রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

যেভাবে হলো ওয়েল গ্রুপের উত্থান

প্রকাশিত : ০৫:৩২ AM, ১৫ অগাস্ট ২০১৯ Thursday ২৭০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি। পারিবারিকভাবে সিন্ধান্ত হলো, আমাকে ব্যবসায়িক কাজে এখন থেকে ঢাকার থাকতে হবে। ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। জন্ম, বেড়ে ওঠা শিক্ষাদীক্ষা, রাজনীতি ও ব্যবসা সবকিছুই সূচনা আমার চট্টগ্রামে। অথচ এসব ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হবে। মনটা ভীষণ দমে গেল। এদিকে জীনাত মনে-মনে খুব খুশি। কারণ তার বেড়ে উঠা ঢাকায়। ওর মা-বাবা ভাই-বোনও থাকে ঢাকায়। সেখানে থাকতে হবে শুনে তার তো খুশি হবারই কথা। কিন্তু আমার মনের অবস্থা বুঝে আনন্দটা লকিুয়ে রাখল মনে হলো।

বড় ভাইয়ের একবন্ধুর সাথে পার্টনারশিপে সেলাই সুতো তৈরির কারখানা দিয়ে টাকায় ব্যবসা শুরু করি। একেবারে ছোটো পরিসরে। সাভারে স্থাপন করা হলো ওয়ের থ্রেড লিমিটেড। এস্কাদার ইঞ্জিনিয়ারের বানানো ৫টি উইন্ডিং মেশিন দিয়ে শুরু।

তবে পার্টনারশিপটা বেশিদিন টিকলো না। সিন্ধান্ত হলো যন্ত্রপাতি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে আর নতুন নামে ব্যবসা শুরু করবো। নতুন কোম্পানি গঠন করা হলো সানজি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে। আজকের ওয়েল গ্রুপ অব ইন্ডান্ট্রিজের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ইউনিট। দেশের বৃহত্তম সেলাই সুতো প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যাকে তৈরি পোশাকশিল্প সেক্টর ওয়েল থ্রেড নামে সকলে চেনেন। যেখানে এস্কান্দার ইঞ্জিনিয়ারের বানানো মেশিনগুলো এখনও স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতোমধ্যে পাশে বসে গেছে বিশ্বের বিখ্যাত সুইস অরিজিন এসএসএম ইউন্ডিং মেশিন। এদিকে কারখানা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম স্থানান্তারিত হলো, আর আমি রয়ে গেলাম ঢাকায়।

আর্থিক সীমাবন্ধতার কারণে প্রথম দিকে বউ বাচ্চাকে ঢাকায় আনতে সাহসে হয়নি। প্রায় এক বছর শ্বশুরবাড়িতে থেকে গেলাম। অনেকটা ঘরজামাই হয়ে। আজকের এই ব্যস্ততা তখন ছিল না। সকাল থেকে বিকেল অব্দি বায়িং অফিস আর গার্মেন্টস ফ্যাক্টারিতে।

ঘুরে-ঘুরে সুতো বিক্রি। বিকেলে অফুরন্ত সময়। কখানও বেইল রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে নাটক দেখি। কখনও রমনায় বসে বাদান চিবাই। তখনকার বিকেলটা যেন ফুরোতে চাইতো না কিছুতেই। বৃহস্পতিবারটি এলে বিকেলে ট্রেন ধরে চট্টগ্রামে লাগাতাম দৌড়। স্টেশনে আমার অপেক্ষায় বড়ভাই। ট্রেন থেকে নেমে বড়ভাইয়ের দেখা মিলতেই ভ্যা-ভ্যা করে কান্না, তুমি আমাকে ঢাকায় পাঠালে কেনো। আমার ভাল লাগে না। আমি চলে আসবো…

ভাই আমার নিশ্চুপ। আবার বাড়ি ঢুকেই মাকে জড়িয়ে ধরে আরেক দফা কান্না। এই করতে করতে বছর কেটে গেল। ব্যবসাও নড়েচড়ে উঠছে। সিন্ধান্ত হলো, ছোট একটা বাসা ভাড়া নেয়া হবে ‍পুরানো পল্টন। মসজিদ গলিতে ২ রুমের বাসা ভাড়া নেও হলো শ্বশুরবাড়ি পাশে। ভাড়া ৬ হাজার টাকা। আমার এক বছর বয়েসী মেয়ে যারাহকে নিয়ে ওঠে গেলাম। শুরু হলো জীবনের আরেক পর্ব।

সকালে ঘুম থেকে ওঠেই চলে যাই কাকরাইলে এস এ পরিবহনে অফিসে। চট্টগ্রাম থেকে বস্তাভর্তি সুতোর কার্টন এসে নামে। প্রতিটি বস্তা খুলে কার্টন বের করে, কার্টনের গায়ে কাস্টমারের নামে দেখে অর্ডারের সাথে মিলিয়ে চালান লিখতো। কখনো রিকশাভ্যান কখনো অটো রিকশা, কখনো বা ভাড়া করা মাইক্রোবাস। এসবে মাল উঠিয়ে ছুটে চলা। মালিবাগ চৌধুরীপড়া, তেজগাঁও, মিরপুর কমলাপুর। বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টারিতে ডেলিভারি, ডেলিভারি শেষে চালান হাতে পল্টন অফিসে ফিরে নিজ হাতে হিসাবের খাতাপূরণ। পাশের টেবিলে খট-খট শব্দে টাইপ মেশিনে মতিনের ইনভায়েস প্যাকিং লিস্ট তৈরি করা। সব শেষে আগামী দিনের ডেলিভারি শিডিউল ঠিক করে সন্ধ্যায় বাসায়।

বিছানায় নিস্তেজ শরীরটা এলিয়ে দিয়ে ছাদের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতাম। আর মাথাজুড়ে খেলে যেত কেবল পরে দিনের ভাবনা। শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন দেয়া পাওনাদারের দেনাশোধ, ব্যাংকঋণের সুরহা করা ইত্যাদি।

সবশেষে নিজের শিল্পপতি হওয়ার অবারিত স্বপ্ন তো আছেই…

লেখক: সৈয়দ নুরুল ইসলাম,চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল গ্রুপ অব)

চলবে…

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT