রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৬:৪২ পূর্বাহ্ণ

রক্তের ফেরিওয়ালা  মিজানের উদ্যোগে ২৮ শ ব্যাগ  রক্তদান

প্রকাশিত : ০৮:০৯ PM, ৩ নভেম্বর ২০২০ Tuesday ১১৯ বার পঠিত

মাসুদ রানা, পত্নীতলা প্রতিনিধি:
alokitosakal

মাসুদ রানাঃ

নওগাঁর  পত্নীতলায় রক্তের ফেরিওয়ালা খ্যাত মিজানের রক্ত সংগ্রহ  ও দান ২৮ শ ব্যাগ ছাড়িয়ে গেছে।

‘‘যদি করেন রক্ত দান, বেঁচে যাবে একটি প্রাণ’’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্ত দান ও রোগীদের গ্রুপ অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া শুরু এক যুবকের । প্রায় ৬ /৭ বছরে এপর্যন্ত নিজেই অনেক বার স্বেচ্ছায় রক্ত দান করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার রোগীকে রক্ত দান   ও  মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্ত দানে উৎসাহিত করে তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দিয়েছে হাজার হাজার  ব্যাগ রক্ত। যার ফলে  বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের কাছে ‘রক্তের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি লাভ হয়েছে।  তাকে দেখলে বলে রক্তের ফেরিওয়ালা  আসছে।  মিজান যে তার নাম সেটা অনেকেই জানে না রক্তের ফেরিওয়ালা  হিসাবে চিনে।

রক্তের ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত সেই যুবকের নাম এ.জেড মিজান , তিনি ১৯৭৭ সালের ২৮ শে মে পত্নীতলার এক সমভ্রান্ত মুসলিম  পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা ,মানুষের সাথে মিশে থাকা হয়তো এ কারণে তার চাকুরী করা হয়নি ,নজিপর বাস্ট্যান্ডএলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী,   নজিপুর বাসষ্ট্যান্ড বণিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে  ৩ বার  নির্বাচিত হন এ জন্য  লোকজনের সাথে মেলামেশা আরও বেড়ে যায়।
মিজানের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় জানা যায়, কোনো একদিন এক রোগীর ও+ রক্তের প্রয়োজন পড়লে আমি তাকে এক ব্যাগ রক্ত দান করি, এতে ঐ পরিবারের যিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বেঁচে যান। ফলে পরিবারটি ধ্বংস হওয়ার থেকে বেঁচে যায়। আমার এক ব্যাগ রক্তের বিনিময়ে যে এত উপকার হবে ভাবতেই পারিনি। এ এক তৃপ্তিদায়ক শান্তি যা কখনো পরিবর্তন হবার নয়। তারপর মনে মনে নিয়ত করি যেভাবেই হোক আমি বা অন্যের থেকে রক্ত ম্যানেজ করে দিব ‘‘ ইনশা আল্লাহ’’। তারপর থেকে আল্লাহর রহমতে এই কাজ(রক্ত সংগ্রহ) চলছে। আমৃত্যু চলবে ‘‘ইনশা আল্লাহ’’ । এতে যারা রক্ত দান করেন তাদের সাথে কোন চুক্তি থাকে না আমাদের ব্যক্তিগত ভালোবাসার সম্পর্কের কারনে রক্তদাতারা রক্ত দান করেন। আসলে যারা রক্ত দান করেন তাদের মনও অনেক বড় এবং অন্যের উপকার করতে চান ফলে কাজটি সহজ হয়,  মুমূর্ষ রোগী ও পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো জনসাধারনের পাশে দাঁড়ানো। যেকোন মহৎ কাজে লোকজনকে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ পর্যন্ত কত জন কে রক্ত দিয়েছি তা গণনা করা সম্ভব না। রক্তের বিনিময়ে আমি রক্ত নেই না, তবে কেউ ইচ্ছা করে দিলে নেই। এই কাজটি একটি শিকলের মতো যিনি রক্ত পান উনার মাধ্যমে যেন আমি অন্যের কাছ থেকে রক্ত পাই সেই চেষ্ঠা করি। এটাতে অনেক বেগ পেতে হয়।
মানবতার কল্যাণে আমি  আমার এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার  মানুষের উপকার করতে চাই ।
মিজান বলেন  আমরা জীবন দিতেও পারি না বাঁচাতেও পারি না। কারন আমরা মানুষ। মানুষের উপকারে নিজেদেরকে উৎসর্গ করি, আসুন রক্ত দান করে অন্যের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করি।
কালের পরিবর্তে আজ রক্তের ফেরিওয়ালা মিজানের ‘রক্ত ভান্ডার’ হয়েছে অনেক সমৃদ্ধ, রক্ত দান  পেরিয়ে ২ হাজার ৮শ  ব্যাগ। যাতে উপকৃত হয়েছেন অনেক চেনা-জানার পাশাপাশি শত শত অজানা ব্যক্তিও। সৃষ্টিকর্তার করুণায় নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন কত-শত রোগী। যার পেছনে রয়েছে রক্তের ফেরিওয়ালা মিজানের অপরিসীম অবদান। কি রাত, কি দিন কারোও রক্তের প্রয়োজনে কেউ কোন সমস্যায় থাকলে এর সমাধান মানে মিজান। আর মিজান ও কাউকে নিরাশ করে না, যে কোন ভাবেই মিজান তার কাছে সাহায্য চাওয়া সেই ব্যক্তিটিকে রোগীর প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত মিলিয়ে দিবেই দিবে। গভীর রাত তিনি বাইকে করে ডোনারকে বাড়ী থেকে নিয়ে এসে আবার বাড়ীতে পৌঁছে দেন , মানুষের রক্তের গ্রুপ জানা, বিপদে থাকা মানুষকে সাহায্য করতে রক্ত দানে উৎসাহিত করতেই তার দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়।
রক্তের ফেরিওয়ালা মিজানের স্বপ্ন আর সে একা নয়, তার এ মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলে এগিয়ে আসছেন ,আর নিজের আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষরা স্বেচ্ছায় রক্ত দানে নিজ থেকে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসেন সেলক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন । ‘রক্তের অভাবে কাউকে মরতে দিবো না’ তার (মিজান ) প্রতিজ্ঞার মতো এ কথাটি হউক সকলের প্রেরণা। তিনি এলাকার হাস পাতাল ক্লিনিক সহ  নওগাঁ, রাজশাহী ,বগুড়া, এমনকি রাজধানির অনেক হাসপাতালে ভর্তি রোগিদের  ও রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছেন ।

তিনি আরও বলেন “মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য ”একজন সুস্থ মানুষ এক ব্যাগ রক্ত দিলে তার কিছু হবে না কিন্তু বিনিময়ে তার এক ব্যাগ রক্তের কারণে বেঁচে যাবে একটি জীবন তাই তিনি সকল সুস্থ মানুষকে রক্ত দানের জন্য আহবান জানিয়েছেন । আজ পর্যন্ত তার উদ্যোগে ২৮শ ৬ ব্যাগ রক্ত দান করা হয়েছে।

মিজানের মাধ্যমে রক্ত পাওয়া একাধিক রোগীর  স্বজনরা জানান , মিজান ভাই এগিয়ে না আসলে আমরা রোগী কে বাঁচাতে পারতাম না, বিপদের সময় সৃষ্টিকর্তাই যেন ওনাকে পাঠিয়ে দেন , মিজান ভাই অনেক ভাল মানুষ আল্লাহ তাকে র্দিঘ্যজীবী  করুক মানুষের কল্যাণে ।
তার এ মহৎ কাজের জন্য এলাকার সকল মহলে তিনি সমাদৃত ও  প্রশংশিত । রক্তের প্রয়োজনে এ জেড মিজান মোবাইল নং ০১৭১৮০৭৪১৭০

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT