রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে

প্রকাশিত : ০৪:৪১ AM, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার ৫২৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বহুল প্রচলিত একটি বাক্য দিয়েই শুরু করা যাক। বাক্যটি—‘যে জাতি তার নারীদের সম্মান করতে জানে না, সে জাতি কখনো সম্মানিত জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।’ আবার অপর এক সংলাপে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আল্লার পরে কাউকে সিজদা করার রেওয়াজ থাকত, তাহলে আমরা আমাদের মাকে সিজদা করতাম।’ সম্ভবত আমরা সেই শিক্ষা থেকে বেরিয়ে অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব কঠিন। তবে অসাধ্য নয়। বেরিয়ে আমাদের আসতেই হবে। আসতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা এক কালিমালিপ্ত জাতিতে পরিণত হব, যা আমাদের কারো কাম্য হতে পারে না।

সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি সংবাদ আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। সংবাদে বলা হয়, বয়ঃসন্ধিকালে প্রায় ৬০ ভাগ মেয়েশিশু পাবলিক পরিসরে যৌন হয়রানির শিকার হয়। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তথ্যকে ভয়াবহ উল্লেখ করে গবেষকরা বলেছেন, এতে করে বাল্যবিবাহের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীসমাজ। তারা আরো জানিয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় শতভাগ নারী মনে করেন—পাবলিক প্লেস ও অফিস-আদালতে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির বিচারে পৃথক বিশেষায়িত আইন দরকার। এ প্রশ্নে একটি কথা না বললেই নয়, শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আইনের প্রয়োগও থাকতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যাপারে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের চিন্তার পরিবর্তন ঘটানোর আগ পর্যন্ত সমাজ থেকে এ কালিমা দূরীভূত করা সম্ভব নয়। এ প্রশ্নে বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ খুবই জরুরি।

২০০৯ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনামূলক নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলেও এর পরিধি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। পরিবার থেকে শুরু করে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে নারীদের সম্মান করার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। পুরো জাতিকে ইনজেক্ট করে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে সাহায্য করতে হবে। শুরু হতে হবে প্রতিটি পরিবারের সংস্কৃতি এবং সেই সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে। পাশবিক চিন্তা থেকে নান্দনিক চিন্তায় টেনে আনার জন্য যে পরিকল্পনার প্রয়োজন—সম্মিলিতভাবে সে পরিকল্পনা উত্থাপন করতে হবে। জাতিকে পরিচালিত করতে হবে। আর এই গুরুদায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। সমাজব্যবস্থা থেকে অবক্ষয় নামের দুষ্টক্ষত সরানোর মধ্য দিয়েই পরিকল্পনা শুরু হোক। আমরা মনে করি, অবক্ষয় ঠেকানো সম্ভব হলে সমাজ থেকে দূর হতে পারে যৌন হয়রানি। শুধু যেন হয়রানিই নয়, যেকোনো অনৈতিক কাজই পরাজিত হতে পারে নৈতিকতার কাছে। আমরা সেদিনের প্রতীক্ষায় রইলাম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT