রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:০৯ অপরাহ্ণ

রায়পুরে বছর না ঘুরতেই ‘বীর নিবাস’ ভবনে ফাটল!

প্রকাশিত : ০৩:৫৭ AM, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ৩০৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

নির্মাণের এক বছর না যেতেই লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত পাঁচটি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ভবনে ভেঙে গেছে দরজা, এমনকি বেঁকে গেছে জানালাও। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই সব ভবনে বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, লাল-সবুজ রঙে রাঙানো বাড়ির সামনে পাথরের ফলকে লেখা ‘বীর নিবাস’। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। অধিকাংশ ভবনের ভেঙে গেছে দরজা এমনকি বেঁকে গেছে জানালাও। ভবনের অনেক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করায় জানালা খুলে পড়ছে।

উপজেলার কেরোয়া ইউপির মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আলী একটি পাকা ভবন পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে এই নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের তিনি নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে বার বার বলেছিলেন। কিন্তু তারা এই ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেননি। এক বছর পার হওয়ার আগেই তার ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। নিম্নমানের কাঠ দেয়ায় দরজা-জানালা বাঁকা হয়ে গেছে, যা লাগানো সম্ভব হয় না। নষ্ট হয়ে গেছে নলকূপটিও।

বামনী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণের সময় আমি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারকে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারে নিষেধ করি এবং এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাই। তখন তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এখন ঘরের প্রায় দরজাই ভাঙা, আটকানো যায় না। এমনভাবে ফাটল ধরেছে ঘরের মধ্যে থাকতে ভয় পাচ্ছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির পক্ষ থেকে রায়পুরে পাঁচটি ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রতিটি ভবনের জন্য ৯ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৮ টাকার মূল্য নির্ধারিত হয়। ঠিকাদাররা দরপত্র পেতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় দিয়ে নির্মাণ করায় খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে চার কক্ষের একটি একতলা ভবন, পাশে একটি টয়লেট, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি রাখার দুটি ঘর এবং একটি নলকূপ রয়েছে। পাঁচটি ভবন নির্মাণের মধ্যে চারটি ভবন নির্মাণের দরপত্র পায় জেলার মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজ ও অন্যটি পায় জেলার মেসার্স রিয়া অ্যান্ড ব্রাদাস। ২০১৮ সালের মধ্যে রায়পুর উপজেলার সব কাজ শেষ হয়েছে।

রায়পুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিজাম পাঠান বলেন, সরকারের দেওয়া এই ‘বীর নিবাস’ পেয়ে মহাখুশি ছিলেন ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। কিন্তু যাদের জীবনের বিনিময়ে এই দেশ, সেখানে তারাও রেহাই পান না দুর্নীতির কালো থাবা থেকে। এসব বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বেশ কয়েকবার উপজেলা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাননি।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ভবন হস্তান্তরের সময় শতভাগ কাজ বুঝে নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারের দেওয়া হয়েছে। তার পরও এক বছরের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদার মেরামত করে দেবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ করা খুবই স্পর্শকাতর। ক্ষতির তুলনায় তাদের অভিযোগ বেশি। রায়পুরের ইউএনও সাবরীন চৌধুরী বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ভবন ফাটলের অভিযোগ পেলে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এলজিইডির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT