রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৬:৩৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রায়পুর বামনী ইউ‌পি নির্বাচন ক‌রে জন‌সেবা কর‌তে চান সাংবা‌দিক দে‌লোয়ার মৃধা ◈ ধামইরহাটে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে প্রচারনায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতারা ◈ নজিপুরে হাবিব ডিজিটাল প্যানা সাইন এর শুভ উদ্বোধন ◈ লালমোহনে সরকারি খালের মধ্যে করা নির্মানাধীন ভবন ভেঙ্গে দিলেন ইউএনও ; নির্মান সামগ্রী নিলামে বিক্রি ◈ মৌলভীবাজার সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ কর্তৃক মেয়র ফজলুর রহমানের সাথে মতবিনিময় ◈ বেলাবতে বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া যততত্র বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ও পেট্রোল ◈ ছাতকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা শাহ মনোহর আলীর দাফন সম্পন্ন ◈ বাগাতিপাড়ায় আধুনিক বীজ উৎপাদনে রোপা আমন ফসলের মাঠ দিবস ◈ অপার সম্ভাবনা রপ্তানি ও শিল্প ব্যবহারযোগ্য আলুর আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে-ডোমারে কৃৃষিমন্ত্রী ◈ গংগাচড়ায় পিপিআর রোগ নির্মূলে বিনামুল্যে টিকা প্রদানের উদ্ধোধন

ভিডিও ফুটেজ, স্বীকারোক্তি আর চার্জশিটে গরমিল

প্রকাশিত : ০৬:১৬ AM, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ২৭৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার একাধিক ভিডিও ফুটেজ, স্ত্রী আয়েশা ছিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আর অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) অনেকটাই গরমিল রয়েছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভিডিওর বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কাটছাঁট করা ভিডিওর বিষয়টি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। আবার রিফাতের সঙ্গে অন্য কোনো মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা না থাকলেও অভিযোগপত্রে দেখা যাচ্ছে মিন্নির সঙ্গে বিয়ের আগে রিফাতের অন্য একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। রিফাত শরীফকে আহত অবস্থায় কে হাসপাতালে নিয়েছে, অভিযোগপত্রে তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে আদালত থেকে দেওয়া অভিযোগপত্র গতকাল শুক্রবার মিন্নির আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম পর্যালোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিযোগপত্রে এমন কিছু গল্প যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কেউ জানত না। মামলার এজাহারের বিবরণ, অভিযোগপত্র ও মিন্নির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। তা ছাড়া মিন্নি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন, যার এখনো নথি শামিলে রয়েছে। এসব অসংগতি পর্যালোচনা করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। মিন্নি যে রিফাত হত্যায় জড়িত নন, তা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব।’

যত অমিল : মিন্নি জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ করি। এ কারণে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে এবং আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি।’ কিন্তু রিফাত শরীফের সঙ্গে অন্য কোনো মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে আগে কখনো আলোচনা শোনা যায়নি। এমনকি মিন্নি কিংবা রিফাত শরীফের পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি কখনোই বলা হয়নি।

মিন্নির জবানবন্দি মতে, নয়ন বন্ড ক্যালিক্সের সামনে এসে প্রথমে রিফাত শরীফকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এর মধ্যেই রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার অস্ত্র আনার জন্য দৌড়ে যায়। রিফাত ফরাজী দুটি দা এবং টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার লাঠি নিয়ে আসে। কিন্তু ভিডিওতে লাঠির ব্যবহার দেখা যায়নি।

মিন্নির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ‘একটি দা দিয়ে নয়ন বন্ড কোপাতে শুরু করে রিফাত শরীফকে। পরবর্তীতে অপর একটি দা দিয়ে রিফাত ফরাজী কোপায়। রিফাত শরীফকে কোপাতে দেখে আমি নয়ন বন্ডকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

কিন্তু ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে রিফাত ফরাজীই দা দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে থাকে। একই সময় হাতে থাকা অন্য দাটি সে রাস্তায় ফেলে দেয়। নয়ন বন্ড সেই দা তুলে নিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে থাকে। তখন মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য খালি হাতেই নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীকে বাধা দেন।

মিন্নি জবাবন্দিতে আরো বলেন, ‘দায়ের কোপের আঘাতে রিফাত শরীফ রক্তাক্ত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায়ই সে পূর্ব দিকে হেঁটে যায় এবং আমি রাস্তায় পড়ে থাকা জুতা পরি এবং উপস্থিত একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দিলে আমি রিকশা করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

কিন্তু সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা গেছে, মিন্নি একাই রিকশায় করে রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিত্সা শেষে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মিন্নির পরিবার রিফাতকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেয়। এ বিষয়টি অভিযোগপত্রে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমার মেয়েকে সাক্ষী থেকে আসামি করা এবং রিমান্ড ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় সব কিছুই ছিল এ হত্যাকাণ্ডের দায় তার মেয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ। একটি বিশেষ মহলের ফোনে পুলিশ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী লিখে তাতে মিন্নির স্বাক্ষর নিয়েছে। আমরা জেল সুপারের মাধ্যমে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় যে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশ তা-ই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে। রিফাত হত্যা মামলায় পুলিশ কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়নি।’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT