রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয় ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শাহিনুর রহমান ◈ ডুমুরিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা গাজী আব্দুল হাদি’র স্মরণ সভা ◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে ক‌রোনা প্রতি‌রো‌ধে স‌চেতনতামূলক র‌্যা‌লি ◈ তিন লাখের ঘরে সুপারস্টার শাবনূর ◈ কুড়িগ্রাম সদর থানার নতুন ওসিকে ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ◈ কুড়িগ্রামে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে স্বাস্থ্য-পরিদর্শকদের কর্মবিরতী ◈ অবশেষে মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ মন্ডার মূল্য স্থিতিশীল হলো ◈ বাকৃবি আম বাগানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা
জেলার রাজনীতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ

মাঠে থাকলেও আ.লীগে বিভক্তি অন্তরালেই বিএনপির কর্মকাণ্ড

প্রকাশিত : ০৪:৪৭ AM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ Monday ৮৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে একসময় পরিচিতি ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের। কিন্তু গত ১০ বছর একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল দল দুটি। মূলত ২০১৩-১৪ সালের পর থেকেই অন্তরালে চলে যায় তারা। প্রকাশ্যে দেখা মিলত না সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে বিএনপি ও জামায়াত। জেলার দুটি আসনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) এবং সদর আসনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুই প্রার্থীকে পরাজিত করে ১০ বছর পর তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করে বিএনপি।

গত সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই একক প্রার্থী দেয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুলকে। ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও পাঁচবারের সাবেক এমপি, বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিঞাকে পরাজিত করে জেতেন নৌকার প্রার্থী ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো অংশগ্রহণ না করায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন কানসাট বিদ্যুৎ আন্দোলনের নেতা গোলাম রাব্বানী। কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে এবার মনোনয়ন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন রাব্বানি। দেখা মেলে না কোনো দলীয় কর্মকারন্ড। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে থাকলেও অন্তরালে থেকে দলীয় কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপির নেতারা। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক নেতা নিজ নিজ কর্মী বাহিনী তৈরি করে রেখেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ বছর পর গত নির্বাচনে হারানো আসন পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. জিয়াউর রহমানকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। সেখানেও প্রায় ১০ বছর পর নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে মাঠে দেখা মেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের। তবে ঘরের এমপি পেয়েও সেখানে তেমনভাবে বিএনপির প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকান্ড দেখা যায় না।

ওদিকে বিভাজনে জর্জরিত আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে গতবারের সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও জিয়াউর রহমান দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছেন আওয়ামী লীগকে। এ নিয়ে হতাশ সেখানকার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। দুই নেতার বিভাজন দ্বন্দ্বের কারণেই গত নির্বাচনে হারতে হয়েছে নৌকার প্রার্থী জিয়াউর রহমানকে এমনটাই অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের। এখনও তারা আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। নির্বাচনের আগে জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপিকে সমর্থন জানিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে অনেকটা সহজ জয় পায় বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) আমিনুল ইসলাম। তারপরেও তেমন দলীয় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না বিএনপি। এ নিয়েও বিএনপির তৃণমূলে অসন্তোষ রয়েছে।

অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসন ১০ বছর পর ফিরে পেয়েছে বিএনপি। গত নির্বাচনে দুবারের সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ ও জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুলকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশিদ। সেখানেও বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটের সময় প্রকাশ্যে আসলেও এখন আর দলীয় কর্মসূচিতে তেমনভাবে দেখা মেলে না। দেখা যায় না জামায়াতের কোনো কর্মসূচিও। আওয়ামী লীগ রয়েছে মাঠেই।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত আবদুল ওদুদের (নৌকা) পরাজিত হওয়ার কারণ দলীয় বিভেদ ও কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড। যার খেসারত দিতে হয়েছে তাকেই। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, তৃণমূল কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। তারপরেও কয়েকজন নেতার বিভেদের কারণেই হারতে হয়েছে সদর আসনটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ বলেন, অতীতের ভুলত্রæটি শুধরে আওয়ামী লীগ আগের শক্ত অবস্থানে ফিরে যাবে। এখানে সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। সবাই দলের জন্য কাজ করছি। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু জানান, আমরা এখন সব দিক দিয়ে শক্তিশালী সংগঠন। বিগত ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনটি আসনেই জয়লাভ আমাদের নিশ্চিত ছিল। তবে শিবগঞ্জ আসনটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। তারপরেও আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জাতীয় পার্টি, জাসদ ছাড়া ছোট দলগুলোর তেমন কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT