রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার করেছে পুলিশ ◈ তাড়াইলে কৃষি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ◈ কুড়িগ্রামে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা ◈ তৃতীয় বারের মতো কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত নাহিদ হাসান সুমন ◈ হোসেনপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা ◈ আমতলীতে মাদকসেবীদের আতঙ্কের নাম এস.আই সোহেল রানা ◈ ময়মনসিংহ ত্রিশাল কালীর বাজার স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল খেলা আয়োজন ◈ ধামইরহাটে রাসায়নিক স্প্রে করে কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিল দূর্বৃত্তরা ◈ ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন মুরাদ আহমেদ ◈ ২৯ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা …………. রেলমন্ত্রী

মাঠে নেই দায়িত্বপ্রাপ্তরা

প্রকাশিত : ১১:৪৫ AM, ৫ অক্টোবর ২০১৯ Saturday ১৮৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আগামী আড়াই মাস পর দেশের ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করতে দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্বপ্রাপ্তরাও বলছেন, নির্ধারিত সময়েই তৃণমূলের সম্মেলন শেষ করা হবে।

মাঠের বাস্তবতা হচ্ছে— ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই।’ কথার ফুলঝুড়ি ছড়ালেও মাঠে নেই দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সম্মেলনের মাত্র আড়াই মাস বাকি থাকলেও এখনো মাঠে নামেনি ওইসব নেতা। কয়েকটি জেলা সফর করলেও আসা-যাওয়া আর খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আ.লীগ সূত্র জানায়, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এ সম্মেলনে আসবে। দলটির বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদ গত তিন বছরে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন করেছেন। আর বাকি সবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দলীয় কার্যক্রম চলছে। আবার অনেক জেলা কমিটি নির্ধারিত সময় পার হয়ে একক নেতৃত্বেই এক যুগেরও বেশি কেটে গেছে।

শুধু জেলা নয়, একই অবস্থা মহানগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির। মেয়াদ পার হওয়া কমিটি দিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের নেতৃত্ব। তবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে তৃণমূলকে বারবার আশ্বাস দিয়েছে আওয়ামী লীগের হাই-কমান্ড। তাতেও সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত মাফিক এগিয়ে যায়নি বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

তথ্যমতে, তৃণমূলের সম্মেলন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মদতদাতাদের চিহ্নিত করাসহ বেশকিছু দলীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গত ২৯ মার্চ দেশের আটি বিভাগে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিনিয়র নেতারা নিয়ে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেই টিমগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সেসময় সাংগঠনিক সফর করলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

মূলত সেসময় গুজব, ডেঙ্গু, বন্যা, কুরবানির ঈদ ও শোকের মাস আগস্টকে সামনে রেখে সাংগঠনিক সফর স্থগিত করেন তারা। ওই সময় গঠিত টিমের মাধ্যমে তৃণমূলপর্যায়ে দলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

এ অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দায়িত্বশীল নেতাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তৃণমূলের সম্মেলন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন তিনি। দীর্ঘ তিন বছরের বর্তমান নেতৃত্বে একটি জেলা সম্মেলন হওয়ার জন্য বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র কয়েক নেতাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কয়েকটি জেলা সফর করলেও ভূরিভোজ করেই ফিরে আসেন— প্রধানমন্ত্রী এমন তথ্য প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

তৃণমূল সূত্র মতে, জাতীয় সম্মেলনের আগেই তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করতে চাইলেও অধিকাংশ জেলা ও উপজেলায় এখনো পদপ্রত্যাশীদের কেন্দ্রীয়পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যা নিয়ে অনেকটাই হতাশ তৃণমূলের পদ-প্রত্যাশীরা।

আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই তৃণমূলের সব কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না— এমন প্রশ্ন এখন তাদের মাঝে। মূলত তৃণমূল সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত সময়ের বাকি দু-মাস কয়েকদিন। যা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূলের নেতৃত্বের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সভাপতি প্রার্থী আমার সংবাদকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মেলনের আশ্বাস দিয়ে আসছে। অথচ কার্যকর কোনো নির্দেশনা আমরা পাচ্ছি না। এতে আমরা অনেকাটাই হতাশ।

তিনি বলেন, দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আগেও শুনেছিলাম সম্মেলন হবে। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছরেও হয়নি। এবার জাতীয় সম্মেলনের আগে না হলে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তার ঠিক নাই।

এদিকে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সম্মেলনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটির সম্মেলন শেষ করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়পর্যায় থেকে সারা দেশে নির্দেশও পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনের অংশ হিসাবে গত বুধবার সিলেটে সাংগঠনিক সফর করেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সেখানে সিলেট জেলা ও মহানগরের দুটি আলাদা বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করেন তারা।

বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় সিলেটে সাংগঠনিক পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ। বিষয়টি বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে।

এ সময় মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ২০১৫ সালে সিলেটে এসে শুনে গিয়েছিলাম যে, কয়টা কমিটি আছে, ২০১৯ সালেও এসে শুনি সেগুলোই আছে। নতুন করে কোনো ইউনিটের কমিটি করা হয়নি। এটা অবশ্যই ব্যর্থতার পরিচায়ক। দায়িত্বশীলদের উচিত এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগরের সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

এর আগেও সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসাবে খুলনা, যশোর, বরিশাল, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশকিছু জেলায় সাংগঠনিক সফর করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রী নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নভেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠন করে মহানগরের সম্মেলনও নভেম্বরের মধ্যে করা হবে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের যে ধারাবাহিক কার্যক্রম তা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ সকল কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে গঠন করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, নেত্রী বেধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৃণমূলের সম্মেলন করার জন্য আমরা প্রায় প্রতিদিন আলাদা আলাদাভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছি। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT