রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ মূল্য সমাচার ও আমাদের নির্ভরশীলতা! ◈ রাণীশংকৈলে দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পূর্ণ ◈ ট্রেন দুর্ঘটনা:মানিকছড়িতে আজকের প্রজন্মের দোয়া মাহফিল ◈ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু পরিষদ ইউ. এ. ই. কেন্দ্রীয় কমিটির স্মরণ সভা ◈ গাজীপুরে দুই স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ◈ ভেদরগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র গুলোতে ময়লার ভাগাড় দেখার কেউ নেই ◈ ফরিদগঞ্জ পাইকপাড়ায় বসত ঘরে পুড়ে ছাই ◈ রিক্সায় ফেলে যাওয়া ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন রিকশাচালক ◈ মোহনপুরে ফিল্যানন্সিং-আউটসোর্সিংয়ের উদ্বোধন ◈ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যুব সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে-এমপি রতন

ভবিষ্যতের বিকল্প জ্বালানি হাইড্রোজেন

কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ১৫ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

প্রতি বছর বর্জ্য থেকে দেশে ১৮.২২ মিলিয়ন টন হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো ফসিল ফুয়েল ফুরিয়ে গেলে বিশ্বে বিকল্প জ্বালানির অন্যতম উৎস হবে হাইড্রোজেন। এরই মধ্যে উন্নত দেশগুলো হাইড্রোজেন-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে এ প্রযুক্তির বিষয়ে গবেষণা করছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন সফল হলে ভবিষ্যতের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পরিচিত হাইড্রোজেন বাংলাদেশের আর্থিক খাতে যুক্ত করতে পারে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাবের বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে চট্টগ্রামে কাজ করছেন। গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোজেন উৎপাদন সফল হলে মিথেন বা এলএনজির বিকল্প হিসেবে যানবাহন, বাসাবাড়ি ও কারখানায় হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের ওপর নির্ভরতা কমবে।

চট্টগ্রাম হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাবের গবেষকরা জানান, প্রতি কেজি ডিজেল পুড়িয়ে পাওয়া যায় ৪৪ মেগাজুল শক্তি, আর মিথেন (প্রাকৃতিক গ্যাস) পুড়িয়ে পাওয়া যায় ৫৫ কিলোজুল।

সেখানে হাইড্রোজেন ব্যবহারে প্রতি কেজিতে ১৪২ কিলোজুল শক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ১ কেজি পেট্রোল ব্যবহার করে একটি গাড়ি যেখানে ১৬ কিলোমিটার চলে সেখানে হাইড্রোজেন ফুয়েলে চলতে পারে ১০০ থেকে ১৩১ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাবরেটরি, বিসিএসআইআর-এর প্রকল্প পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাইড্রোজেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সফল হলে যানবাহন, বাসাবাড়ি ও কারখানায় হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। প্রথমে মূল্য কিছুটা বেশি পড়লেও হাইড্রোজেন জ্বালানি তিন গুণ বেশি সার্ভিস দেবে। বাংলাদেশকে এখন ৬১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। উৎপাদিত হাইড্রোজেন গ্যাসের মাধ্যমে সেই খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

ওয়ার্ল্ড হাইড্রোজেন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ হতে পারে হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে। ১৯৭৪ সালে ফসিল ফুয়েলের চাহিদা ছিল খুব বেশি। ২০৭৪ সালে তা একেবারেই কমে যাবে, বাড়বে হাইড্রোজেনের চাহিদা।

ইংল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ শুরু করেছে। আর হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, বছরে সারাবিশ্বে বায়ু দূষণের কারণে ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে হাইড্রোজেন গ্যাসের ব্যবহার বাড়লে দূষণের সেই ক্ষতি কমিয়ে আনা অনেকাংশেই সম্ভব।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারে বাণিজ্যিক সফলতা পেলে এটা ভবিষ্যতে মেগা প্রকল্প হতে পারে। সারা পৃথিবী এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য বিকল্প উৎস খুঁজছে। আমাদেরও পিছিয়ে থাকা উচিত হবে না। পাইলট প্রকল্প হিসেবে আমরা হাইড্রোজেন গবেষণা শুরু করেছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির কথা চিন্তা করে আমরা নানা প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও আত্মীকরণ করব।’

এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামে গত দুই বছর ধরে কাজ করছেন হাইড্রোজেন এনার্জি ল্যাবের বিজ্ঞানীরা। ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে ১৪ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর হাইড্রোজেন গবেষণাগার ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে হচ্ছে হাইড্রোজেন পাওয়ার প্লান্ট। ২০২০ সালের জুনে প্রাথমিকভাবে উৎপাদনে যাবে হাইড্রোজেন প্লান্ট। শুরুতে প্রতিদিন ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছেন তারা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য উৎপাদন হয়। হাইড্রোজেন ল্যাবের বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পলি বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য বা পড়ে থাকা গাছের ডাল, লতাপাতা আর প্রাকৃতিক পানি থেকেই হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া এই ল্যাবে শহরবাসীর বর্জ্য বা বায়োমাস থেকে গ্যাসিফিকেশনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা পানির ফটোক্যাটালাইসিসের মাধ্যমে গ্যাসীয় ও তরল হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করা হবে। ল্যাবে পরীক্ষামূলকভাবে পড়ে থাকা গাছের ডাল, কাণ্ড পুড়িয়ে হাইড্রোজেন উৎপাদন শুরুর পাশাপাশি সেখান থেকে উপজাত হিসেবে যে অক্সিজেন পাওয়া যাবে তাও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ২০৭৪ সালে যখন বিশ্বে কয়লার মজুদ একদম ফুরিয়ে আসবে, তখন হাইড্রোজেনের মতো বিকল্প জ্বালানি খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। সিএনজি ব্যবহার করলে বিস্ফোরণের যতটা আশঙ্কা থাকে, হাইড্রোজেন গ্যাস বা জ্বালানিতে সে শঙ্কা অনেকটাই কম। অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় হাইড্রোজেন পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ। হাইড্রোজেন সিলিন্ডারে রিফিল করে মেটাল ট্যাংকারে করে বাসা-বাড়িতে তরল হাইড্রোজেন গ্যাস সরবরাহ করা এবং সেই গ্যাসে ফুয়েল সেলের মাধ্যমে তৈরি শক্তি সার্কিট ব্রেকারের মাধ্যমে বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ সম্ভব কি-না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, হাইড্রোজেন যদি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানির ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। হাইড্রোজেনে কার্বন নিঃসরণের ব্যাপার না থাকার এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের যুগ্মসচিব (অর্থ) মো. শওকত আলী বলেন, ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী উৎপাদনের কথা ভাবছি আমরা। উন্নত দেশগুলো ফসিল জ্বালানি বাদ দিয়ে এখন নতুন সব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, হাইড্রোজেন প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে এখন ৬১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার পরিশোধিত, অপরিশোধিত ও লুব বেইজড অয়েল আমদানি করতে হয়। এর ৪৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ব্যবহার করছে যানবাহন, ২৬ দশমিক ৯২ শতাংশ ব্যবহার করছে শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT