রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:২৭ অপরাহ্ণ

রফতানি আয়ে বড় ধাক্কা

প্রকাশিত : ০৭:৩১ AM, ৭ অক্টোবর ২০১৯ Monday ১১৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে সাড়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে এসে বড় ধাক্কা খেল দেশের রফতানি আয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসেও রফতানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ কোটি ডলার কমেছে। একই সঙ্গে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুইই কমেছে। রোববার প্রকাশিত রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে আগের অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের থেকে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের রফতানি আয় কম হয়েছে। এ ছাড়া এ সময় রফতানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ওই তিন মাসে মোট ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ইউএস ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৯৯৪ কোটি ডলার। সে হিসেবে রফতানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ আয় কম হয়েছে। এ সময় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের সব অর্ডার ভিয়েতনাম-ভারতে চলে যাচ্ছে। সরকারের পলিসি সাপোর্ট ছাড়া এই খারাপ অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব না। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যেটা মনে হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে। আর তাতে এবার লক্ষ্য পূরণ হওয়া তো দূরের কথা প্রবৃদ্ধিও কম হবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকের নিট ও ওভেন উভয় খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জিত হয়নি। পোশাক খাতে মোট রফতানি আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রফতানি করে ৪১৭ কোটি ডলার আয় হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাত দশমিক ২০ শতাংশ কম। এ আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রফতানি করে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল খাতের প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা কোনোটাই পূরণ হয়নি। তবে আলোচ্য সময়ে হিমায়িত খাদ্যপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হলেও অন্য প্রধান রফতানি আয়ের খাত ওষুধ, প্লাস্টিক খাতে রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতেও আয় ভালো হয়েছে। তবে চামড়ার জুতা রফতানিতে আয় নেতিবাচক। এ ছাড়াও পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্যে ইতিবাচক আয় হয়েছে।

বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, প্রথম প্রান্তিকের রফতানি আয়ে ইতিবাচক অবস্থা না হলেও আমাদের আশা আগামী প্রান্তিকের সময়গুলোতে ইতিবাচক হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এজন্য সরকারের নীতি সহায়তার প্রয়োজন। কেননা ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের ডলারের বিপরীতে রূপীর দরপতনে তারা আমাদের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো করছে। এখানে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষতা হারাচ্ছে। এ ছাড়া কারখানায় অটোমেশনেও পোশাক খাতের উদ্দ্যোক্তারা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT