রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাসূল (সা.) এর বাণী

প্রকাশিত : 05:42 AM, 26 November 2019 Tuesday ৬২ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

দুনিয়াতে যারা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কোরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। নবীর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস বা বাণী। এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি-

২য় পর্বের পর থেকে…

মুহাজির:

(১১৭) মুহাজির সে, যে আল্লাহর নিষেধ করা কাজ ত্যাগ করে। (সহিহ বুখারী)।

শোকর ও সবর:

যে খেয়ে শোক আদায় করে, সে ধৈর্যশীল রোজাদারের সমতূল্য। (তিরমিযী)।

(১১৯) সবর হলো আলো। (সহিহ মুসলিম)

ধোকা হিংসা বিদ্বেষ:

(১২০) যে কাউকেও প্রতারণা করলো সে আমার লোক নয়। (সহিহ মুসলিম)।

(১২১ ) সাবধান! তোমরা হিংসা করা থেকে আত্মরক্ষা করো। (আবু দাউদ)।

(১২২) তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, ঘৃণা বিদ্বেষ কারো না এবং পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (সহিহ মুসলিম)।

শিশু:

(১২৩) শিশুরা আল্লাহর ফুল। (তিরমিযী)।

পরিজনের কাছে উত্তম:

(১২৪) তোমাদের মাঝে উত্তম লোক সে, যে তার পরিবার পরিজনের কাছে উত্তম। (ইবনে মাজাহ)।

জনসেবা:

(১২৫) রোগীর সেবা করো এবং ক্ষুধার্তকে খেতে দাও। (সহিহ বুখারী)।

(১২৬ আল্লাহ সকল কিছুর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখাবার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম)।

(১২৭) আল্লাহ ততোক্ষণ বান্দাহর সাহায্য করেন, যতোক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে। (সহিহ মুসলিম)।

(১২৮) যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। (সহিহ বুখারী)।

(১২৯) তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করো না। (তিরমিযী)।

ব্যক্তিত্ব গঠন:

(১৩০) মুসলমান ব্যক্তির ইসলামনের সৌন্দর্যগুলোর একটি হলো, নিরর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা। (তিরমিযী)।

(১৩১) লজ্জা ঈমানের অংশ। (মিশকাত)।

(১৩২) যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছে চেয়ো। (মিশকাত)।

আল্লাহকে স্মরণ করা:

(১৩৩) যে তার প্রভুকে স্মরণ করে, আর যে করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো। (সহিহ মুসলিম)।

সত্য কথা:

(১৩৪) সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত। (ইবনে হিব্বান)।

কর্মকৌশল:

(১৩৫) প্রচেষ্টার চেয়ে বড় কোনো যুক্তি নাই। (ইবনে হিব্বান)।

নিন্দুক:

(১৩৬) কোনো নিন্দুক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী)।

রাগ:

(১৩৭) রাগে উত্তেজিত হলে চুপ করে থাকো। (আদাবুল মুফরাদ)।

(১৩৮) তোমাদের কেউ যখন উত্তেজিত হবে, সে যেনো ওজু করে আসে। (আবু দাউদ)।

অহংকার:

(১৩৯) যার মনে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহিহ মুসলিম)।

সালাম:

(১৪০) তোমাদের মাঝে সালাম আদান প্রদানের ব্যাপক প্রচলন করো। (সহিহ মুসলিম)।

(১৪১) সবচেয়ে কৃপণ লোক সে, যে সালাম আদান প্রদানে কৃপণতা করে। (তিবরানী)।

দয়া ও ভালবাসা:

(১৪২) যারা পৃথিবীতে আছে তাদের দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাকে দয়া করবেন। (মিশকাত)।

(১৪৩) যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। (সহিহ বুখারী)।

(১৪৪) তোমরা মুমিন হবে না যতোক্ষণ একে অপরকে ভালবাসবে না।

শরীরের অধিকার:

(১৪৫) তোমার ওপর তোমার শরীরের অধিকার রয়েছে। (সহিহ বুকারী)।
ব্যাখ্যা : শরীরের অধিকার হলো, শরীর সুস্থ রাখা ও বিশ্রাম নেয়া।

প্রতিবেশীর অধিকার:

(১৪৬) প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দর সহানুভূতির আচরণ করো, তবেই মুমিন হবে। (মিশকাত)।

(১৪৭) সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট পূরে খায় আর পাশেই তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (বায়হাকী):

প্রাচুর্য

(১৪৮) মনের প্রাচুর্যই আসল প্রাচুর্য। (সহিহ বুখারী)।

(১৪৯) আল্লাহ তোমার ভাগে যা রেখেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই হবে সবচেয়ে প্রাচুর্যশালী। (মিশকাত)।

(১৫০) যার উদ্দেশ্য হয় পরকাল লাভ করা, আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দান করেন। (তিরমিযী)।

জান্নাত ও জাহান্নাম:

(১৫১) জান্নাত এতই আকর্ষণীয় যে, তার আকাংখীর চোখে ঘুম আসে না। (তিবরানী)

(১৫২) দোযখ এতোই ভয়াবহ যে, তার থেকে পলায়নকারীর চেখে ঘুম আসে না। (তিবরানী)।

মনের মরিচিকা:

(১৫৩)মনের মধ্যে লোহার মতোই মরিচিকা পড়ে।। আর তা দূর করার উপায় হলো ক্ষমা প্রর্থনা করা। (বায়হাকী)

অধীনস্থ:

(১৫৪) অধীনস্থদের সঙ্গে নিকৃষ্ট আচরণকরী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (আহমদ)।

মৃতদের গালি না দেয়া:

(১৫৫) মৃতদের গালি দিয়ো না।

উড়ো কথা প্রচার না করা:

(১৫৬) প্রতিটি শোনা কথা বলে বেড়ানোটাই মিথ্যাবাদী হবার জন্যে যথেষ্ট। (সহিহ মুসলিম)।

মর্যাদা দান:

(১৫৭) মর্যাদা অনুযায়ী মানুষকে সমাদর করো। (আবু দাউদ):

সতর্কতা:

(১৫৮) মুমিন এক পাথরে দুইবার হোঁচট খায় না। (সহিহ বুখারী)।

অট্টহাসি:

(১৫৯) অধিক হাসাহাসি অন্তরকে মেরে ফেলে। (তিবরানী)।

সন্তান:

(১৬০) তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা দান করো এবং তাদের সুন্দর আচার ব্যবহার শিখাও। (ইবনে হিব্বান)।

শক্তিমান কে?

(১৬১) শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। (সহিহ মুসলিম)।

অধ:পতন:

(১৬২) যার কর্ম তাকে ডুবায়, তার বংশ তাকে উঠাতে পারে না। (সহিহ মুসলিম)।

শাসক হবে তেমন:

(১৬৩) তোমরা হবে যেমন, তোমাদের শাসকও হবে তেমন। (মিশকাত)।

অপরের দোষ:

(১৬৪) যে ব্যক্তি একজন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। (সহিহ মুসলিম)।

আল্লাহর বিধান পালন:

(১৬৫) হারাম থেকে বেঁচে থাকো, আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করবেন। (তিরমিযী)।

সৌভাগ্য:

(১৬৭) আল্লাহর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট থাকতে পারা আদম সন্তানের একটি সৌভাগ্য। (তিরমিযী)।

কী নিয়ে উঠবে?

(১৬৮) প্রতিটি বান্দা কেয়ামতে তাই নিয়ে উঠবে, যা নিয়ে সে মরেছে। (সহিহ মুসলিম)।

নেতা:

(১৬৯) নেতা হবে মানুষের সেবক। (দায়লমী)।

(১৭০) তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

(১৭১) মানুষের অবস্থা উটের মতো, একশটি উটের মধ্যেও একটি ভালো সোয়ারী পাওয়া যায় না। (সহিহ মুসলিম)।

জামাতবদ্ধতা:

(১৭২) জামাদের প্রতি আল্লাহর রহমত থাকে। যে জামাত ত্যাগ করে, সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়। (তিরমিযী):

মতভেদ:

(১৭৩) মতভেদ কারো না। তোমাদের পূর্বে যারা মতভেদ করেছিল, তারা ধ্বংস হয়েছে। (সহিহ বুখারী)

আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি:

(১৭৪) গোটা সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবারের জন্যে বেশি উপকারী, সে তাঁর কাছে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ (সা.):

(১৭৫) আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) চাইতে অধিক সুন্দর কোনো কিছু দেখিনি। (আবু হুরাইরা (রা.) তিরমিযী)।

(১৭৬) আমি কাউকেও রাসূলুল্লাহর (সা.) চাইতে দ্রুত চলতে দেখিনি। (আবু হুরাইরা (রা.) তিরমিযী)।

(১৭৭) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি ‘না’ বলেছেন, এমন কখনো হয়নি। (জাবির: সহিহ বুখারী)।

(১৭৮) রাসূলুল্লাহ (সা.) রোগীর সেবা করতেন এবং কফিনের সঙ্গে যেতেন। (আনাস (রা.) ইবনে মাজাহ)।

(১৭৯) রাসূলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় চুপ থাকতেন। (জাবির বিন সামু (রা.) শরহে সুন্নাহ)।

(১৮০) রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কথা বলতেন, তখন কেউ ইচ্ছে করলে তাঁর বক্তব্যের শব্দ সংখ্যা গুণে নিতে পারতো। (আয়েশা (রা.) সহিহ বুখারী)।

(১৮১) রাসূলুল্লাহ (সা.) কথা বলতেন থেমে থেমে স্পষ্ট করে। (জাবির (রা.) আবু দাউদ)।

(১৮২) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে বিনিময়ে তিনি খারাপ ব্যবহার করতেন না, বরং ক্ষমা করে দিতেন এবং উপেক্ষা করতেন। (আয়েশা (রা.) তিরমিযী)।

(১৮৩) আমি প্রেরিত হয়েছি রহমত হিসেবে। (সহিহ মুসলিম)।

(১৮৪) সুখবর তার জন্যে, যে আমাকে দেখেছে। সাতবার সুখবর ওই ব্যক্তির জন্যে যে আমাকে দেখেনি, অথচ আমার প্রতি ঈমান এনেছে। (আহমদ)। চলবে…

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT