রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:০৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ বিশ্ব এইডস দিবস : ভয়াবহ মরণব্যাধি এইডস ◈ ভিবিডি গোপালগঞ্জ জেলা কর্তৃক আয়োজিত “আনন্দ আহার” ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শুভ আহমেদ ◈ কবিতা : শীতের পিঠা – মোঃ শহিদুল ইসলাম ◈ ধামইরহাটে জঙ্গিবাদ মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ ◈ ধামইরহাটে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপন ◈ ধামইরহাটে মাস্ক না পরায় বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের জরিমানা, সচেতন করতে রাস্তায় নামলেন এসিল্যান্ড ◈ সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান ◈ ধামইরহাটে অজ্ঞাত রোগে মাছে মড়ক, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিতে মৎস্যচাষী’র হাহাকার ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই জনকল্যানমূলক কাজ সবচেয়ে বেশি হয়েছে- এমপি শাওন

রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অরক্ষিত স্থানীয় বাঙালিরা

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ২২৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কক্সবাজারের উখিয়া, বালুখালী, কুতুপালং, টিভি সেন্টার, পালংখালী, খাঞ্চরপাড়া, হূলা, লেদা, মচুনি, টেকনাফ, সাবরং নয়াপাড়া বাজার, শাহপরীর দ্বীপ এবং নাফ নদী পর্যন্ত এলাকার সব মানুষই এখন রোহিঙ্গাবিরোধী। রোহিঙ্গারা প্রকাশ্যে টমটম চালাচ্ছে, দোকান দিচ্ছে, শ্রমিকের কাজ করছে, কসমেটিক বিক্রি করছে, বাংলা ভাষা হুবহু শিখে নিচ্ছে!

ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাঙালিদের কমে গেছে শ্রমের দাম, এনজিওগুলো নদীপথে দেশের বাইরে থেকে নিয়ে আসছে সব ধরনের খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কক্সবাজার অঞ্চল থেকে কিনছে না কিছু। এখন নেই এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাপন, শিশুদের শিক্ষাতে হুমকি, রোহিঙ্গা শিশুদের হাতে স্থানীয় বাঙালি সন্তানদের রক্তাক্তের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। পুরো এলাকায় বেড়েছে দৃশ্যত অপরাধ প্রবণতা। সন্ধ্যা হলেই পুরো এলাকা চলে যায় রোহিঙ্গাদের হাতে। রাত ৯টার পর স্থানীয়দের সকাল পর্যন্ত কাটে রুদ্ধশ্বাস অবস্থায়।

অপরাধ প্রবণতা কমাতে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশনা প্রদানের পর রোহিঙ্গারা এখন মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করছে। প্রতিটি ক্যাম্পে ক্যাম্পে রয়েছে ওপারের সিম। এছাড়া বাংলাদেশি মুদ্রা যাচ্ছে মিয়ানমারে আর মিয়ানমারের মুদ্রা আসছে বাংলাদেশে। ফলে রোহিঙ্গারা ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, আর সংখ্যালঘু হয়ে পিছিয়ে পড়ছে স্থানীয়রা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে এই ইস্যুতে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।

ভাষণের প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।’ দ্বিতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।’ ‘আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে,’ তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।’

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খবর রয়েছে, রোহিঙ্গাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র এখন কক্সবাজার সীমানায়। অস্ত্র, নারী, মাদক এ তিনটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার ভূখণ্ডে চলছে বড় ধরনের অপরাধ সাম্রাজ্য। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করছে। কক্সবাজার রক্ষায় ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও রোহিঙ্গা সমাবেশে ব্যানার, টিশার্ট, পোস্টারে অর্থ জোগান দিয়েছে কারা জানতে চায় মুক্তিযোদ্ধারা। দেশমুক্তির সৈনিকরা সরকারকেও নানা বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

সমপ্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে, স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দেয়া হয়েছে বার্তা। ২ সেপ্টেম্বর সাবরাং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের উদ্যোগে সাবরাং স্টেশনের প্রধান সড়কে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে মানবন্ধন হয়েছে। বক্তারা স্থানীয়দের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।

সরকারের একটি গোয়েন্দা সূত্র আমার সংবাদকে জানিয়েছে, স্থানীয় বাঙালিদের নিয়ে সরকার অনেক শঙ্কায় আছে। তারা এখন অধিকার চাচ্ছে, প্রতিবাদ করছে। স্থানীয় বাঙালি-রোহিঙ্গা বিদ্রোহ পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে তৈরি হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।

এ জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আগের চেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এছাড়াও দেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? রোহিঙ্গাদের কর্মস্থল কোথায় হবে? এক দেশে থেকে আরেক দেশের এত সংখ্যক মানুষের ভাষা কি হবে? এনজিওগুলো সহযোগিতার নামে কোনো ঘাঁটি তৈরি করছে না তো?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু কক্সবাজার নয়, সারাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন হুমকির মুখে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিগত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ১১ লাখ ৮৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত হয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল মাতৃভূমি বাংলাদেশে। এছাড়া ২০১৭ সালের আগেও বিভিন্ন সময় আরও বেশকিছু রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে বসবাস করছে বলে জানা যায়। বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠী এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণসহ সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য এখন হুমকির মুখে।

সমপ্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কিছুটা আশার আলো দেখলেও নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় সে কার্যক্রম। রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে রাজি নয়। উল্টো পাঁচ-ছয় দফা দাবির শর্তে গত ২৫ আগস্ট তারা ডাক দেয় মহাসমাবেশের। সচেতন মহলের মতে, দুদিন আগেও চাল-ডাল-রেশনের কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এই রোহিঙ্গারা লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটিয়ে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক কিভাবে দেয়? এর পেছনে কারা জড়িত? অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারছে না স্থানীয় বাঙালিরা। তাই মাতৃভূমি রক্ষায় কক্সবাজারের বাসিন্দারা রোহিঙ্গামুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠছে। নিরাপত্তার দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছেন।

সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য আমাদের যে বাংলা ভাষা, এটা তারা হুবহু শিখে নিচ্ছে। আর দু-এক বছর পর এদের চিহ্নিত করা সরকার নয়, আমাদের জন্যই কঠিন হয়ে যাবে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, ওরা টমটম চালাচ্ছে, দোকান দিচ্ছে, শ্রমিকের কাজ করছে, স্থানীয়রা যা কাজ করেন ওরাও তাই করেন। ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

উখিয়ার স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মাজেদ সরদার বলেন, ওরা (রোহিঙ্গারা) কীভাবে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ কর্ম করছে? বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কী করে? ওদের মাধ্যমে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে এর দায় কি সরকার নেবে।

রাখাইনের মংডু এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন জেহাদুল ইসলাম। তিনি এখন কুতুপালং ক্যাম্পে থাকেন। তিনি স্থানীয় বাঙালিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এখানে অন্ধকার রোডে বাতি লাগাতে চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু এখানকার স্থানীয় কয়েকজন এসে আমাকে বাধা দিয়েছেন। তাই পরে আর লাগাতে পারিনি।

রাখাইন থেকে নির্যাতিত হয়ে উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, আমি পাহাড়ে কয়লা, সবজির গাছ লাগাতে চেষ্টা করেছিলাম, এখানকার স্থানীয়রা আমাকে বাধা দিচ্ছেন, তাই লাগাতে পারিনি। পরে আমি আমার ঝুপড়ি ঘরের পাশেই লাগিয়েছি। মিয়ানমারের মংডু একাকার আব্দুল করিম বলেন, কসমেটিক জিনিসপত্র নিয়ে ফেরি করছি। ভালোই চলছে। ফেরি করতে বেশি দূর যেতে পারি না। অনেক জায়গা থেকে নির্দেশনা আসে, যাতে ক্যাম্পের বাইরে না যাই।

বালুখালি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, প্রথম কথা হলো আমরা রোহিঙ্গা স্বীকৃতি চাই। দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের মা-বোনদের যে নির্যাতন করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ মিয়ানমারে ফেরার আগেই চাই। আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার চাই।

দেশীয় সিম বন্ধের পর রোহিঙ্গাদের হাতে মিয়ানমারের সিম
বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশনা প্রদানের পর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সিমের প্রতি ঝুঁকছে। সমপ্রতি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে মিয়ানমারের চার মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিমের কদর বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। দেশীয় সিম বন্ধের পর এখন রোহিঙ্গাদের হাতে মিয়ানমারের সিম পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশি সিম দিয়ে যেমন সীমান্তের এপারে-ওপারে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, অনুরূপভাবে মিয়ানমারের সিম দিয়েও একই যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। এক্ষেত্রে তফাতটা হচ্ছে মিয়ানমারের সিম দিয়ে বাংলাদেশি সিম সংবলিত মোবাইলে কথা বলা যাবে না। অনুরূপভাবে বাংলাদেশি সিম দিয়ে মিয়ানমারের সিম সংবলিত মোবাইলে কথা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু একই দেশের সিম দিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে আট লাখেরও বেশির কাছে বাংলাদেশি মোবাইল সিম রয়েছে। দীর্ঘ দুবছর ধরে এদেশীয় সিম রোহিঙ্গারা ক্রয় করে ব্যবহার করে আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সরকার থেকে কোনো নির্দেশ না পাওয়ায় ইচ্ছেমতো রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেয় দেশীয় সিম।

শুধু তাই নয়, এপার থেকে বাংলাদেশি সিম ওপারেও পাঠিয়েছে রোহিঙ্গারা, তাদের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য। এছাড়া বহু আগ থেকেই ক্ষুদ্র আকারে মিয়ানমারের সিম এপারে ব্যবহূত হয়ে আসছে। ইতোমধ্যেই ৩২ আশ্রয় শিবিরে মিয়ানমারের সিম ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর সুবাদে মিয়ানমার থেকে চালানে চালানে সে দেশের সিম কার্ড বাংলাদেশে ঢুকছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকাজুড়ে ১২টি অপারেটরের টাওয়ার রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মোবাইল সেবা বন্ধে মোবাইল ও সিম আটক করে তেমন কোনো ফলাফল আসবে না। মূলত মোবাইল অপারেটরগুলোর স্থাপিত সীমান্ত এলাকার সব মোবাইল টাওয়ার উঠিয়ে ফেলতে হবে। পুনঃস্থাপন করতে হবে এমন স্থানে যেখান থেকে সীমান্তের ওপারে ফ্রিকোয়োন্সি থাকে না। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, গয়ারমারা, টেকনাফের চাকমারকূর, পুটিবুনিয়া, নয়াপাড়া ও লেদা এলাকায় স্থাপিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে সীমান্তের দূরত্ব অর্ধকিলোমিটার এলাকা।

মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সে দেশের মোবাইল অপারেটররা তাদের যে টাওয়ার প্রতিষ্ঠা করেছে সেগুলো থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে উখিয়া টেকনাফ এলাকায় ফ্রিকোয়েন্সি মিলছে। সে দেশের বর্তমানে চলমান চার মোবাইল অপারেটরের মধ্যে দুটির নেকওয়ার্ক বেশি পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে একটির নাম এমপিপি। যার নেটওয়ার্ক বেশি বিস্তৃত।

পাহাড়ে পাহাড়ে ছড়িয়ে গেছে রোহিঙ্গারা, স্থানীয়দের কাটে ভয়াল রাত
কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মনাইপাড়া, গোদারপাড়, ডাক্তারছোলা, ডাইলংপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নাকাটা, তালতলা, দোচালা, ডিলাইট, চিকনছড়া, কচুপাড়া এলাকায় বসতি গড়ে তুলছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর, ওয়াহেদ্যাখীল, বৃকবানুপুর, বানারস, জানিপাথর, গলাচিপা, হলদিয়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের নতুন নতুন বসতি দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি বসতি গড়ে তুলছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।এছাড়া উপজেলার কোদালা, নারিশ্চা, হোচনাবাদ, ইসলামপুর, রাজানগর, পোমরা, বেতাগি ও সরফভাটাসহ হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরও ভয়াবহ হুমকির কথা জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। রোহিঙ্গারা এখন শুধু উখিয়া থেকে টেকনাফে সীমাবদ্ধ থাকছে না, তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সব রোহিঙ্গাকে নির্ধারিত স্থানে ফেরত পাঠাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাছাড়া মানবিকতার কাছে এখন স্থানীয়রাও অসহায় হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে অনেক বাসিন্দাকে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাত হলে তাদের ভয়াল অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে। রাত বেশি হলে পাহাড়কেন্দ্রিক অনেক বাসিন্দাই এখন আর ঘর থেকে বের হন না। যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যামামলার আসামি নূর মোহাম্মদ বন্ধুকযুদ্ধে নিহতে কিছুটা স্বস্তি এলেও অন্য সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে দিন পার করছে স্থানীয় বাঙালিরা।

মাদকসহ প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা আটক হচ্ছেন, চলতি সপ্তাহে গুলিতে চার রোহিঙ্গা নিহত
মাদকসহ প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছেন, চলতি সপ্তাহে স্বামী-স্ত্রীসহ গুলিতে চার রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে চলতি সপ্তাহে টেকনাফে নাফ নদীর কিনারায় মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবি জওয়ানদের সাথে গোলাগুলিতে তিনজন বিজিবি সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, লম্বা বন্দুক, বুলেট ও কিরিচসহ গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গা মাদককারবারিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (পিএসসি) উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল হতে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছ। নিহতরা হচ্ছে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের মৃত কাদের হোসেনের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩২) ও তার স্ত্রী জাহেদা বেগম (২৭)। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন এএসআই নিজাম, কনস্টেবল শাহাদত ও সুদর্শন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

কক্সবাজারের শ্রমবাজার রোহিঙ্গাদের দখলে, অসহায় স্থানীয় বাঙালিরা
এনজিওগুলোতে চাকরির দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। তাতেও মিলছে না সমাধান। রোহিঙ্গাচাপে স্থানীয়রা এখন সংখ্যালঘু হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন মেম্বার আমার সংবাদকে বলেন, মিয়ানমার আমাদের ইয়াবা নামক গুটিতে গুটিবাজি করে যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রতিদিন, ঠিক তেমনি করে মিয়ানমার আরাকান রাজ্যে সহিংসতার নামে যে নাটকটি মঞ্চায়িত হচ্ছে সেই নাটকের দর্শক যারা আমার ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছে সেই সব রোহিঙ্গাদের হাতে আজ প্রতিমুহূর্তে রক্তাক্ত হচ্ছে সবুজে ঘেরা পাহাড়-বনভূমি। শুধু কি তাই, রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আজ অপরাধ জগৎ। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ এমন কোনো কাজ নেই যার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের শ্রমবাজার আজ রোহিঙ্গাদের দখলে।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, আগে রোহিঙ্গারা খাবারসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতো। এখন তাদের খাবার ও সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কোথাও দৌড়াতে হয় না। এনজিওরা তাদের ঘরে ঘরে সব প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছে। কোনো কাজ ও সংসারের পিছুটান না থাকায় রোহিঙ্গারা নানা অপকর্মে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ইয়াবা রাজ্য বানিয়েছে। ধর্ষণ, খুন, হামলা তাদের নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে। তাদের কারণে স্থানীয়রা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। ব্যবসা শেষ হয়ে গেছে। শ্রমের কোনো মূল্য নেই।

রোহিঙ্গাদের বলিবাজারে পাওয়া যায় সব পণ্য!
বাংলাদেশি মুদ্রা যাচ্ছে মিয়ানমারে অনুরূপভাবে মিয়ানমারের মুদ্রা আসছে বাংলাদেশে। তাই রোহিঙ্গারা পাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যর সব ধরনের সুযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে শতশত দোকান। যার মালিক রোহিঙ্গারা। খদ্দেরও রোহিঙ্গারা। সবজি, মাছ, মাংস, পান, কাপড়, স্বর্ণ, ওষুধ, ফল, প্রসাধনী, সিমেন্ট, চাল, ঘড়ি, ফার্মের মুরগিসহ এমন কোনো পণ্য নেই যা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না। জুয়েলারি দোকান রয়েছে বহু। উখিয়ার বালুখালীতে যে বিশাল বাজার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে রোহিঙ্গারা এর নাম দিয়েছে বলিবাজার। মিয়ানমারের মংডুতে প্রসিদ্ধ একটি বাজারের নাম হচ্ছে বলিবাজার। ওই বাজারের নামের অনুকরণেই রোহিঙ্গারা এদেশে এ বাজারের নামকরণ করেছে।

নিরাপত্তার ভয়ে এনজিওরা ক্যাম্পে যাচ্ছে না, হোটেলে অবস্থান
গত ২২ আগস্ট রাতে টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখনো স্থানীয় বাঙালি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভালো সময় যাচ্ছে না। টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, লেদা, নয়াপাড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরগুলো দিন দিন ভয়ানক হয়ে উঠছে। এ ঘটনার পর থেকে কয়েকটি শিবিরে নিরাপত্তার ভয়ে এনজিওদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনজিওগুলো কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে অবস্থান করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্থানীয় বাঙালিরা এনজিওগুলোর ওপর ক্ষিপ্ত। তাদের উস্কানিতে বারবার রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চাচ্ছে না। নিজ গাঁয়ে স্থানীয়রা এখন সংখ্যালঘু। যেকোনো মুহূর্তে এনজিওগুলোর ওপর আসতে পারে হামলা। কক্সবাজারে কর্মরত প্রায় অর্ধশত স্থানীয় এনজিও এবং সুশীল সমাজের নেটওয়ার্ক ‘কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম’ (সিসিএনএফ) এক গবেষণায় জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোট ১২৩টি দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে ২১টি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও রয়েছে পাঁচটি। অন্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করছে। এসব এনজিও বিভিন্নভাবে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয়ের কথা বললেও এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের পেছনে। কর্মকর্তাদের দামি গাড়ি, উচ্চ বেতনে চাকরি ও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ বিলাসী জীবনযাপনে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এনজিও সম্পর্কে বলেছেন, এখনো অনেক এনজিও অনিয়মের কাজ করছে। সে ধরনের তথ্য প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করলে বেসরকারি সংগঠনের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনজিওদের দেশি অস্ত্র তৈরিতে প্রশাসনের কাছে হাতেনাতে ধরা
সমপ্রতি উখিয়ার কোটবাজারের ভালুকিয়ার একটি কামারের দোকান থেকে বিপুল দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অস্ত্রের সঠিক নাম ও পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম। ভালুকিয়া সড়কের একটি কামারের দোকান থেকে দেশি এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরণের জন্য বেসরকারি এনজিও সংস্থা ‘মুক্তি’ এসব অস্ত্র তৈরি করতে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কামার অধীর দাস।

এর আগে এসব অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ এসব অস্ত্র রোহিঙ্গাদের সরবরাহের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কামার অধীর দাসের ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন উখিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন।

সাক্ষাৎকারে কামার অধীর দাস জানান, এনজিও ‘মুক্তি’র জন্য দুই হাজার ৬০০ পিস দেশি অস্ত্র তৈরির অর্ডার দেন ভালুকিয়ার বাসিন্দা সাইফুল। অর্ডার দেয়ার সময় ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন সাইফুল।

উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, এনজিও সংস্থা নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে ‘মুক্তি’র জন্য ভালুকিয়ার জনৈক সাইফুল এসব অস্ত্র তৈরির অর্ডার দিয়েছিল।

রোহিঙ্গাদের অর্থ জোগান দিয়েছে কারা জানতে চায় মুক্তিযোদ্ধারা
গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়েছে রোহিঙ্গাদের কয়েক লাখ লোকের মহাসমাবেশ। রোহিঙ্গা নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতির ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সমপ্রতি রোহিঙ্গাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধাদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার ও সাবেক পৌরমেয়র নুরুল আবছার, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কামাল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধকালীন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমদ, সাবেক জেলা কমান্ডার মো. শাহজাহান ও মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকারকে উদ্দেশ্য করে যে সব দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হয়েছে তাতে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সরকারের করণীয় খুবই সীমিত। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের ভূমিকাই মুখ্য।

সব জেনেশুনে সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ওপর প্রচণ্ড অনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হয়। কক্সবাজার জেলার সর্বস্তরের মানুষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় আছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রোহিঙ্গা উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করার জন্য কিছু সংস্থা ও ব্যক্তি অন্তর্ঘাতমূলক কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উক্ত সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক ডিজিটাল ব্যানার, টিশার্ট, মেগাফোন, টুপি, পোস্টার, ছাতা সরবরাহ করার পেছনে কারা অর্থ জোগান দিয়েছে তা অনুসন্ধান করে খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আয়াছুর রহমান বলেন, ‘মানবতাকে পুঁজি করে রোহিঙ্গারা সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে মানবপাচার ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পড়েছে। তারা নিজেরাই খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়ছে।’ ইতোমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকালয়ে রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ার পর যতটা নীরব ছিল, এখন তেমনটি নেই। আগে তাদের চাহিদা ছিলো খাদ্য এবং চিকিৎসার ওপর। এখন রেশনের খাবার খেয়ে আলস্যতার কারণে তাদের মাথায় দুষ্টবুদ্ধি কাজ করে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া ক্যাম্পগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি যুবক। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে সংখ্যাগত দিক দিয়ে একটু খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আমার সংবাদককে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নামানো হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিজিএফআই, এনএসআই সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সকল কার্যক্রমে তারা (গোয়েন্দা) নজর রাখছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সীমানায় পড়া দুজন ইউএনওকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT