রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রায়ে খুশি নিহতদের স্বজনেরা

প্রকাশিত : 02:11 AM, 28 November 2019 Thursday ১৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

‘মৃত্যুর পর আমার ছেলের লাশটাও দেখতে পারলাম না। তয় যারা আমার ছেলেক হত্যা করিছে আমি তাদের কঠোর শাস্তি, ফাঁসি চাইছিলাম। জঙ্গিদের ফাঁসির রায় হইছে। আমি খুশি। এখন মরেও শান্তি পাব। যেন আর কারো মায়ের কোল খালি করবার না পারে জঙ্গিরা।’ হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার রায় ঘোষণার পর এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিহত শেফ (পিজ্যা কারিগর) সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের মা সমমেহের বেগম (৭০)। ঠিক একইভাবে বড়ো ভাই হারানোর বেদনা নিয়ে এসি রবিউল করিমের ছোটো ভাই শামসুজ্জামান শামস জানান, তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট। আশা করছেন, দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। রবিউল করিমের পরিবারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভাইয়ের স্ত্রী চাকরি করছেন। বাচ্চারা বড়ো হচ্ছে। এমনিতে ওরা ভালো আছে।

রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, ‘বিচারে হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি হয়েছে। এখন আমি ও আমার সন্তান এবং পরিবারের সবাই রায়ে খুশি।’

রায় ঘোষণার পর নিহত জাকির হোসেন শাওনের বোন সোনিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ভাইতো নির্দোষ ছিল। তদন্তেও সেটা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু আমার ভাইটা মরে যাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয় না। আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ও মা মাকসুদা বেগম বিনা চিকিত্সায় আজ মৃত্যু পথযাত্রী। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছোটো ভাই শাওনকে হারিয়ে আজ আমরা পথে বসেছি। শুধু হলি আর্টিজানের মালিক আমাদের খোঁজ-খবর নেন। জঙ্গিদের ফাঁসির রায় হলেও আমাদের পরিবারের ভবিষ্যত্ আগের মতোই অন্ধকারে আছে।’

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তত্কালীন বনানী থানার ওসি নিহত সালাহউদ্দিন খানের পরিবার। রায় ঘোষণার পর গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের ব্যাংকপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে সালাউদ্দিনের পরিবার ও স্বজনরা এই প্রতিক্রিয়া জানান। সালাউদ্দিনের বড়ো ভাই রাজু উদ্দিন খান রাজু সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার ভাই বনানী থানায় ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন এ হামলা হয়। সেখানে জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে সে শহিদ হয়। রায়ে জঙ্গিদের ফাঁসি হয়েছে। এ রায়ে আমি ও আমার পরিবার খুশি। আমি আশা করব, উচ্চ আদালত থেকে এ রায় দ্রুত কার্যকর হবে।’

একই কথা বলেছেন ওসি সালাউদ্দিন খানের স্ত্রী কিম খানসহ তার পরিবারের অন্যরা। কিম খান বলেন, ‘হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে বেঁচে আছি। আমি ও আমার সন্তানরা এ রায়ে খুশি।’

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে নিজের জীবন বিপন্ন করে জিম্মিদের বাঁচাতে হলি আর্টিজানে ছুটে গিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন খান। জঙ্গিদের ছোড়া বোমায় নিহত হন তারা।

একই ঘটনায় নিহত হন হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম। সে সময় রহস্যজনক কারণে জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হয় তার লাশ। বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার লাশ ফেরত্ পায়নি সাইফুলের পরিবার। সাইফুল ইসলাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কোলকাঠি গ্রামের মৃত হাসেম চৌকিদারের ছেলে। তার পরিবার জানায়, নিহতের সময় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা সাইফুলের স্ত্রী সানিয়া বেগমের কোল জুড়ে জন্ম নিয়েছে একটি ছেলে সন্তান। শিশুটির নাম রাখা হয় মোহাম্মদ হাসান। বাবার মৃত্যুর চার মাস পরে জন্ম নিয়েছে হাসান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সানিয়া বেগম বলেন, ‘বাবাকে দেখা হলো না আমার বাছার। আমার সন্তানদের আমি দেশপ্রেমী করে গড়ে তুলতে চাই। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ায় আমি খুশি।’

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে কেউ শাওন ও সাইফুলের পরিবারের খোঁজ নেয়নি। ঐ রেস্তোরাঁয় কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। ঐ পাঁচ জনের সঙ্গে আরো এক জনকে জঙ্গি উল্লেখ করে ‘৬ জঙ্গি’ বলা হয়। ঐ এক জন হচ্ছেন হলি আর্টিজানের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। নিহত পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে তার লাশটিও জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এ ঘটনা তদন্ত করে সাইফুলের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পায়নি। এখনো সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের পরিবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

অপর পরিবারটি হলো র্যাবের হাতে আটক হলি আর্টিজানের ডিশ ক্লিনার জাকির হোসেন শাওনের পরিবার। ঐ বছরের ৮ জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান শাওন। পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের লোকজন শাওনকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শাওনের বিরুদ্ধে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পায়নি হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT