রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:১৫ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মোহনগঞ্জে করোনা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় জরিমানা আদায় ৯৭০০ ◈ পাওয়া যাচ্ছে সালাহ উদ্দিন মাহমুদের চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ

মা-বাবার সারপ্রাইজ

প্রকাশিত : ১১:৪১ AM, ২ মে ২০২০ শনিবার ৪৭০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

খুব সকালে ঘুম ভেঙেছে নাফির। কিন্ত এখনো বিছানায় বসে আছে সে। বসে বসে ফেজবুকে বন্ধুদের পাঠানো ম্যাসেজগুলো পড়ছে আর অবাক হচ্ছে। কারণ সে তার যেসব বন্ধুদের ইনভাইট করেছে তারা কেউ-ই তাকে ম্যাসেজ পাঠায় নি। নাফি ভাবলো, তার বাবা হয়তো ফোন করে তার বন্ধুদের আসতে না বলে দিয়েছে। বন্ধুরাও হয়তো রাগ করে তাই কোনো ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে না। হঠাত নাফির মা এসে তাকে ডাকতে শুরু করলো, ‘নাফি দরজা খোলো। অনেক বেলা হয়েছে। এভাবে পড়ে পড়ে ঘুমালে হবে? নাফি মায়ের কথায় কোনো কান দিলো না। সে রাগে তখন যেন ফুসছে। রাগে সে ঘরের একটা একটা জিনিস ভাঙতে শুরু করলো। নাফির মা বুঝতে পারলো কালকে বাবার কথায় নাফির এতো রাগ হয়েছে। কাল রাতে নাফি তার বাবাকে বলেছিল আজ তার জন্মদিন,তাই জন্মদিন উপলক্ষে সে তার বন্ধুদের বাসায় ইনভাইট করেছে জন্মদিন সেলিব্রেট করার জন্য। এ কথা শুনে বাবা তার মুখের উপরেই বলে দিল,`না আমার বাসায় এসব জন্মদিন পালন করা যাবে না। আর কোনো পার্টিও হবে না। তুমি বন্ধুদের ফোন করে বলে দাও, না বলতে পারলে আমাকে ফোন নম্বর দাও আমি বলে দিচ্ছি। বাবার এরুপ কথায় নাফির খুব মন খারাপ হয়। বাবার উপর খুব রাগ হয় মনে মনে। সে ভাবে বন্ধুদের এখন সে কি বলবে? কত বড় মুখ করে সে তার বন্ধুদের বলেছে জন্মদিনের পার্টিতে আসতে। আর এখন বন্ধুরাই বা কি ভাববে? কিন্ত সে কোনো উপায়ও তো খুজে পাচ্ছে না। কারণ তাদের বাসায় তার বাবার কথাই শেষ কথা। সে তার বাবাকে খুব ভয় পায়। তাই বাবার মুখের উপর কোনো কথাও বলতে পারবে না। কিছুক্ষন পর বাবা এসে দরজায় ধক্কা দিয়ে নাফি বাবার ভয়ে দরজা খুলে দিল। বাবা ঘরে ঢুকেই বললেন, ‘এসব কি হচ্ছে নাফি? সব কিছু ভেঙে ঘরটা তো একদম নোংরা করে ফেলেছো। আর মুখটাও তো একদম পেঁচার মতো করে রেখেছো। যাও হাত মুখ ধূয়ে এসো। সকালের নাস্তা খাবে। কথাগুলো বলেই বাবা চলে গেল। নাফি যেই হাত মুখ ধূতে যাবে ঠিক সেই সময় তার ফোনে ম্যাসেজ এলো। সে দেখলো ম্যাসেজ টা পাঠিয়েছে তার বন্ধু নাবির। নাবির লিখেছে, WISH U HAPPY BIRTHDAY TO NAFIE.
ম্যাসেজটা দেখে নাফি নাবির কে ফোন করে বললো, নাবির তুই তো জানিস না বাসায় কি হয়েছে। নাবির বললো হ্যা আমি সব জানি। কাকু তোকে বলে দিয়েছে যে বাড়িতে জন্মদিন পালন করা যাবে না, তাই না? কিন্ত কোনো ব্যাপার না। তোদের বাড়িতে না হোক, অন্য জায়গায় তো আমরা তোর জন্মদিন সেলিব্রেট করতে পারি। তাই আমরা একটি হোটেলে তোর জন্মদিন সেলিব্রেট করবো বলে ঠিক করেছি।
তুই কি করে জানলি যে বাবা না বলে দিয়েছে? আর আমি গেলে যদি বাবা রেখে যায়? কিভাবে জানলাম তা বলবো না। কিন্ত তোকে আসতেই হবে। কাকুর কথা ভাবছিস? আরে কাকু তো জানতেই পারবে না। আমি তোকে তোদের বাসায় গিয়ে নিয়ে আসবো।
-কিন্ত কখন?
-বিকেলের দিকে।
ফোনটা কেটে দিল নাবির। এতক্ষণে নাফির মনটা একটু হালকা হলো। সে হাত মুখ ধূয়ে নিল।সকালের নাস্তা সেরে নাফির বাবা বাইরে বের হলো। বলে গেল তার আসতে দেরি হবে। আর নাফির মা পাশের বাসায় একটা কি যেনো কাজে বের হলো। বলে গেল তার আসতে দেরি হবে। আর নাফি টিভি অন করে টিভি দেখতে শুরু করলো আর নাবিরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।

এদিকে বিকেল হয়ে গেলেও নাবিরের দেখা নেই। নাফি বার বার নাবির কে ফোন করতে লাগলো। কিন্ত সে ফোন রিসিভ করছে না। এরপর সন্ধ্যায় হয়ে এলো। নাফি ভাবলো নাবির হয়তো আর আসবে না। সে কিছুটা হতাশ হলো। ঠিক সেই সময়ে নাবির চলে এলো। এসেই সে তার দেরি হওয়ার জন্য সরি বললো।

নাফি নাবির সাথে চলে সেই হোটেলে। হোটেলে রুমে দরজা ঠেলে ঢুকতেই নাফি দেখলো পুরো র অন্ধকার। পিছনে ফিরে দেখলো নাবিরও নেই। সে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল রুমের ভিতর। হঠাত পিছন থেকে দরজা আটকে গেল। নাফি তখন খুব ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে সে চিৎকার করতে যাবে ঠিক সেই সময়ে রুমের আলো জ্বলে উঠলো। সারা ঘর আলোতে ঝলমল করে উঠলো। সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ঘরটি। সবাই এক সাথে বলে উঠলো, ‘সারপ্রাইজ! ‘ নাফি পিছনে ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। তার সব বন্ধুদের সাথে বাবা আর মাও রয়েছে। নাফি অবাক হয়ে জানতে চাইলো, ‘মা তোমরা এখানে কখন এলে? আর বাবা তুমি তো বলেছিলে যে জন্মদিন পালন করা হবে না। বাবা বললো, আমি তো বলেছি বাসায় জন্মদিন সেলিব্রেট করা যাবে না। বাইরে কোথাও জন্মদিন সেলিব্রেট করতে তো আমি মানা করি নি। মা বললো, আমরা তোমাকর সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্ত সকালে যে তুমি এত রেগে যাবে তা আমরা ভাবতেই পারি নি। তাই তো নাবির কে দিয়ে ফোন করালাম। না হলে হয়তো তুমি এখনো তুমি গোমড়া মুখে বসেই থাকতে। নাফি ভাবছিল বাবা এত রাগী মানুষ। অথচ আজ এত পাল্টে গেল কিভাবে। তখন বাবা বললো, ‘ভাবছো আমি এতো পাল্টে গেলাম কি করে? আমি কিন্ত একই রকম আছি। আর তুমি যদি গোমড়া মুখে থাক তাহলে কিন্ত আবার রেগে যাবো। নাবির বললো হয়েছে কাকু আর মজা করতে হবে না। এমনিতেই সকাল থেকেই নাফি অকারণে আপনাকে ভয় পেয়েছে। নাফি হয়তো ভাবতে পারে নি যে আপনি আর কাকি ওর জন্মদিন এভাবে সিলেব্রেট করবেন আর আমাদের এখানে ডাকবেন। নাফি বললো, বাবা তুমি আর মা এসব আয়োজন করছো? বাবা বললো, না করে কি উপায় আছে? আর তুমি কি তোমার বাবা মাকে এতটাই নিষ্ঠুর ভাবো? তোমার জন্মদিন তুমি গোমড়া মুখে বসে থাকবে, এটা কি হয়? এবার বলো কেমন লাগলো আমার আর তোমার মায়ের সারপ্রাইজ?
নাফি আর কথা বলতে পারলো না। আবেগে বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। বাবা মা যে তাকে এভাবে সারপ্রাইজ দেবে তা সে ভাবতেই পারে নি। সে এখন বুঝতে পারছে বাবা-মা যতই বোকাঝকা করুক না কেন,তারা সবসময় সন্তানদের হাসি-খুশি দেখতে চাই। তাই তো বাবা – মা বিভিন্ন ভাবে সন্তানদের সারপ্রাইজ দিয়ে থাকে শত ব্যস্ত মাঝেও।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT