রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাসূল (সা.) এর বাণী

প্রকাশিত : 06:40 AM, 24 November 2019 Sunday ২৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ (সহিহ বুখারী)।

দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কোরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। নবীর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস। এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি।

১ম পর্বের পর থেকে…

আল্লাহর ভয়:

(৫৭) জ্ঞানের মাথা হলো আল্লাহকে ভয় করা। (মিশকাত)।
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ যে আল্লাহকে ভয় করে সে-ই সবচেয়ে বড় জ্ঞানী।

(৫৮) আল্লাহকে ভয় করো, তাতেই সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হতে পারবে। (মিশকাত)।

(৫৯) একজনের ওপর আরেকজনের কোনো মর্যাদা নেই। তবে আছে আল্লাহ ভীতি ভিত্তির। (তিবরানী)।

(৬০) সে ব্যক্তি দোজখে প্রবেশ করবে না, যে আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। (তিরমিযী)।

শ্রেষ্ঠ আমল:

(৬১) শ্রেষ্ঠ আমল হলো, আল্লাহর জন্যে ভালবাসা এবং আল্লাহর জন্যে ঘৃণা করা। (আবু দাউদ)।

বিশ্বস্ততা:

(৬২) যার মধ্যে আমানত নেই তার ঈমান নেই। (মিশকাত)।
শব্দার্থ : আমানত মানে- বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসযোগ্যতা।

(৬৩) যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার ধর্ম নেই। (মিশকাত)।

দুনিয়ার জীবন:

(৬৪) দুনিয়া মুমিনের জন্যে কারাগার আর কাফিরের বেহেশত। (সহিহ মুসলিম)।

(৬৫)দুনিয়াতে এমনভাবে জীবন যাপন করো যেনো তুমি একজন গরীব কিংবা পথিক। (সহীহ বুখারী)।

(৬৬) অনাড়ম্বর জীবন যাপন ঈমানের অংশ। (আবু দাউদ)।

মসজিদ:

(৬৭) পৃথিবীতে মসজিদগুলোই আল্লাহর সবচাইতে প্রিয় জায়গা। (সহিহ মুসলিম)।

(৬৮) আমার জন্যে গোটা পৃথিবীকেই সিজদার জায়গা এবং পবিত্র করে দেয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারী)।

(৬৯) যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ বানায়, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্যে একটি ঘর বানায়। (সহিহ বুখারী)।

মুয়াজ্জিন:

(৭০) কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের ঘাড় সবচেয়ে লম্বা উঁচু হবে। (সহিহ মুসলিম)।

নিজের জন্যে পরের জন্যে:

(৭১) নিজের জন্যে যা পছন্দ করো, অন্যদের জন্যেও তাই পছন্দ করবে, তবেই হতে পারবে মুমিন। (সহিহ মুসলিম):

(৭২) তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতোক্ষণ সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যেও তাই পছন্দ না করবে। (সহিহ বুখারী)।

আল্লাহই যথেষ্ট:

(৭৩) যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। (ইবনে মাজাহ)।

জ্ঞানী:

(৭৪) জ্ঞানীরা নবীদের উত্তরাধিকারী। (তিরমিযী)।

(৭৫) জ্ঞানবান আর দুনিয়াদার সমান নয়। (দারেমী)।

(৭৬) সবচেয়ে মন্দ লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা মন্দ তারা, আর সবচেয়ে ভালো লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা ভালো তারা। (দারমী)।

(৭৭) প্রতিটি জ্ঞান তার বাহকের জন্যে বিপদের কার‌ণ, তবে যে সে অনুযায়ী আমল (কাজ) করে তার জন্যে নয়। (তাবরানী)।

শিক্ষক:

(৭৮ ) আমি প্রেরিত হয়েছি শিক্ষক হিসেবে। (মিশকাত)।

(৭৯) শিক্ষাদান করো এবং সহজ করে শিখাও। (আদাবুল মুফরাদ)।

সুধারণা কুধারণা:

(৮০) সুধারণা করা একটি ইবাদত। (আহমদ)।

(৮১) অনুমান ও কুধারণা করা থেকে বিরত থাকো, কেননা অনুমান হলো বড় মিথ্যা কথা। (সহিহ বুখারী)।

যুলম:

(৮২) যুলম করা থেকে বিরত থাকা। কেননা, কিয়ামতের দিন যুলম অন্ধকারের রূপ নেবে। (সহিহ মুসলিম)।

(৮৩) মযলুমের ফরিয়াদ থেকে আত্মরক্ষা করো। (সহিহ বুখারী)।

ভ্রাতৃত্ব:

(৮৪) মুমিন মুনিনের ভাই। (মিশকাত)।

(৮৫) মুসলমান মুসলমানের ভাই। (সহিহ বুখারী)।
নোট : এ দু’টি হাদিসে ঈমান এবং ইসলামকে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি বলা হয়েছে।

ভ্রাতৃত্বের দায়িত্ব:

(৮৬) মুমিন মুমিনের আয়না। (মিশকাত)।
শিক্ষা : আয়না যেমন ময়লা দূর করতে এবং সাজ সৌন্দর্য গ্রহণ করতে সাহায্য করে, তেমনি একজন মুমিনের কর্তব্য তার মুমিন ভাইয়ের দোষ ত্রুটি দূর ও সুন্দর গুণাবলী অর্জন করার কাজে সাহায্য করা।

(৮৭) মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের প্রতি যুলম করে না এবং তাকে অপমানিতও করে না। (সহীহ মুসলিম)।

(৮৮) মুমিন মুমিনের সঙ্গে প্রাচীরের গাঁথুনির মতো মজবুত সম্পর্ক রাখে। (সহীহ বুখারী)।

(৮৯ ) মুমিন ছাড়া অন্যকে সাথী বন্ধু বানাবে না। (মিশকাত)

সুস্কৃতি দুস্কৃতি:

(৯০) যে ভালো কাজের আদেশ করে না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে না, সে আমার লোক নয়। (তিরমিযী)

বিনয়:

(৯১ ) যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মিশকাত)।

বিশ্বাস ভঙ্গ করা:

(৯২) যে তোমার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, তুমি তার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করো না। (তিরমিযী)।

আনুগত্য ও নেতৃত্ব:

(৯৩) যে নেতার আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল। (সহিহ বুখারী)।

(৯৪) যে নেতার অবাধ্য হলো সে আমার অবাধ্য হলো। (সহিহ বুখারী)।

(৯৫) যে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তার আনুগত্য করা যাবে না। (কানযুল উম্মাল)।

(৯৬) কারো এমন হুকুম মানা যাবে না, যাতে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে হয়। (সহিহ মুসলিম)।

(৯৭) যে নেতা হয়, তাকে সবার চেয়ে দীর্ঘ হিসাব চেয়ে দীর্ঘ হিসাব দিতে হবে। (কানযুল উম্মাল)।

দান:

(৯৮) দান হচ্ছে একটি প্রমাণ। (সহিহ মুসলিম)।

(৯৯) যে আল্লাহর পথে একটি দান করে, আল্লাহ তার জন্যে সাত’শ; গুণ লিখে দেন। (তিরমিযী)।

(১০০) দান সম্পদ কমায় না। (তিবরানী)।

ভালো ব্যবহার:

(১০১ ) যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেনো উত্তম কথা বলে। (সহিহ বুখারী)।

(১০২ ) তোমার ভাইয়ের দিকে হাসি মুখে তাকানো একটি দান।(তিরমিযী)।

(১০৩) যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞ হয় না। (আবু দাউদ)।

অর্থ ও আল্লাহ ভীতি:

(১০৪) যে আল্লাহকে ভয় করে, তার ধনী হওয়াতে দোষ নেই। (মিশকাত)।

(১০৫) যে আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্যে অর্থের প্রাচুর্যের চেয়ে শারীরিক সুস্থতা উত্তম। (মিশকাত)।

সত্য মিথ্যা:

(১০৬) সত্য দেয় মনের শান্তি আর মিথ্যা দেয় সংশয়। (তিরমিযী)।

প্রফুল্লতা:

(১০৭) মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর একটি অনুগ্রহ। (মিশকাত)।

ক্ষতিগ্রস্থ লোক:

(১০৮) যার দু’টি দিন সমান গেল, সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (দায়লমী)।
ব্যাখ্যাঃ হাদিসটির মর্ম হলো, যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে এক ধাপ উন্নত কতে পারে না, কিছু‌টা এগিয়ে নিতে পারে না, সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিছিয়ে পড়ে।

ভালো মানুষ:

(১০৯) তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। (ইবনে মাজাহ)।

খাবার আদব:

(১১০) ডান হাতে খাও এবং যা নিকটে তা থেকে খাও। (সহিহ বুখারী)।

মেহমানদারি:

(১১১) যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেনো নিজের মেহমানকে সম্মান-যত্ন করে। (সগিহ বুখারী)

ভালো কাজ:

(১১২) প্রতিটি ভালো কাজ একটি দান। (সহিহ বুখারী)।

(১১৩) উত্তম লোক সে, যার বয়স হয় দীর্ঘ আর কর্ম হয় সুন্দর। (তিরমিযী)।

মুসলমানের অধিকার:

(১১৪) মুসলমান সে, যে নিজের অনিষ্টকর ভাষা ও কর্ম থেকে মুসলমানদের নিরাপদ রাখে। (সহিহ বুখারী)।

(১১৫) মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী আর হত্য করা কুফরী। (সহিহ বুখারী)।

(১১৬) প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে অপর মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত সম্মানযোগ্য। (সহিহ মুসলিম)।
ব্যাখ্যা : হাদিসটির অর্থ এভাবেও বলা যায়: মুসলমানের জন্যে মুসলমানের রক্তপাত করা এবং সম্পদ ও ইজ্জত নষ্ট করা হারাম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT