রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয় ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শাহিনুর রহমান ◈ ডুমুরিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা গাজী আব্দুল হাদি’র স্মরণ সভা ◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে ক‌রোনা প্রতি‌রো‌ধে স‌চেতনতামূলক র‌্যা‌লি ◈ তিন লাখের ঘরে সুপারস্টার শাবনূর ◈ কুড়িগ্রাম সদর থানার নতুন ওসিকে ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ◈ কুড়িগ্রামে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে স্বাস্থ্য-পরিদর্শকদের কর্মবিরতী ◈ অবশেষে মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ মন্ডার মূল্য স্থিতিশীল হলো ◈ বাকৃবি আম বাগানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

মহালয়ায় দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আবাহন

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মহালয়া মানেই দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন। ভোরে চ-ীপাঠের মধ্য দিয়ে আবাহন ঘটেছে মা দুর্গার। দেবীকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। দেবীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই সূচিত হয়েছে মাতৃপক্ষের। শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে সেই মাতৃপক্ষকে বরণ করে নিল রাজধানীসহ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শনিবার ভোরে বিভিন্ন পূজাম-পে আনুষ্ঠানিক পূজা ও ভক্তির মাধ্যমে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা। আগামী ৪ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত শনিবার থেকেই পূজার্থীরা দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শুনতে পাবে।

শাস্ত্রীয় বিধানমতে, মহালয়ার অর্থ হচ্ছে মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। দু’টি পক্ষ রয়েছে, একটি পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর প্রতিপদ তিথিতে শুরু দেবীপক্ষের। শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে সেই দেবীপক্ষ শুরু হয়েছে।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পূজাম-পগুলোতে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। চ-ীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘট স্থাপন, চ-ীপূজা, ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল দিনের আনুষ্ঠানিকতার অংশ। ঢাক-কাঁসা ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবীদুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানান ভক্তরা। অনেক ভক্তই গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন। আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা। ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

শনিবার ভোরে ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজাম-পে চ-ীপাঠ করে দেবীদুর্গাকে আবাহন জানানো হয়। পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে মহালয়ার উদ্বোধন করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ। চ-ীপাঠের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে দেবী অর্চনা ছিল শুরুতে। এ সময় দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা আবাহন ও ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সকালে মহালয়ার ঘট স্থাপন করে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হয়। পরে মন্দিরের জলাশয়ে গত বছরের দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী, বনানী, রমনা কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজাম-পে সকালে ছিল মহালয়ার ব্যাপক আয়োজন। গুলশান-বনানী সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার এই ম-পে পূজা আয়োজনের একযুগ পূর্তি হলো। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ভোরে আরাধনার মাধ্যমে দেবীদুর্গার আবাহন ছাড়াও এখানে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বেলা এগারোটায় এখানে দেশবরেণ্য শিল্পীরা তুলির আঁচলে ফুটিয়ে তোলেন নিজেদের শিল্পকর্ম।

পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান দেবী দুর্গা। শিবের বর অনুযায়ী কোন মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলত অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে বিশ্বব্রহ্মা-ের অধীশ্বর হতে চায়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর ত্রয়ী নিজেদের তেজে সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’ রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করেন এবং দেবতাদের দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত সিংহবাহিনী দেবীদুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করে অশুভ শক্তি বিনাশ করে শুভ শক্তিকে রক্ষা করেন দেবীদুর্গা।

সনাতন বিশ^াস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবীদুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন (আগমন)। দেবী বিদায়ও নেবেন ঘোটকে। এর ফল শস্যবৃদ্ধি-অর্থাৎ এবার দুর্গাদেবীর আগমনে পৃথিবী শস্য ও ফসলে ভরে যাবে।

আর মাত্র পাঁচ দিন পরে দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ৪ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। অবশ্য আগের দিন ৩ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনধ্বনি অনুরণিত হতে শুরু করবে। ৫ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ৬ অক্টোবর মহাষ্ঠমী ও কুমারী পূজা, ৭ অক্টোবর মহানবমী শেষে ৮ মঙ্গলবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও এলাকাভিত্তিক পূজা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সারাদেশে ৩১ হাজার একশ ম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা হবে। রাজধানীতে ২৩৭টি ম-পে হবে দুর্গাপূজা, যা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানায়, ’১৮ সালে সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২ ম-পে ও ’১৭ সালে সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪ ম-পে দুর্গাপূজা হয়। রাজধানীতে ’১৮ সালে ২৩৪ ও ’১৭ সালে ২২৫ ম-পে দুর্গাপূজা হয়েছিল।

এদেশ অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক- তথ্যমন্ত্রী ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষের রক্তে গড়া লাল-সবুজের পতাকা এদেশের অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। মহালয়ার দিনে এ সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক। শনিবার ভোর পাঁচটায় বনানী খেলার মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এবং পরে সকাল আটটায় ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সনাতন সমাজ সংঘ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সব ধর্মের ৩০ লাখ মানুষের রক্ত¯্রােতের বিনিময়ে আমরা গড়েছি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। এখানে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কোন স্থান নেই। তিনি বলেন, এদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশ। আমরা যে আন্তঃসম্প্রদায়ের সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছি, তা বিশ্বের দেশগুলোর কাছে এক অনন্য উদাহরণ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমাদের প্রথম পরিচয়, আমরা বাঙালী, তারপর আমরা কেউ হিন্দু বা মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রীস্টান। মহালয়া উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাদেবীর মর্ত্যে আগমন ক্ষণে সব অসুর, অশুভ অপশক্তি পরাজিত হোক, আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক। সবাই মিলে ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যাই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT