রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ চেয়ারম্যান কাকে চ্যালেঞ্জ করলেন?

প্রকাশিত : ০৭:০২ পূর্বাহ্ণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ৫৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

মোস্তফা ফিরোজ

ছাত্রলীগই যখন গত দশ বছরে তেমন কাজে আসলো না, সেখানে যুবলীগের এমন কি প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি হঠাৎ করে মনের ভিতরে জেগে উঠলো যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনে। তিনি ক্ষেপে গেলেন কেন বিরোধী নেতাদের মতো? আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন মদ জুয়ার আসর আর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রশংসনীয় অভিযান চালাচ্ছে তখন হঠাৎ করেই তিনি পাল্টা দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন। বললেন, ৬০টি ক্যাসিনো সংলগ্ন পুলিশ ও র‌্যাব গ্রেপ্তার করা হোক। এমন দাবি সম্ভবতঃ বিরোধী দলগুলোও করতে সাহস পান না। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছেন, তারা কি এতো দিন আঙ্গুল চুষেছেন?

খুবই অবাক ও হতাশ হলাম যুবলীগ চেয়ারম্যানের কথা শুনে। তিনি কি এই অভিযানের প্রেক্ষাপটটি জানেন না? কার নির্দেশে হচ্ছে এটা কি তিনি বুঝতে পারছেন না? চাঁদাবাজি, কমিশনের টাকা ভাগাভাগি এবং নানা রকমের কাজের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য এর আগে ছাত্রলীগে সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে পর্যন্ত দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যে এটি হয়েছে সেটাও সবার জানা। আবার গত শনিবার দলীয় এক সভায় যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এরা শোভন রাব্বানীর থেকেও খারাপ। তখনই বোঝা গিয়েছিল যে তাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশন নেয়া হবে। এর চারদিনের মাথায় রাজধানীর দুস্কর্মের আখড়া ক্লাবগুলোতে অভিযান শুরু হলো। তার আগে দুপুরে খালেদকে আটক করা হয়। ফলে, এটাতো অপ্রত্যাশিত ছিলো না। নাকি অপরাধ জগতের মাফিয়ারা মনে করছিলো যে তাদের ঘাটাতে সরকার এতো সাহস পাবে না?

এটা স্পষ্ট যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর অনাচার পাপাচার বরদাস্ত করতে চাচ্ছেন না। তাই তিনি দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে নিজ দলের রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। এমন একটি প্রশংসনীয় অভিযানের জন্য সবাই যখন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর তারিফ করছেন তখন যুবলীগের চেয়ারম্যানের এমন উস্কানীমূলক বক্তব্যের অর্থ বুঝতে পারলাম না। তিনি আসলে কার উপরে ক্ষিপ্ত হলেন? কেন হলেন? উনার এখানে কি কোন স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটেছে?

ওমর ফারুক জানতে চাইছেন এতোদিন কেন অভিযান চলেনি? উত্তর সহজ, সরকার এতো দিন চায়নি। এখন চাইছে তাই, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছা বা অনিচ্ছা অথবা তাদের সম্পৃক্ততা থাক বা না থাক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মাঠে নেমেছে। এখনতো তারা পরিচিত জনদের চিনবে না। এটাই স্বাভাবিক।

যুবলীগের চেয়ারম্যান দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আটক অভিযানকে বিরাজনীতিকরনের ষড়যন্ত্রের আভাসও পেয়েছেন। তাহলে কি দলীয় রাজনীতি চ্ছত্রছায়ায় এমন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, টেন্ডারবাজি, খুন, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কর্ম চলতেই থাকবে? এসবের বিরুদ্ধে অভিযান মান কি বিরাজনীতিকরণ? দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করা কি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়?

লেখক: হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT