রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৬ জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোর ইয়ুথ ব্লাড ডোনার গ্রুপের হয়ে কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের পাশে বাংলার মিঃ বিন ◈ নোয়াখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ ◈ রাজারহাটে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ◈ রৌমারীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ। ◈ বেদে সম্প্রদায়সহ বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে,মধ্যনগর থানা পুলিশ ◈ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ডামুড্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ◈ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কালিহাতী থানা পুলিশের আতশবাজি প্রদর্শনী ◈ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে শেরপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ◈ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উপভোগ করেণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন

রেমা ফুল ও নারিকেল শলার কারবার

প্রকাশিত : 03:56 AM, 21 September 2019 Saturday 1,000 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

ঘরের কাজের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা তৈরি করছেন ফুল ও শলার ঝাড়ু। রেমা ফুল ও নারিকেল শলা দিয়ে তৈরি ফুল ও শলার ঝাড়ুর চাহিদাও বাড়ছে। বাঙালি পরিবারের নারী-পুরুষরা ঘরে বসে টাকা উপার্জনের এ পন্থা বেছে নিয়েছে। তবে স্বল্প পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দরিদ্র এসব শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘ দিনের এ ক্ষুদ্র প্রয়াসকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে পারছেন না। জীবিকার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি ফুল, শলা ঝাড়ু ও চুনা ব্রাশ তৈরির শিল্প গড়ে তুলেছেন। জেলার মধ্যে একমাত্র কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে বাঘমারা গ্রামে এ শিল্পটি গড়ে উঠলেও ঝাড়ু তৈরির কারিগররা নানা সমস্যায় জর্জরিত।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা কাজের ফাঁকে ফুল ও শলার ঝাড়ু তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকেই ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রায় শতাধিক পরিবার এ পেশায় সম্পৃক্ত। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঝাড়ু বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এ শিল্প উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ভিটেমাটি ছাড়া। নেই কোনো জমিজমা। তারা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রাখলেও পুঁজির অভাবে শিল্পের উন্নতি ঘটাতে পারছেন না। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ খলিল মিয়া বলেন, ‘জন্মের পর থেকে আমি ফুল ও নারিকেল শলার ঝাড়ু তৈরি করে বিক্রি করছি। সাথে স্ত্রী ও সন্তানরা সহায়তা করছে। হবিগঞ্জের মিরপুর, বাহুবল, তেলিয়াপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল শলা ও রেমা ফুল সংগ্রহ করি। এরপর দু-তিনজন মিলে দিনে গড়ে ২০০ পিস ঝাড়ু তৈরি করলে সবকিছু বাদ দিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই আয় থেকে তিন মেয়ে বিয়ে দিয়ে কোনোমতে এখন সংসার চালাই।’

খলিল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরার ভিটামাটি ছাড়া আর কোনো জমি নাই। এই কাজ করার মতো পুঁজিও নাই। ঋণের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে গেছি। ব্যাংক থেকে কম লাভে ঋণ পাইলে আরো বেশি কাজ করা যাইত।’

নারিকেল শলার ঝাড়ু তৈরির কারখানায় ঝাড়ু বাঁধাইয়ের টিন হিসেবে দুধের পট, কাঠের টুকরো ও লোহা ব্যবহূত হচ্ছে। এগুলো দিয়ে দ্রুত তৈরি হচ্ছে এসব ঝাড়ু। গ্রামের অনেকেই ক্ষুদ্র এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা দানিস মিয়া বলেন, ‘আগে বাবা এ কাজ করতেন। এখন চার বছর যাবত্ তিনি এ কাজ করছেন। তবে পুঁজি না থাকায় কষ্ট হচ্ছে। যেখানে লাখ টাকার প্রয়োজন সেখানে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোনোমতে ধারদেনা করে এ শিল্পকে ধরে রেখেছি। রোজ ধরে হিসাব করলে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়।’ ঝাড়ু কারিগরদের দাবি, সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।

তাহের মিয়া, মতিন মিয়া, নূরজাহান বেগম, আনু বেগমরা নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি এসব ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া গেলে শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা মনে করেন।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা সংগঠক ও গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ক্লাস্টার পোগ্রামের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় মনিপুরীদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, ঠিক সে প্রক্রিয়ায় বাঙালি এসব শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করলে ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। একসময়ে কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT