রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে ৩ ব্যক্তির ইবাদত কবুল হবে না

প্রকাশিত : 07:42 AM, 21 October 2019 Monday ৫০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ৩ ব্যক্তির নামাজ তাদের মাথার এক বিঘত ওপরেও ওঠে না: যে ব্যক্তি জনগণের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে; যে নারী তার স্বামীর অসন্তুষ্টিসহ রাত যাপন করে এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দুই ভাই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯৭১)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কান ডিঙায় না (কবুল হয় না)। পলায়নকারী দাস যে পর্যন্ত তার মালিকের কাছে ফিরে না আসে; যে মহিলা তার স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায় এবং যে ইমামকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা পছন্দ করে না। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০)

উপরোক্ত দুটি হাদিসের অন্যতম একটি অংশ হলো, ‘যে ব্যক্তি জনগণের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে।’ ‘ইমাম’, একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ নেতা। যিনি মসজিদে ইমামতি করেন, তিনি মসজিদসংলগ্ন এলাকার নেতা। একসময় এলাকার প্রধান কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানই সেখানকার ইমাম হতেন। ইমামতির সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত হচ্ছেন রাষ্ট্রপ্রধানই। যেহেতু এখন আর ইসলামী হুকুমত নেই, তাই এখন আর তেমনটা হয় না। এখানে ‘ইমাম’ শব্দ দ্বারা সব ধরনের জনপ্রতিনিধিকে বোঝানো হয়েছে, চাই তিনি মসজিদের হোন কিংবা এলাকার হোন কিংবা রাষ্ট্রের বা বিশ্বের। যদি তার অযৌক্তিক (ইসলামবিরোধী) কর্মকাণ্ডে তার অধীনস্থরা তার ওপর অখুশি হয়, তার ওপর অনাস্থা চলে আসে।

তাই সব ধরনের জনপ্রতিনিধিদের উচিত জনতার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা। জনবান্ধব হওয়া।

দ্বিতীয়ত, ওই সব নারী যে তার স্বামীর অসন্তুষ্টিসহ রাত যাপন করে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো পুরুষ নিজ স্ত্রীকে তার শয্যার দিকে ডাকলে সে যদি তাতে সাড়া না দেয়, অতঃপর তার স্বামী তার ওপর রাগান্বিত হয়ে রাত যাপন করে, তাহলে ফেরেশতারা তাকে সকাল পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৩৭)

তবে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা শরীয়ত সমর্থিত কোনো কারণ থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। মহান আল্লাহ কারো সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু কারো ওপর চাপিয়ে দেন না।

তৃতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে উপরোক্ত দুই হাদিসে দুই ধরনের বক্তব্য এসেছে। ১. পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দুই ভাই। ২. পলায়নকারী দাস যে পর্যন্ত তার মালিকের কাছে ফিরে না আসে।

বর্তমান যুগে যেহেতু দাসপ্রথা নেই, তাই এ বিষয়টা আর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রাখে না। কিন্তু শরীয়ত সমর্থিত কোনো কারণ ছাড়া কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুযোগ নেই।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রেখে থাকেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দুই ব্যক্তি ব্যতীত প্রত্যেক মুসলমানকে ক্ষমা করেন। তিনি (ফেরেশতাদের) বলেন, তারা সন্ধিতে আবদ্ধ হওয়া অবধি তাদের ত্যাগ করো। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৪০)

তাই নিছক নিজেদের হীন স্বার্থে কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার অবকাশ নেই। যদি শুধু আল্লাহর জন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক করা জরুরি হয়ে পড়ে, সেটা ভিন্ন কথা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT