রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৯ মে ২০২০, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝন্টু কুমার দে এর গার্ড অব অনার প্রদান ◈ র‍্যাব ৮ পটুয়াখালী ক্যাম্পের উদ্দোগে মহিপুরে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ◈ শ্রীনগরে খাহ্রা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ছাত্রীর আত্মহত্যা ◈ ছাতকে ছেলে, পুত্র সহ আরও ৬ জনের করোনা সনাক্ত ◈ চট্টগ্রামে পাঁচদিনের নবজাতক শিশুর করোনা শনাক্ত ◈ নারীর লাশ ঝুলছে, সন্তানের পানিতে, স্বামী পলাতক ◈ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গরীব ও অসহায় পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ ◈ ময়মনসিংহে মানবিক পুলিশ : দৃষ্টান্ত রাখলেন দুই কর্মকর্তা ◈ কিশোরগঞ্জে আবারো করোনার ভয়াল থাবা, আক্রান্ত বেড়ে ৩১৭, মৃত্যু ৯ ◈ মীরকাদিমে হাবিবুর রহমানের উপর নারায়ণগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, নারীসহ আহত ৪

মা দিবসের বিশেষ ফিচার : মা

প্রকাশিত : ০৩:৫৩ PM, ১২ মে ২০২০ Tuesday ১২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ছবিঃ ইন্টারনেট

মা দিবস উপলক্ষ্যে জিনিউজ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকার তথ্যের সমারোহে ‘মা’ শিরোনামের ফিচারটি সাজিয়েছেন সাহিত্য সকাল এর নিয়মিত লেখক শেখ একেএম জাকারিয়া।

বাঙালিজাতির কাছে ‘মা’ ছোটো একটি শব্দ। কিন্তু এর নিগূঢ়তা ঢের। এই শব্দের কদর এতোটাই বেশি যে, ভাষাবিজ্ঞানীদের নিকট ‘মা’ শব্দটির অবিভিন্ন সমর্থক কোনো শব্দ নেই। এই ‘মা’ শব্দটি কখনো মাতা, কখনো জননী, কখনো জন্মদাত্রী, কখনোবা মাতৃস্থানীয়া নারী আবার কখনো কন্যা বা কন্যাস্থানীয়া নারীকে সম্বোধনে ব্যবহৃত হয়। একটু ঠাহর করলেই দেখবেন, আমি বা আপনি সাধারণত, বিস্ময়-যন্ত্রণাদি প্রকাশ করতে যেমন মাগো!, মাইগো!, ওমা!, এমা! ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকি। এই যে ‘মা’ শব্দের ননন্দনতত্ত্বসম্বন্ধী­য় ব্যবহার অবিরতভাবে কোনো না কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটে চলছে তার মধ্যেখানে কি কোনো ধরণের কৃত্রিমতা রয়েছে? প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, এই শব্দগুলো প্রকৃতই নৈসর্গিক। কোনোরকমের কৃতিমতা নেই। যদি একটু নিগূঢ়ভাবে দৃঢ়মুষ্টিতে ধারণ করেন, দেখবেন ‘মা’ শব্দটির মতো এতো আপন ও মধুময় শব্দ মর্ত্যে আর দ্বিতীয়টি নেই। প্রকৃত অর্থে এই মা যেনো মাতা বা মাতৃরূপা স্বর্গদেবী। ‘মা’ যেমন পুত্রকন্যার কাছে সবচে’ প্রিয়, সবচে’ কাছের; তেমনি একজন মায়ের কাছেও তাঁর পুত্রকন্যা খুবপ্রিয়, খুবকাছের । তাই তো সন্তানের মুখ থেকে ‘মা’ শব্দটি শ্রবণ করা একটি মহত্তম ভালোলাগার বিষয়বাসনা । একটু নিরীক্ষণ করলেই দেখবেন, এই ‘মা’ শব্দটির সঙ্গে বিমিশ্রিত আছে মধুরতা, বিমিশ্রিত আছে মায়া-মমতা ও ভালোবাসা।
এই মা-ই আবার সংগীতে স্বরগ্রামের (সা রে গা মা পা ধা নি) চতুর্থ বা মধ্যম সুর। মায়ের জাত নারীজাতি। এই মায়ের স্নেহ-অনুরাগ, সহৃদয়তা -প্রমত্ততা সত্যিই নিরুপম। মা হচ্ছেন জনৈকা পুরাদস্তুর নারী, যিনি সৃষ্টিলগ্ন থেকেই গর্ভধারণ, পুত্রকন্যার জন্মতথা সন্তানের লালনপালনসহ দ্বারপালের ভূমিকা পালন করে আসছেন। নিম্নের সংজ্ঞাটি প্রকৃতপক্ষেই যুক্তিযুক্ত একারণেই যে, “প্রকৃতিগতভাবে একজন রমণী বা ভার্যাই সন্তান প্রসব করার দাবী রাখেন। গর্ভধারণের মতো জটিল একটি প্রক্রিয়া নারীদেহে ঘটে আসছে সেই আদ্যিকাল থেকেই।” অভিজ্ঞতার আলোকে এই ধারণা পোষণ করতেই পারি, ‘সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অর্থাৎ সব অবস্থানেই উপর্যুক্ত সংজ্ঞাটি সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ আমি বা আপনি সকলেই বিদিত যে, জন্মদাত্রীকে বাঙালিজাতি অর্থাৎ আমি বা আপনি সবাই মা বলেই সম্বোধন করি। এই রীতিনীতি বাঙালিসমাজে বহুকাল আগ থেকেই প্রচলিত ও স্বাভাবিক। কিন্তু কেনো জন্মদাত্রীকে অন্যকোনো সম্বোধন না করে ‘মা’ সম্বোধনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি? আজ চেষ্টা করবো সেই ইতিহাস জানার।

‘মা’ সম্বোধনের উৎপত্তি : 

” মা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘mom’, যা পূর্বে ব্যবহৃত শব্দ ‘mamma’- এর পরিবর্তিত রূপ।” ১
ভাষাবিদদের ধারণা, ইংরেজি শব্দ ‘মাম্মা’ ল্যাটিন শব্দ ‘mamma’ থেকে উপনীত। যা সার্বজনীনভাবে ‘স্তন’ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। এইশব্দ থেকেই ‘mammel’ শব্দটির উৎপত্তি। যা কীনা স্তন্যপায়ী প্রাণীর ইংরেজি প্রতিশব্দ।
সবচে’ মজার ও রহস্যময় বিষয় হচ্ছে এই পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই ‘মা’ বুঝাতে ‘মা’ জাতীয় শব্দগুলোর উচ্চারণ প্রায় একই রকম অর্থাৎ অভিন্ন। যদি যুক্তিসিদ্ধভাবে নিরীক্ষণ করা হয় দেখা যাবে, সবগুলো শব্দের শুরুতেই ‘এম’ অথবা ‘ম’ ব্যঞ্জনবর্ণটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন “জার্মান ভাষায় মাট্টার (Mutter), ওলন্দাজ ভাষায় ময়েদার (Moeder), ইতালিয়ান ভাষায় মাদর (Madre), চীনা ভাষায় মামা (Mama), হিন্দি ভাষায় মাম্ (Mam), প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় মাত (Mut), সোয়াহিলি ভাষায় মামা (Mama) এবং আফ্রিকান্স ও বাংলা ভাষায় মা (Ma)” ২ ব্যবহৃত হয়েছে।
এই ধরিত্রীর নানাদেশের নানাভাষায় প্রযুক্ত ‘মা’ শব্দগুলোর উচ্চারণগত এই ঐকতান কীভাবে ঘটল তা সত্যিই রহস্যময়। অবশ্য এ সম্পর্কে ভাষাবিদ রোমান জ্যাকবসন যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, “শিশুরা যখন তার মায়ের দুধ পান করে, তখন তারা তাদের মুখভর্তি অবস্থায় কিছু শব্দ করে। সেই শব্দগুলো নাক দিয়ে বের হয় বলে উচ্চারণগুলো অনেকসময় ‘ম’ এর মতো শোনা যায়। তাই প্রায় সবভাষায়ই ‘মা’ ডাকে ব্যবহৃত শব্দগুলো ‘ম’ বা ‘এম’ দিয়ে শুরু হয়।” ৩
জন্মের কয়েকমাস পর একটি শিশু যেই সময়ে কথা বলতে প্রবৃত্ত হয় সেই সময়েই সে ‘মা’ শব্দটি খুবসহজেই উচ্চারণ করে থাকে। এর কারণ হিসেবে অর্থাৎ এইসম্পর্কে বিদ্ধগ্ধ ভাষাবিদগণ বলেন, “শিশুরা যখন প্রথম কথা বলতে শেখে তখন তারা ‘ম, ব, দ, ত’ এইরকম সহজ উচ্চারণের ব্যঞ্জনবর্ণগুলো উচ্চারণ করে।”৪
তাই তো সবশিশু প্রথম উচ্চারিত শব্দ হিসেবে ‘মা-মা(মাম্ মাহ)’, ‘বা-বা(বাব্ বাহ)’, ‘দা-দা(দাদ্ দাহ)’, ‘তা-তা(তাত্ তাহ)’ এগুলো উচ্চারণ করে থাকে।

 

লেখকঃ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT