রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কলমাকান্দায় যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ◈ তাহিরপুরে দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাথে থানা পুলিশের মতবিনিময় ◈ ভালুকায় তিতাস গ্যাস অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি এখন ‘নিয়ম’ ◈ করোনার কারনে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানের ৮৫ স্কুল ছাত্রী ◈ হামলার প্রতিবাদে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ◈ বেলান নদীর সাঁকো ভেঙে লাখো মানুষের ভোগান্তি ◈ সেলিম মন্ডল কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী ◈ চরম আর্থিক সংকটে নির্বাচন থেকে পিছু হটলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জসিম ◈ ভূঞাপুরে “প্রতিভা ছাত্র সংগঠন” এর চারা রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন ◈ ফুলবাড়ীয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার

রক্ত কী এবং এর কাজ কী?

প্রকাশিত : ০৭:১৭ AM, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ৪২৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এই অস্বচ্ছ লাল তরল পদার্থটি শরীরের অভ্যন্তরীণ এক পরিবহন মাধ্যম। এটি বাহিত হয় শিরা বা ধমনীর মধ্য দিয়ে। দেহের প্রতিটি টিস্যুতে পৌঁছে দেয় খাবার ও অক্সিজেন।

টিস্যুর বৃদ্ধি ও ক্ষয়রোধের জন্যে এ খাবার ও অক্সিজেন অপরিহার্য। এছাড়া দেহের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হরমোন রক্তের মাধ্যমেই পৌঁছে যায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, নিশ্চিত করে ঐ অঙ্গের কর্মক্ষমতাকে। রক্ত টিস্যুর বর্জ্যগুলো বের করে দেয়।

কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে বয়ে আনে ফুসফুসে, দেহের বাইরে বের করে দেয়ার জন্যে। বাড়তি উপাদানগুলোকে পরিবহন করে নিয়ে যায় কিডনিতে, যাতে দেহের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে রক্ত সাহায্য করে।

দেহের অন্যান্য তরল পদার্থগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। যখন দেহ রোগাক্রান্ত হয়, তখন রক্তই প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে জীবাণুর বিরুদ্ধে। দেহের অভ্যন্তরে এসিড এবং ক্ষারের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখাও রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

প্রতি ফোঁটা রক্তে রয়েছে ২৫০ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি লোহিতকণিকা, চার লাখ শ্বেতকণিকা ও ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি প্লাটিলেট। এ কণিকগুলো অনুজ্জ্বল হলদে রঙের এক তরল প্লাজমার মধ্যে ডুবে থাকে।

লোহিতকণিকাগুলো ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ড হয়ে সারা দেহে অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যায় এবং সারা দেহের কোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। শ্বেতকণিকা দেহ-আক্রমণকারী জীবাণুকে ধ্বংস করে। আর জখমস্থানে রক্তকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে প্লাটিলেট। প্লাজমা এসব রক্তকণিকাগুলোকে সারা দেহে বয়ে নিয়ে বেড়ায়। পাশাপাশি রাসায়নিক পদার্থ ও পুষ্টি সরবরাহ করে দেহের বিভিন্ন অংশে।

প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একজন মানুষের হৃৎপিণ্ড ১২ হাজার মাইল রক্তবাহী শিরা ও ধমনীর মধ্য দিয়ে আট হাজার গ্যালন রক্ত পাম্প করে। হৃৎপিণ্ড সবসময়ই রক্ত পাম্প করছে। স্বাভাবিক অবস্থায় পাম্প করা রক্তের শতকরা ১৫ ভাগ সরাসরি চলে যায় মস্তিষ্কে, ২৫ ভাগ যায় কিডনিতে। পেশিগুলোতে যায় ২০ ভাগ। হৃৎপিণ্ডের নিজেরও পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন হয়।

রক্ত উপাদান

চাইলেই একজন মানুষের শরীর থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা যাবে না। তার কারণ মানুষের রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। রক্তের লোহিতকণায় ও রক্তরসে রাসায়নিক উপাদানগত কিছু তারতম্য রক্তের এই শ্রেণি বিভাগের কারণ। বিভিন্ন ধরনের রক্তগ্রুপ থাকলেও রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে কেবল ABO গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তের লোহিতকণার আবরণে বিশেষ বিশেষ ধরনের যৌগিক পদার্থ থাকে, যাকে বলে এন্টিজেন। দুই ধরনের এন্টিজেন রয়েছে। একটির নাম A অপরটির নাম B।

রক্তের লোহিতকণার আবরণে শুধু A এন্টিজেন থাকলে রক্তের গ্রুপ হবে A, শুধু B এন্টিজেন থাকলে রক্তের গ্রুপ হবে B, A ও B উভয় এন্টিজেন থাকলে রক্তের গ্রুপ হবে AB আর A বা B কোনো এন্টিজেন-ই না থাকলে রক্তের গ্রুপ হবে O.

লোহিতকণার আবরণে যেমন এন্টিজেন থাকে তেমনি রক্তরসে থাকে এন্টিবডি, সাধারণত দুই ধরনের এন্টিবডি দেখা যায়- Anti-A এবং Anti-B।

বিপরীতধর্মী Antigen ও Antibody পরস্পরকে ধ্বংস করে। এজন্যে যার রক্তকণায় A এন্টিজেন (Blood Group-A) রয়েছে, তার রক্তরসে আছে Anti-B Antibody। তেমনি যার রক্তকণায় B Antigen (Blood Group-B) রয়েছে তার রক্তরসে আছে Anti-A Antibody।

যার রক্তকণায় A ও B উভয় Antigen-B রয়েছে (Blood Group-AB) তার রক্তরসে কোনো Antibody নেই। আর যার রক্তে AB কোনো Antigen-B নেই (Blood Group-O) তার রক্তরসে Anti-A এবং Anti-B উভয় Antibody-B রয়েছে।

রক্তসঞ্চালনের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার একই রক্তগ্রুপ হতে হবে। রক্তগ্রহীতাকে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেয়া হলে Antigen ও Antibody এর প্রতিক্রিয়ায় রক্তকণাগুলো ভেঙে গিয়ে তাল পাকিয়ে যায় ও রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে বিপদ, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

O গ্রুপের রক্তকণায় কোনো Antigen নেই। তাই O গ্রুপের অল্প পরিমাণ রক্ত যে-কোনো গ্রুপের মানুষের শরীরে দেয়া যায়। তাই O গ্রুপের দাতাকে সার্বজনীন দাতা বলে। AB গ্রুপের রক্তরসে কোনো Antibody নেই। তাই অন্য যে-কোনো গ্রুপের অল্প পরিমাণ রক্ত AB গ্রুপের মানুষের শরীরেও দেয়া যায়। তাই AB গ্রুপের মানুষকে সার্বজনীন গ্রহীতা বলে।

তবে সবসময় সঠিক গ্রুপের রক্তসঞ্চালনই নিরাপদ। অত্যন্ত জরুরি অবস্থা ছাড়া কখনোই সার্বজনীন দাতা বা সার্বজনীন গ্রহীতার ধারণার প্রয়োগ ঘটানো হয় না।

রক্তসঞ্চালনের ক্ষেত্রে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তগ্রুপ হলো রেসাস গ্রুপ বা রেসাস ফ্যাক্টর। রেসাস ম্যাকাকাস (Rhesus Macaqus) প্রজাতির ভারতীয় বানরের রক্তের লোহিত কণার আবরণে এক বিশেষ ধরনের যৌগ থাকে। যে মানুষের রক্তের লোহিতকণায় অনুরূপ যৌগ থাকে তাদের রক্তকে আরএইচ পজিটিভ বলা হয় আর যাদের রক্তে এই ধরনের যৌগিক পদার্থ থাকে না তাদের রক্তকে আরএইচ নেগেটিভ বলা হয়।

রক্তের গ্রুপ বলতে ABO কোনটি এবং তার সঙ্গে Rh Positive না Rh Negative বলতে হয়।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর রক্তের গ্রুপভিত্তিক হার

A= ২২.৪৪% B= ৩৫.২০% O= ৩৩.৯৭% AB= ৮.৩৯%

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর রক্তের রেসাস ফ্যাক্টর হার

Rhesus Positive = 97.44% Rhesus Negative = 2.56%

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT