রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০:৩৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কোচিং বাণিজ্যে জড়াবেন না: শিক্ষা মন্ত্রী ◈ চাপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াসের বিসিটিআপি প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনে জোনাভেল্ড লিসবেথ ◈ দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রগতিতে এগিয়ে রয়েছে; শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি ◈ দৈনিক খবর এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। ◈ পত্নীতলায় তরুণ বেতার শ্রোতা সংঘের উদ্যোগে বিণামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ◈ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট ◈ মহেশপুরে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ, থানায় মামলা ◈ পটুয়াখালীর গলাচিপায় অভিনব কৌশলে মাদক পাচার করার সময় আটক ১ ◈ আল-আমিন পাড়া শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২০ এর ফাইনাল খেলা সম্পন্ন ◈ ‘ক্যাসিনো খালেদ’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ভালোবাসা দিবস রাঙাবে ৩৫ কোটি টাকার ফুল

প্রকাশিত : ০৪:১১ AM, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Thursday ১৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দুই অক্ষরের সুন্দর একটি শব্দ ‘ফুল’- পবিত্রতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। মানবজীবনের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও শোক- সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে এর উপস্থিতি। তাই দেশেও ফুলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বড় একটি বাজার। বছরের যে সময়গুলোয় এর বেচাবিক্রি বেড়ে যায়, তার মধ্যে অন্যতম ফেব্রুয়ারি মাস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বসন্ত উৎসবসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে এ মাসে। এবার মৌসুমটিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ব্যবসায়ীদের। শুধু ভালোবাসা দিবস ঘিরেই অন্তত ৩৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে তাদের ধারণা।

এ খাতের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশি ফুলের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। এর মধ্যে দেশেই প্রতিবছর বিক্রি হয় ৮৫০ কোটি টাকার ফুল। বাংলাদেশ ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এম আহসান উল্লাহ আমাদের সময়কে

বলেন, ‘প্রতিবছরই ফুলের চাহিদা ও বিক্রি বাড়ছে। গত বছরের ফেব্রæয়ারিতে দেশীয় বাজারে প্রায় ৮০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদী আমরা। ইতোমধ্যে চাষিরা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম অর্ডার পেয়েছেন। এবার শুধু যশোরের গদখালি থেকেই ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আমাদের ধারণা।’ ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ১৩ ও ১৪ ফেব্রæয়ারি প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে মনে করছেন এ ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘গেল বছর ভালোবাসা দিবসে প্রায় ২৮ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। এবার দিনটি শুক্রবার পড়ায় প্রচুর বিয়ের অর্ডার রয়েছে।’

ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুুরের গোলাপচাষি শরীফুল ইসলাম গত শনিবার বলেন, ‘এ অঞ্চলে মিরিন্ডা প্রজাতির গোলাপ চাষ হয় বেশি। ঢাকায় এর প্রচুর চাহিদা। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লাখ টাকার অর্ডার পেয়েছি। আগামী চার-পাঁচ দিনে বিক্রি আরও বাড়বে। গত বছর এ সময় অর্ডার পেয়েছিলাম ২ লাখ টাকার মতো।’ শাহবাগের পাইকারি ফুল ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের পাশাপাশি এ সময়টাতে বিয়ে-সাদির হিড়িক পড়ে। তাই বিক্রিও বাড়ে। মাসের প্রথম সপ্তাহেই অনেকগুলো বিয়ের জন্য ফুলের অর্ডার পেয়েছি এবার। চলতি ফেব্রæয়ারিতে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী তিনি।’

বর্তমানে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। মোট উৎপাদিত ফুলের ৩১ শতাংশ গøাডিওলাস, ২৪ শতাংশ গোলাপ, ১৯ শতাংশ রজনীগন্ধা। প্রতি হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের তুলনায় ফুল চাষ বেশি লাভজনক। আবার কম পুঁজিতে ব্যবসা সম্ভব বলে তরুণ উদ্যোক্তারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রায় ৪ হাজার, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ১৪৩ এবং ২০১১ সালে যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ একর। অন্যদিকে বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন ফুল উৎপাদিত হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৩-১৪ বছরে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ফুল।

সারাদেশে ফুল পাওয়া গেলেও এর বাণিজ্যিকীকরণের শুরুটা খুব বেশি দিনের নয়। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। বর্তমানে যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গাসহ ২৪টি জেলায় ফুলের চাষ হচ্ছে; যার প্রায় ৭০ ভাগই ফুলরাজ্য হিসেবে পরিচিত যশোরের গদখালিতে। তবে সঠিক নীতিমালা ও আলাদাভাবে ব্যবসার স্বীকৃতি না থাকায় এখনো এ খাতের সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, এ খাতের প্রধান সমস্যা রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা। বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও তা দূর করা যায়নি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফুলের ব্যাপক কদর। বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে এ অঞ্চলের ফুল এবং ফুলজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নীতিমালার অভাবে পণ্যটি বিদেশে যাচ্ছে সবজি কিংবা পান হিসেবে। আবার বাংলাদেশ হর্টিকালচার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পানের সঙ্গে ফুলের রপ্তানি আয়ের হিসাব করা হয়। তাই অগ্রসরমাণ এ খাতকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত ফুলনীতি, স্থায়ী বাজার এবং ফুল নিয়ে গবেষণার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও চাষিরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এম আহসান উল্লাহ বলেন, ‘খাতটির বিকাশে সঠিক নীতিমালা ও আলাদাভাবে ব্যবসার স্বীকৃতি প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ফুল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। এক্ষেত্রে গবেষণাকেন্দ্র স্থাপিত হলে টিস্যু কালচার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে।’ যশোরের ঝিকরগাছা ও সাভারে ফুল গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন এই ব্যবসায়ী নেতা। রপ্তানির সুবিধার্থে তিনি বলেন, ‘ফুল একটু স্পর্শকাতর পণ্য। অথচ বিমানবন্দরে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই। এতে করে অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ বিষয়েও নজর দেওয়া উচিত সরকারকে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
21 22 days 04 05 hours 25 26 minutes 58 59 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT