রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ৩১ মে ২০২০, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ভেজাল আমে সয়লাব

প্রকাশিত : ০৭:৪০ PM, ১৮ মে ২০২০ Monday ৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এখানো গুটি আমও দেখা দেয়নি। আরও ১৫ দিন লাগবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমের ফলনও কম। ঢাকাতে যে আম বিক্রি হচ্ছে তা এই এলাকার নয়। অন্য কোথাকার কার্বাইড দিয়ে পাকানো। আমের ব্যাপারে জানতে চাইলে এভাবেই অভিমত প্রকাশ করেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী হুমায়ন কবির। অথচ রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসষ্টান্ডে মাদারীপুর জেলার শিবচরের রমজান আলী ধাধা লাগানো বাহারী রংয়ের হলুদ রংয়ের আম দেখিয়ে বলেন, লন লন কড়া মিষ্টি আম। ১৭০ টাকা কেজি। লখনা আম। রাজশাহীর আম। সত্যি রাজশাহীর আম? তাৎক্ষনিকভাবে উত্তর দেন ভারতের আম। শুধু এখানের চিত্র নয় এটি। রাজধানীর প্রায় বাজারে ভয়ে গেছে বাহারী রংয়ের কার্বাইড দিয়ে পাকানো ভেজাল আম। যা স্বাস্থ্যের জন্যই খুবই ক্ষতিকর। অথচ বাদামতলীর ফলের আমদানিকারক ফয়েজ আহমেদ বলেন, লবডাউনে কোন আম আমদানি হয় না। কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে কেউ আড়তে বিক্রি করছে। এ জন্য জরিমানাও করা হয়েছে। কারণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আমই তো পাকেনি। ভালো আম আসবে কিভাবে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আমের বাজারের এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। সার্বিক ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও আম রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আবদুল ওয়াহেদ আমার সংবাদকে বলেন, বাজারে এবার দেরিতে আম উঠবে। অন্যান্য বছরের মতো এবার আম রফতানির কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ করোনার থাবায় সারা বিশ্বের অবস্থা খুবই খারাপ। লকডাউনের কারণে আমের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ নিয়ে খুবই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। কারণ স্থানীয় মার্কেটের খারাপ অবস্থা হবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমের বড় বাজার ঢাকা, চট্রগ্রাম মার খাবে। সরাসরি যেতে না পারলে অনলাইনে ব্যবসা সম্ভব না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আবেদন অন্যান্য খাতের মতো আম চাষী ও ব্যবসায়ীদেরও যেন প্রণোদনা দেয়া হয়। কারণ তারা আমের দাম পাবে না। খুবই ক্ষতির মুখে পড়বে। ভালো আম মানেই বৃহত্তর রাজশাহীর আম। তাই আমের ভেজাল ঠেকাতে অন্যান্য বছরের মতো এবার আমের বাজারজাতকরণে সরকারের পক্ষ থেকে সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ১০মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আমের ব্যাপারে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, আম পাড়ার ক্ষেত্রে গতবছরের মতোই এবারও কোনো ক্যালেন্ডার থাকবেনা। তবে আম পরিপক্ব হলেই বাজারজাত করা যাবে। কোনোভাবেই আমে কেমিক্যাল মেশানো যাবে না। তবে একই দিনে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হামিদুল হক আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে জানান, ১৫ মে থেকে রাজশাহীর বাগানের সব ধরনের গুটি আম পাড়া যাবে। অসময়ে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখতে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া গোপালভোগ আম গাছ থেকে নামা যাবে ২০ মে থেকে, রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সব শেষে ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪। অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে এই উদ্যোগ বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমের রাজধানী নামে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট ও রাজশাহীর পুঠিয়াতে চোখে পড়ে না পাকা আম। এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী হুমায়ন কবির বলেন, গত বছরে যে আম হয়েছে তার সিকি মানে চার ভাগের এক আম হবে এবার। মুকুল ধরার সময় পানি হওয়ায় তা ঝরে গেছে। যা টিকিছে তাও পাকতে এবার সময় লাগছে। কারণ বৃষ্টির কারণে তাপ কম। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শুধু এখানে নয় উত্তরবঙ্গের সব জায়গাতে এবার আম দেরিতে হবে। বাজারে আসতে বেশি সময় লাগবে। কোনো কোনো জায়গায় ১০ দিন থেকে ২৫ দিন লাগবে। আম যাই হোক দাম নিয়ে সবাই শঙ্কায় রয়েছে বলে জানান তিনি। কারণ হিসেবে বলেন করোনার প্রভাব। সারাদেশে গাড়ি বন্ধ। সরাসরি যেতে না পারলে ব্যবসা হয়না। তাছাড়া মানুষের হাতে টাকাও কমে গেছে। আমের আরেক বড় এলাকা রাজশাহীরও একই চিত্র। প্রশাসন ১৫ মে থেকে আম পাড়ার অনুমতি দিলেও রাজশাহীতে গাছে এখনও কোন আম পাকেনি। গুটি আম পাকতে আরও অন্তত দু’সপ্তাহ সময় লাগবে। কারণ গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে। পরিপক্ব হয়নি। রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকার আমচাষী শফিকুল বলেন, আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানোর উপযুক্ত হবে। অন্যান্য আম চাষি এবং ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আম পরিপক্ব না হওয়ায় গাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে না। আমের আঁটি শক্ত হতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ঢাকাতে বাজারে রাজশাহীর আম বলে যে আম বিক্রি করা হচ্ছে, তা রাজশাহীর আম না। বিভিন্ন জায়গার অপরিপক্ব আম মেডিসিন দিয়ে পাকিয়ে রাজশাহীর আম বলে চালিয়ে তারা রাজশাহীর আমের সুনাম নষ্ট করছে। তা কঠোরভাবে দেখা দরকার। কারণ এখানকার আম পরিপক্ব না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আম পাড়ার দিন তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কেউ পাড়েনি আম। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, গেল বছরও আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। এবার একটু আগেই সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া ঠান্ডা। সেজন্য আম নাও পাকতে পারে। একটু দেরি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হকও বলেন, এবার আবহাওয়ার কারণে আম পরিপক্ব হতে সময় নিচ্ছে। শীতকাল দীর্ঘ হওয়ায় গাছে মুকুল এসেছে দেরি করে। এছাড়া বৈশাখজুড়েই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আম পরিপক্ব হতে সময় লাগছে। তাই দেরিতে আম পরিপক্ব হলে চাষিরা দেরিতেই গাছ থেকে আম পাড়বেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দশম। ২ লাখ ৩৫ হাজার একর জমিতে ১২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাসে আমের বাজার হয়ে থাকে। এবারে বিশ্বেও অন্যান্য দেশের মতো করোনার প্রভাবও বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই আম বাজার নিয়েও শঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা। কৃষিমন্ত্রণালয়ে ‘আম-লিচু ও অন্যান্য মৌসুমি ফল বিপণন’ বিষয়ক এক অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা, ফল চাষি, ফল ব্যবসায়ী, আড়তদার উপস্থিত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আম, কাঁঠাল, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং কৃষি বিপণন অধিদফতর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার কথা উঠে আসে। ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমী ফল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে সভায়। আমসহ অন্যান্য ফলের বাজার ধরে রাখার জন্য অনলাইনে বেচাবিক্রির সুযোগ এবং কুরিয়ার সার্ভিসসহ ট্র্কা,কাভার্ডভ্যানে বহন করার কথা উঠে আসে সভায়। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেছেন, আসল ও নিরাপদ সুস্বাদু রসালো আম খেতে হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম খেতে হবে। সম্প্রতি আম বিষয়ক সভায় দেশের ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন-আম পরিবহনের সময় যদি কোনো ট্রাকে অবৈধ কোনো মালামাল পাওয়া যায় তাহলের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণ করা হবে। জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, আম পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কে নিরাপত্তা দেবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। গতবারের মতো এবারও ট্রাকের সামনে ব্যানারে গন্তব্যস্থলের নাম লেখা থাকবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা সনদ দেবেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড গ্লাবস দিতে হবে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শ্রমিক, আমচাষি ও ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ঢাকাসহ বাইরে থেকে আগত আম ব্যবসায়ীদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। আমের বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। তাই প্রতিষ্টানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিনের কাছে কিছু জানতে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাইরে হলুদ টসটসে মন মাতানো আশ। কিন্তু ভেতরে একদম অপরিপক্ব। মূলত রাসায়নিকে পাকানো হয়েছিল আমগুলো। রাজধানীর পাইকারী বাজার যাত্রাবাড়ী এক অভিযানে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া পাইকারী ফলের বাজার বাদামতলী ফলের আড়তে অভিযান চালিয়েও এ ধরনের ৪০ টন আম জব্দ করে চারটি আড়ত সিলগালাও করে দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, বিক্রি করা আমগুলো অপরিপক্ক ছিলো। তা বাজারে আসতে আরও ১০-১৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় তারা অপরিপক্ব আম ক্যামিকেলে পাকিয়ে বিক্রি করছে। অপরিপক্ব এসব রাসায়নিকে পাকানো আম খেলে মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করবে। বাদামতলীতে ১২টি আড়ত থেকে ৪০ টন আম জব্দ করা হয়। অসময়ে কেন ফলের আড়তে আম তা জানতে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রটুস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলামের সাথেযোগাযোগ কলা হলে তার ম্যানেজার বলেন, উনি ব্যস্ত। তাই কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সমিতির সদস্য ও ফাতেমা ফ্রুটসের পরিচালক ফায়েজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে এখানে বিভিন্ন আড়তে যে আম বিক্রি হচ্ছে তা মোটেই আমদানি করা বা বাইরের নয়। এগুলো সাতক্ষীরাসহ স্থানীয় বিভিন্ন বাজারের। কার্বাইড দিয়ে পাকানো। তাই আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের ধরেছে। শাস্তিও দিয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে সবাই সতর্ক করা হয়েছে ভেজাল আম বিক্রি না করার জন্য। তারপরও কেউ এ কাজ করলে কি করার আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যা সমিতিকে আর শক্ত অবস্থানে যেতে হবে ভেজালের বিরুদ্ধে। আর কঠোর হতে হবে। করেনার প্রভাবে মানুষের জীবন-যাত্রা একেবারে থেমে গেছে। তাই এবার আমের দামও কমবে। এতে আমাদের ব্যবসাও কমে যাবে বলে জানান তিনি। সূত্র জানায়, কার্বাইড আমদানি হয় না। ভারত সীমান্তে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটা খুবই সস্তায় পাওয়া যায়। কিন্তু খুবই ক্ষতিকর। তাই কোনোক্রমেই যাতে আমে ব্যবহার না হয় সেদিকে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে। অসংখ্য রসালো ও সুমিষ্টি ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকলেও ফলের রাজা হিসেবে ‘আম’ই স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। এই আমই পিছিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের পরিচিতি দেশের গন্ডি পাড়ি দিয়ে বিশ্বেও সুনাম লাভ করেছে। কারণ দেশের বিভিন্ন জেলায় আম চাষ হলেও বৃহত্তর রাজশাহীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার খিরসাপাত আমই জিআই সনদ লাভ করেছে। ভৌগোলিক বৈশিষ্টের কারণে ভারতের মালদার পাশে হওয়ায় এই জেলার আমই সবচেয়ে সুস্বাদু। অল্প পরিশ্রমে এটা চাষ করা সহজ হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গন্ডি ছাড়িয়ে নওগা, নাটোর, রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলাতেও ব্যাপকভাবে আম বাগান তৈরি করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে আমের ফলনও হচ্ছে। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্চের কানসাট বাজার ও রাজশাহীর বানেশ্বর বাজার ফলের তৃষ্ণা মেটাতে ডাক দেয় প্রতি বছর। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী তো দুরের কথা স্বল্প মেয়াদের আম সংরক্ষণের নেই কোনো ব্যবস্থা। ফলে বাগানমালিকরা নার্য্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে আমের বাগান করা হচ্ছে। ব্যাপকভাবে আম চাষও হচ্ছে। এই আম রাজা-বাদশাদের নামে রাজভোগ মোহনভোগ থেকে শুরু করে দেব-দেবির নামেও যেমন লক্ষণভোগ, কালীভোগ,সীতাভোগ নামকরণ করা হয়েছে। যা ভোক্তাদের কাছে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT