রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

রায়গঞ্জে বেশির ভাগ ইট ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই!

প্রকাশিত : ০৫:৩৯ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৩০৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাড়ছে ইটভাটা। ৫৬টি ইটভাটা এক উপজেলাতেই। ৫৬টির মধ্যে ৪০টির অনুমোদন নেই। এত সংখ্যক ইটভাটার উত্তাপে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে জীব-বৈচিত্র্য। কমছে ফসলি জমি। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ কমিটি আছে। কিন্তু নেই তাদের নজরদারি। ফলে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে আরো ইটভাটা তৈরির কথা ভাবছে অনেকে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার মোট ইটভাটার সংখ্যা ১১৮টি। জেলায় উপজেলার সংখ্যা নয়টি। তার মধ্যে শুধু রায়গঞ্জ উপজেলাতেই ইটভাটার সংখ্যা ৫৬টি। এর মধ্যে সনাতন পদ্ধতির ছয়টি এবং জিগজ্যাগ ৫০টি। এই উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ইটভাটার গড় সংখ্যা ৬.২২টি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আরশেদ আলী জানান, আবাদি জমি রক্ষায় সরকারি নীতিমালা মানছে না ইটভাটা মালিকরা। দুই-তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা করা যাবে না। টপ সয়েল পোড়ানোর কারণে মাটির উর্বরতা হারাচ্ছে। কৃষি জমি কমে গেলে আমরা আবাদ করব কিভাবে? রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের প্রত্যেক মাসিক সমন্বয় সভার রেজুলেশনে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের কথা লেখা থাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না বলে তিনি জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নজরুল ইসলাম বলেন,‘ইটভাটায় নির্গত কার্বন প্রাণিজগতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনে। হুমকির মুখে পড়ে জীব-বৈচিত্র্য। বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুমোদনহীন এক ভাটা মালিক বলেন, ভাটা নির্মাণের জন্য যে আইন বলবত্ আছে তা প্রতিপালন করে দেশের কোথাও ভাটা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে ভাটা করা হয়েছে; ভ্যাট ট্যাক্স সবই দেয়া হয়। এমতাবস্থায় ভাটা বন্ধ করা হলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ খান বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমিও অনুমোদনহীন ভাটা বন্ধের পক্ষে। তবে আইন মেনে অনুমোদন দিলে রায়গঞ্জে একটি ইটভাটাও স্থাপন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আইনে আছে এলজিইডির সড়ক ব্যবহার করা যাবে না, আবাদি জমি, টপ সয়েল কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এর কোনোটাই মানা যায় না বলে জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়ার পরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, ইটভাটা স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সব ঠিকঠাক থাকলে আমরা পরিবেশের ছাড়পত্র দিয়ে থাকি। ইটভাটা মালিকরা আইন অমান্য করলে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় প্রশাসন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মাদ বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জমিতে একইঞ্চি পুরু টপ সয়েল তৈরি হতে ১০০ থেকে ৭০০ বছর সময় লাগে। যা কৃষির জন্য খুবই জরুরি। সেই টপ সয়েল পুড়িয়ে ইট তৈরির বিকল্প ভাবনা ভাবতে হবে আমাদের। রায়গঞ্জের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগামী মৌসুমের আগেই পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে অনুমোদনবিহীন ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT