রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৬ জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নোয়াখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ ◈ রাজারহাটে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ◈ রৌমারীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ। ◈ বেদে সম্প্রদায়সহ বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে,মধ্যনগর থানা পুলিশ ◈ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ডামুড্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ◈ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কালিহাতী থানা পুলিশের আতশবাজি প্রদর্শনী ◈ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে শেরপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ◈ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উপভোগ করেণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ◈ দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রোমে যে কারণে আলোচিত প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ

প্রকাশিত : 06:39 AM, 20 September 2019 Friday 511 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বাংলাদেশের যেসব নাগরিক বিদেশে আছেন তাদের কোনো সুখবর বা খ্যাতি শুনলে আমরা খুব খুশি হই। গর্বে আমাদের বুক ফুলে উঠে। কেননা এর মাধ্যমে তারা তো দেশেরই মুখ উজ্জ্বল করেন। কিন্তু এমন সুখবর সচারাচর শোনা যায় না। কিন্তু এবার ইতালিতে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি তরুণ এমন এক ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন যে, সে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে তার উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তিনি কি করেছেন জানেন?

ইতালিতে বসবাসকারী ওই প্রবাসী তরুণ মুসান রাসেল সম্প্রতি রোমের রাস্তায় একটি ওয়ালেট খুঁজে পেয়েছিলেন। সেখানে দুই হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫৪ টাকা) এবং ক্রেডিট কার্ডসহ অনেক মূল্যবান কাগজপত্র ছিলো। কিন্তু মুসাব ওয়ালেটটি খুলেও দেখেননি। তিনি সেটি এর মালিককে ফিরিয়ে দেন। বিনিময়ে ওয়ালেটের মালিক তাকে মোটা অঙ্কের পুরস্কার দিতে চাইলে তিনি সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনায় ইটালির গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছেন মুসান ।

ইটালির লা রিপাবলিকা পত্রিকায় মুসানের সাক্ষাৎকার আর ছবি ছাপা হয়েছে। সেখানে তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন পুরো ঘটনা।

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে রোমে আসেন মুসান রাসেল। রোমের রাস্তায় তিনি একটি লেদার সামগ্রির স্টল চালান। গত শুক্রবার তিনি রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। এটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান ভেতরে অনেক নোট, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র আছে। এরপর আর কিছু না ভেবেই ওয়ালেটটি নিয়ে তিনি চলে যান নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে। সেখানে ওয়ালেটটি তুলে দেন পুলিশের হাতে।

এরপর পুলিশ ওয়ালেটের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওয়ালেটটি ফিরিয়ে দেয়। মালিক মুসান রাসেলের সততার দৃষ্টান্তে অভিভূত হয়ে তাকে পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

লা রিপাবলিকা পত্রিকা তার কাছে জানতে চেয়েছিল, প্রথম যখন তিনি ওয়ালেটটি খুঁজে পান, তখন তিনি কি ভেবেছিলেন। মুসান বলেন, ওয়ালেটের ভেতরটা দেখে তার মনে হয়েছিল, যিনি এগুলো হারিয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই খুবই সমস্যায় আছেন।

মুসাব বলেন, ‘এর ভেতরে ছিল কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং আরও কিছু কাগজপত্র। আর টাকা তো ছিলই। কত টাকা বলতে পারবো না, কারণ আমি গুণে দেখিনি। আমি সবকিছু পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলাম।’

মুসান রাসেল ভালো ইটালিয়ান বলতে পারেন না। কিন্তু তারপরও তিনি তার বক্তব্য পুলিশকে বোঝাতে পারলেন। ওয়ালেটের মধ্যে একতাড়া নোট দেখে পুলিশ অবাক হলো। তখনই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে ভেতরে দুই হাজার ইউরো ছিল। পুলিশ তাকে ধন্যবাদ জানায় ওয়ালেটটি জমা দেয়ার জন্য। জবাবে মুসান বললেন, ‘এটা আমার কর্তব্য। আমি কাজ করি এবং এই ওয়ালেটটি ঘটনাচক্রে খুঁজে পেয়েছি। এটি আমার নয়।’

মুসান জানান, প্রথম জীবনে তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। দিন-রাত খাটতে হয়েছে। গত দুবছর ধরে তিনি লেদার স্টলটি চালান।

ওয়ালেটটি যার, তার সঙ্গে যখন দেখা হলো, তখন কী ঘটলো? তার কাছে জানতে চেয়েছিল লা রিপাবলিকা।

মুসান জানান, ওয়ালেটটি পুলিশের কাছে দিয়ে তিনি কাজে ফিরে আসেন। কয়েক ঘন্টা পর পুলিশ তাকে ফোন করে। পুলিশ জানায়, ওয়ালেটের মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি মুসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

‘প্রথমে আমি যেতে চাইনি। কারণ সবাই আমার দিকে মনোযোগ দিক, সেটা আমি চাইনি। তবে শেষপর্যন্ত আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঐ ভদ্রলোক আমার দেখা পেয়ে আসলেই খুশি হয়েছিলেন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পেরে খুশি ছিলেন। আমি অবশ্য তাকে বলেছি, এর কোনো দরকার ছিল না, আমি ব্যতিক্রমী কিছু করিনি। কিন্তু তিনি আমাকে একটা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন, আমি যে পুরস্কার চাই, সেটাই দিতে চেয়েছিলেন।’

কিন্তু সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন মুসান। কেননা তার ভাষায়, ‘এটা কোন সন্মানের ব্যাপার হতো না। আমি বরং তাকে আমার স্টলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমি খুশি হবো যদি উনি আমার দোকানের কাস্টমার হন।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT