কেউ যদি একটা কাজ দেয়, দিন শেষে কয়েকটা টাকা পাইলে কিছু কিনে খেতে পারব।”

লাল মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরে। কয়েক বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়ে দুই ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসারের হাল ধরে আছেন। এর মধ্যে সহায়-সম্বল বিক্রি করে দুই মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। আর ছেলে দুটি বড় হলেও তারা বেকার।

“ছেলেরা কিছু করতে পারে না। কোনো কাজ পায় না। যেদিন মজুরি করে আমি কিছু রোজগার করতে পারি, সেদিন এদের জন্যও কিছু কিনে নিতে পারি।”

লাল মিয়ার মত কাজের সন্ধানে ওই মার্কেটের সামনে এসেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের মুজিবর তালুকদার। স্ত্রী আর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার।

গত ৯-১০ দিন কাজ পাননি জানিয়ে বললেন, “ঘরে জমানো টাকা-পয়সা নাই। কোনো খাবার-দাবার নাই। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারতেছি না। এভাবে যদি লকডাউন চলতে থাকে তাহলে বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।”

দিন চুক্তির মজুরিতে কাজ পাওয়ার আশায় কাজী আলমও খুব সকালেই ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন। তার বাড়ি পিরোজপুরে।

তিনি বলেন, “বেশ কিছু দিন ধরেই কাজ পাই না। হঠাৎ হঠাৎ সুযোগ হলেও মজুরি অল্প হয়, যেখানে আগে ৫০০-৬০০ টাকা পেতাম, এখন ২০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি কেউ দিতে চায় না। তারপরও এখানে আসি কোনো একটা কাজের ব্যবস্থা যদি হয়, ভাগ্য যদি ভাল হয় হয়তো কোনো কাজ পেতেও পারি।”

রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন শাহাব উদ্দিন, বাড়ি পটুয়াখালী। এক সপ্তাহ হলে কোনো কাজ জোটেনি তারও। জানালেন, শহরে এখন নির্মাণ কাজ ততটা নেই, তাই অন্য যে কোনো কাজ হোক তিনি করতে চান।

শাহাব উদ্দিনের সংসারে স্ত্রী আর ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে। তিনি বললেন, “লকডাউন যদি বেশি দিন থাকে তাহলে আমরা কী করব, কী খাব, ভেবে পাই না।

“সরকার যদি আমাদের কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিত তাহলে বাল-বাচ্চাদের মুখে কিছু দিতে পারতাম। এমনিতেই কাজ নাই, আবার লকডাউনে কাজ পাব-কিনা জানি না। আমি এখন সব অন্ধকার দেখতেছি।”

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT