রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মুরাদ নূরের সুরে কাজী শুভর ‘ইচ্ছে’ ◈ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা ◈ ফ্রান্সে বিশ্বনবীকে নিয়ে কটুত্তির প্রতিবাদে ভূঞাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ◈ রায়পু‌রে ক‌মিউ‌নি‌টি পু‌লি‌শিং ডে-২০২০ উদযা‌পিত ◈ কাপাসিয়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ◈ কটিয়াদীতে ট্রিপল মার্ডার : মা ভাইবোন সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের ◈ হরিরামপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে জখম ◈ কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উপলক্ষে মধ্যনগর থানায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ◈ রাসুলকে (সাঃ)’র অপমানের প্রতিবাদে কাপাসিয়া কওমী পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের ৪২ টাকার পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকা

মিয়ানমারের পেঁয়াজ কম দামে ঢুকলেও বাজার চড়া!

প্রকাশিত : ০৬:২৮ AM, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২৬৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মিয়ানমার থেকে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ দিনে ৩৫০ টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে চট্টগ্রামে ঢুকেছে; অর্থাৎ প্রতিদিন ঢুকেছে সাড়ে ১৮ টন করে। একই সঙ্গে দিনে গড়ে ভারতীয় ১৩০ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে চট্টগ্রামে। এর পরও দাম না কমে উল্টো বাড়ছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে গতকাল শনিবার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৬৩ টাকায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৬০ টাকায়।

অথচ গত সপ্তাহে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢোকার পর খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকা থেকে কমে কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল আরো কম দামে ৪২ টাকায়। তখন অস্থিরতা কিছুটা কেটেছিল; কিন্তু এর দুই দিন না যেতেই মিয়ানমার ও ভারতীয় পেঁয়াজ দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নামে। এখন যত বেশি মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢুকছে তত বেশি দাম বাড়ছে! ধারণা করা হচ্ছে, তদারকি না থাকায় বাজারে কারসাজি করেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

কেন এমন হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তো চাইবেই বাজার বুঝে একটু বাড়তি দরে বিক্রি করতে! বাজারে পেঁয়াজের সংকট আছে এটা তো সত্য। তাই হয়তো মিয়ানমারের বিক্রেতারা একটু বেশি লাভে বিক্রি করছেন, সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন। ভারতের পেঁয়াজের আমদানি মূল্য বেশি; তাই গত শুক্রবার স্থলবন্দরেই বিক্রি হয়েছে কেজি ৬৭ টাকায়! আমরা খাতুনগঞ্জে বিক্রি করেছি ৬৮ টাকায়। শনিবার বিক্রি করছি ৬৩ টাকায়।’ তাঁর কথা, ‘বাজারে যদি সিন্ডিকেট থাকে, তাহলে ক্যাসিনো অপরাধীদের মতো তাদের সরকার খুঁজে বের করে শাস্তি দিক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

আড়তদাররা বলছেন, মিয়ানমারের পেঁয়াজের বাজার দখল করার এটিই ছিল বড় সুযোগ; কিন্তু সেই আমদানিকারকরা অতি মুনাফার লোভে সুযোগটি হাতছাড়া করছেন। মিয়ানমার পেঁয়াজের বুকিং দর, পরিবহন খরচ, কম সময়ে আমদানি বিবেচনায় নিলে এখন মিয়ানমারের পেঁয়াজ একচেটিয়া ব্যবসা করতে পারত।

একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারনের পরই পেঁয়াজের দাম বাড়তি। কিন্তু ৫০০ ডলার দরে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ কেন এত টাকা দরে বিক্রি হবে তা বোধগম্য নয়। মূলত কিছু ভারতীয় ও মিয়ানমারের আড়তদার মিলেই বাজারে এই কারসাজি করছেন। এতেই দাম বাড়ছে প্রতিদিন। প্রশাসন বাজার তদারকি করলেই পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

জানতে চাইলে টেকনাফ কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা বিকাশ কান্তি বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, টেকনাফ দিয়ে পুরো আগস্ট মাসে ৮৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আর ভারতে দাম বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ দিনে মোট ৩৪৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আসার পথে আছে আরো প্রচুর পেঁয়াজ।

বিকাশ কান্তি বলছেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি টন পেঁয়াজের শুল্কায়ন হচ্ছে ৫৫০ মার্কিন ডলারে। আগস্ট মাসেও একই দরে শুল্কায়ন হয়েছিল। যেহেতু পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর জড়িত নেই তাই আমদানিকারক যত দাম ঘোষণা দেন তত দামেই আমরা পণ্য ছেড়ে দিই। মিয়ানমার থেকে কত দামে পণ্য বুকিং দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসা মিয়ানমারের পেঁয়াজের বুকিং দর ছিল ৩৫৫ মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা। বন্দর মাসুল ও পরিবহন খরচ যোগ করলে এর দাম পড়ে কেজি ৩৮ টাকা। সেই পেঁয়াজ গত সপ্তাহে খাতুনগঞ্জে বিক্রি হয়েছে কেজি ৪২-৪৫ টাকায়। একই পেঁয়াজ গত বৃহস্পতিবার ৬৩ টাকা এবং গতকাল শনিবার ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়াটা বাজার কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়।

এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোহাম্মদ আয়াজকে ফোন দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে খাতুনগঞ্জের বাজারে মিয়ানমার ও ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশের পেঁয়াজ নেই। বাজারে অস্থিরতা চলতে থাকায় তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির খোঁজ নিলেও কেউ আমদানিতে সাহস পাচ্ছেন না। জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের কাঁচা পণ্য আমদানিকারক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, ‘প্রতিবারই অন্য দেশ থেকে যখন পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়; বুকিং দেওয়া হয় তখনই ভারত রপ্তানি মূল্য কমিয়ে আগের মতো করে দেয়। এতে সবাই আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। কারণ ভারতীয় পেঁয়াজের বড় আমদানিকারক হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে তারা চাইবে না এই বাজারটি তৃতীয় কোনো দেশের হাতে চলে যাক।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT