রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৯:০৩ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে শীতলক্ষ্যা থেকে নারী-পুরুষের লাশ উদ্ধার ◈ বুড়িচংয়ে ৩ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৪ জনকে আ’লীগ থেকে বহিস্কারের লক্ষ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ ◈ যুগান্তরের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধির ফুফা শ্বশুরের ইন্তেকাল ◈ নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ◈ ভূরুঙ্গামারীতে পাথরডুবি ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার ◈ ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে আহত পিতামাতা ◈ গঙ্গাচড়ায় নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ গ্রহণ ◈ করিমগঞ্জে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ◈ নড়াইল লোহাগড়া সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো মটরবাইক্ চালানো এক যুবক ◈ ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা

মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

সেলিম সিকদার

প্রকাশিত : ১২:১১ AM, ৮ অগাস্ট ২০২০ শনিবার ৬৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

যুগে যুগে এই পৃথিবীর বুকে অনেক মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের মাঝে এমন এক নারী ৮ই আগষ্ট ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নামটি তাহার বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। পিতার নাম শেখ জহিরুল ইসলাম এবং মাতার নাম হোসনা আরা বেগম। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার শরীরের রঙ ফুলের মত বলে, মাতা হোসনা আরা বেগম তাকে রেণু বলে ডাকতেন এবং
সেই নামেই সবার কাছে পরিচিতি হয়ে ওঠে ।তার বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখনই বাবা এবং বয়স যখন পাঁচ বছর তখনই মাতা মারা যান। এর পর তিনি বড় হন দাদা শেখ আবুল কাশেম এর কাছে। সেকালে নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে পড়ালেখা তো কল্পনাই করা যেত না। তবুও তিনি দমে থাকেননি। প্রথমে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পড়াশোনা করেন তা আবার সামাজিক কারণে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ঘরে বসেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধরনের শিক্ষা ছাড়াই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেন।

তার স্মৃতি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি ধীরে ধীরে প্রতিভাসম্পন্ন, জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান, ধৈর্যশীল ও সাহসী হয়ে ওঠেন। যেকোনো পরিস্থিতি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করতে পারতেন । দাদা শেখ আবুল কাশেম এর চাচাতো ভাই শেখ লুৎফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রেণুর বিবাহ হয়। তখন থেকে বঙ্গবন্ধুর মাতা সায়েরা খাতুন তাঁকে নিজের সন্তানদের মতো মাতৃস্নেহে লালন-পালন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পবিবারের সবার প্রতি ছিল তার সমদৃষ্টি।
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী লেখার পেছনেও মূল প্রেরণা ও উৎসাহ ছিল বেগম ফজিলাতুন্নেছার। এই কারণে বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে স্ত্রী এর অবদানের কথা স্মরণ করে বারো বার তার নাম লিখেছেন।

দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নিজেকে জড়িয়ে রেখে ছেন বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।ছাত্ররাজনীতির সাথে সড়াসড়ি জড়িত শেখ মুজিব এর যখনই অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতো তখনই নিজের পিতৃ সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ বিনা দ্বিধায় এনে দিতেন।
সবকিছুর পরও তিনিই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতির শ্রেষ্ঠ ছায়াসঙ্গী। স্বৈরশাসক আইয়ুব সরকারের সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে বঙ্গবন্ধুকে কারাবরণ করতে হয়।এ সময়ে কাপড় সেলাই করে বাড়ি ভাড়া, সংসার চালানোর সবটাই তিনি করতেন। মাথা ঠাণ্ডা রেখে সবটাই তিনি সামলাতেন। সন্তানদের লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি তাদের বাবার অভাবটা নিজের স্নেহ-ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতেন।

বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে, নেতৃত্বের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে যখনই কোনো সংকটের কালো ছায়া ঘনীভূত হয়েছে, বেগম মুজিব সেই কালো ছায়া দূর করার জন্য পর্দার অন্তরালে থেকে দৃঢ়, কৌশলী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেয়া ও পরিবার-পরিজনের যে কোন সঙ্কটে পাশে দাঁড়াতেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তাঁর প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়েছিলেন বেগম মুজিব। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে পঁয়ত্রিশ জন বাঙালি নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়৷ যা আগরতলা ষড়যন্ত্র হিসাবে পায়। বঙ্গবন্ধুসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন।তখন, তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের হুমকি দেন।

লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জোরালো প্রতীবাদ জানান এবং প্রতিহত করেন। এই মহীয়সী নারী যিনি দেশের সার্বিক আন্দোলনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে এ বিষয় অবহিত করেন। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ, হবে বেগম মুজিবের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তাই আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে খ্যাত মামলা প্রত্যাহার করতেই হবে। বঙ্গবন্ধু যেন শক্ত থাকেন সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। বেগম মুজিবের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান বেগবান হয়ে পড়ে । প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে কানঠাসা হয়ে পড়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ মুক্তি দেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে বরণ করে নেন।

এমনকি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনে বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শকদাতা হিসেবে বিবেচনা করা যায় বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছকে।
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যামে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের লাভ করেন। পরেরদিন ১৭ ডিসেম্বর তার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বন্দিদশার অবসান ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঙ্গী হয়েছিলেন, বেগম মুজিব তিনিই ছিলেন তার সর্বাত্মক প্রেরণার উৎস। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজেও বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ান এবং অনেক বীরাঙ্গনাকে বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন জীবনদান করেন।

এই মহীয়সী নারী সন্তানদের যেমনি ভালবেসেছেন তেমনি শাসন করেছেন। পিতা মাতা উভয়েরই কর্তব্য তিনি শেষ দিন পর্যন্ত পালন করে গেছেন। স্বামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সন্তানদের গড়ে তোলেন। অনেক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে ও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য সহযোগিতা করেছেন
মহীয়সী এই নারী। তার কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যিনি বাঙলা ও বাঙালির ইতিহাসের পাতায় পাতায় জড়িয়ে আছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে জাতির পিতার ঘাতকদের হাতে তিনিও নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন।

বাঙালি জাতি ও দেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে ধাপে বেগম মুজিব অনপক অনেক অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে, নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়সম আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অন্যতম এক প্রেরণাদায়িনী মহীয়সী নারী হিসেবে বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অজীবন।

 

লেখক : সেলিম সিকদার, প্রতিষ্ঠাতা, বঙ্গমাতা সাহিত্য পরিষদ – গোপালগঞ্জ

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT