রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্ল্যাক রাইস ফসলের মাঠ যেন সবুজ আর বেগুনি পাতার বিছানা

প্রকাশিত : 12:53 PM, 19 October 2019 Saturday ১৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

কুমিল্লার উদ্ভাবনী কৃষক মনজুর হোসেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাতটি দেশের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবুজ ও বেগুনি পাতার কালো চালের (ব্ল্যাক রাইস) ধানের বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজস্ব জমিতে চাষ করে কৃষক ও কৃষি বিভাগসহ সবার নজর কেড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তৃত পরিসরে চাষ করা ব্ল্যাক রাইসের ফসলের মাঠ এখন যেন সবুজ আর বেগুনি পাতার বিছানায় রূপ নিয়েছে। উদ্ভাবনী কৃষক মনজুর হোসেন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রাম এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

মনাগ্রামে গিয়ে জানা যায়, কৃষক মনজুর হোসেন ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ব্ল্যাক রাইসের মাত্র ২৭টি ধান সংগ্রহ করে তা থেকে উত্পাদিত ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করেন। এরপর নানাভাবে বিভিন্ন দেশের সবুজ ও বেগুনি পাতার ব্ল্যাক রাইস বীজ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে নিজের জমিতে স্বল্প পরিসরে চাষ করে গত বোরো মৌসুম পর্যন্ত ৭৬ কেজি ধান উত্পাদন করেন।

মনাগ্রামের কৃষক মো. বিল্লাল, চারু মিয়া, শাহজাহান, ছিদ্দিক মিয়া, হিমান, আনোয়ার, হরিপদ, রকিব, আবুল, গৌরাঙ্গ, আবদুর রশিদ, পলটন ও হানিফ ভূঁইয়া জানান, এ ধানের বাজার মূল্য অন্যান্য ধানের চেয়ে অনেক বেশি জেনে তা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কৃষক শাহজাহান ও ছিদ্দিক মিয়া জানান, এ ধান দেশীয় ধানের চাষাবাদের মতোই। এর ফলনও দেশীয় ধানের মতো হবে এবং অধিক লাভবান হওয়া যাবে।

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ ছাড়াও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ প্রায় সময় ওই কৃষকের জমি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণসহ এসব ধান চাষাবাদের কলাকৌশল, ফসলের তদারকী, পরিচর্যা, বীজ সংরক্ষণের পরামর্শ প্রদান করছেন।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ছালেকুর রহমান জানান, কৃষক মনজুর প্রথমে ২৭টি কালো চালের ধান সংগ্রহ করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, জাপান, চীন ও ভিয়েতনামে উত্পাদিত সবুজ ও বেগুনী পাতার ব্ল্যাক রাইসের বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে চাষ করে বীজ সংরক্ষণ করেন। এবার আমন মৌসুমে তিনি ১৫ জন কৃষকের ১০ একর জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক কৃষিবিদ দিলীপ কুমার অধিকারী বলেন, ‘আমরা ব্ল্যাক রাইসের বীজ কুমিল্লাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর একই সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বছরব্যাপী ফল উত্পাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ জানান, কিছুদিন আগে কৃষক মনজুরের ব্ল্যাক রাইস ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছি। কৃষক মনজুর যা করেছেন তা ব্যতিক্রম।

কৃষক মনজুর হোসেন বলেন, ‘দেশে আমদানি করা এক কেজি কালো চালের দাম এক হাজার টাকা। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই চাল সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে। তাই প্রথমে ইন্দোনেশিয়ার মাত্র ২৭টি ধান সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করে বীজ উত্পাদন করি। এরপর বিভিন্নভাবে আরো ছয়টি দেশের ব্ল্যাক রাইসের বীজ সংগ্রহ করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে চাষ করে বীজ সংরক্ষণ করেছি। এবার বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করে প্রতিমণ ধান ২ হাজার টাকায় কেনার চুক্তিতে ১৫ জন কৃষকের ১০ একর জমিতে চাষ করা হয়েছে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT