রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩৩ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

মরহুম গিয়াস উদ্দিন এর মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলে আহাম্মদ কবির এর স্মৃতি চারণ

প্রকাশিত : ১০:৪২ AM, ২৯ অক্টোবর ২০২১ শুক্রবার ১২১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার কর্মরত গণমাধ্যম কর্মী ও টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আহাম্মদ কবির এর পিতা,মরহুম গিয়াস উদ্দিন এর ১৪তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।তিনি গত ২৯ অক্টোবর ২০০৭ইং ১৪কার্তিক ১৪১৪খ্রিস্টাব্দ ১৫শাওয়াল ১৪২৮হিজরি সোমবার ১.৩০মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

বাবার স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে সাংবাদিক আহাম্মদ কবির জানান,আমার বাবা নামাজ আদায় করার জন্য নদীর ঘাটে গোসল সেরে অযু করতে বসলেন হঠাৎ বসা থেকে পানিতে পড়ে যাচ্ছেন, এমতাবস্থায় পাশে থাকা লোকজন বাড়িতে নিয়ে আসলো।বিছানায় শুয়ে শুয়ে বাবা আমাদের উদ্দেশ্য করে আকারে-ইঙ্গিতে কিছু বলার চেষ্টা করছেন এবং মনে মনে কি জানি পড়তেছেন।তখন মা ও আমরা বাবার মুখে পানি তুলে দিলাম, উনি পানি পান করলেন।বাবার অবস্থা আশংকাজনক দেখে বাবাকে নিয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলাম, কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবাকে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দেয়।কিন্তু আমরা ডাক্তার এর পরামর্শ না মেনে জেলা সদরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিলাম তখন কিছু পথ যেতেই বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন শান্তির ঘুমে।দুনিয়ায় মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে।

আমার বাবা বেশ কয়েকদিন থেকেই কোন এক মানসিক চিন্তায় ভুগছিলেন, খাওয়াদাওয়া কিছুই ভাল লাগতোনা বাবার অনেক চেষ্টা করা হত, কিন্তু তিনি বলতেন খাবার খাইতে ভাল লাগেনা।বাবার কথা মনে পড়লে খুবই কষ্ট পাই।এই কষ্ট নিয়েই এখন দিন কাটাচ্ছি। বাবাকে হারানোর আজ ১৪বছর পূর্ণ হয়েছে।

বাবাহীন সন্তানের জীবন যে কতটা বিয়োগান্ত হয়, তা হয়তো যাদের বাবা বেঁচে আছেন তারা কখনোই বুঝতে পারবে না। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয় সত্যি আমি বড়ই একা। একটু ভালোবাসা দেওয়ার ও সান্ত্বনা দিয়ে সামনে চলার প্রেরণা জোগানোর মানুষটি আজ বেঁচে নেই। বাবাকে ছাড়া বাঁচতে পারব এ কল্পনা কখনো করিনি। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। কেটে যাচ্ছে ১৪টি বছর।

বাবার অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, যা আজও ভুলতে পারিনি, ভুলা যায় না। বাবাহীন প্রত্যেক দিন একেকটি ঝামেলা, একেকটি একাকিত্ব। ছায়াহীন পথ, আর লক্ষ্যহীন সকল যুক্তি। বাবাকে খুব মনে করছি। বাবার জন্য অনেক কষ্ট হয়। বাবা না থাকাটা যতটুকু কষ্টের, তার চেয়েও বেশি ঝামেলার।

বাবা, তুমি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছ না ফেরার দেশে। তুমি বেঁচে থাকতে তোমার গুরুত্ব আমরা কখনো বুঝিনি। আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি তোমার অনুপস্থিতি। তোমার চলে যাওয়া আমাদের জীবনে বিশেষ করে আমার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি।

আমার আর এই যান্ত্রিক জীবন ভালো লাগে না বাবা। তোমার ছায়ায় যতটা দিন ছিলাম ভালোই তো ছিলাম। ছোট্ট পুঁচকে একটা ছেলের মতো জীবনটা এগোচ্ছিল। বাবা আমার মতো এই পুঁচকে ছেলেটাকে এত বড় কঠিন উপদেশ দিয়ে গেলে বাবা? আমি আজকাল বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছি বাবা। তোমার দেওয়া উপদেশ পালন করে,জীবনের ১৪টি বছর তোমাকে বুকে ধারণ করে কাটিয়ে দিয়েছি আমি।

সত্যি ভাবতে বড় অবাক লাগে। জানিনা কীভাবে সময় এত দ্রুত ক্ষয়ে যায় বাবা। সবকিছু যদি ক্ষণিকের জন্য উল্টো হয়ে যেত, খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেতাম। কী ফিরে পেতাম জানি না, তবে তোমাকে আবারও ফিরে পেতাম ঠিকই বাবা। ফিরে পেতাম সেই সোনাঝরা আনন্দের দিনগুলো। বুকের পাঁজরে আটকে রাখতাম তোমায় বাবা। যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ বাবা।

জানি না জীবন নামের অংক খাতায় আর কত বিয়োগ হবে। তবে তোমাকে হারানোর পরে মনে হয়েছিল দুনিয়াটা বড়ই নিষ্ঠুর একটা জায়গা বাবা। পৃথিবীতে যুগে যুগে একজন মহৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটে। আমার চোখে আমার বাবা তাদের একজন। যিনি সারা জীবন কল্যাণ করেছেন মানুষের। অনেক মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। যিনি জীবনে কষ্ট করেছেন কিন্তু কখনো কাউকে কষ্ট দেননি। কখনো বিচ্যুত হননি নীতি ও আদর্শ থেকে। সগৌরবে পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ৬৫বছর ২মাস ১৪ দিন।

সুখী মানুষের কাছে ৬৫বছর ২মাস ১৪দিন হয়তো কিছুই না। কিন্তু আমার বাবা জীবনে ৬৫বছর ২মাস ১৪দিন প্রতিটি মুহূর্ত সংগ্রামের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন। গড়ে গেছেন এক বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস। আমার লেখনীর মাধ্যমে তার জীবনী বা তাকে সম্পূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলার স্পর্ধা আমার নেই। কোনো কালে হবে কিনা জানি না। বাবার বিবেক আর তার দেখানো পথে হাঁটছি অবিরাম। জানি না এই পথের শেষ আছে কিনা। যদি বা শেষ না হয় এই পথের, ক্ষতি নেই। জীবন তো চলবেই জীবনের মতো। ভয় কী, বাবার আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই আছে। বাবা, তোমায় বুকে ধারণ করেই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি যেখানেই থাকো ভীষণ ভালো থেকো বাবা। মহান রাব্বুল আলামিন দান করুন তোমাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম।

আমার বাবার চলাফেরায় কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিবেন। আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। (আমিন)

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT