রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:০১ পূর্বাহ্ণ

ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

প্রকাশিত : ০৫:৪৬ AM, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার ৩২৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ১১ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) ইস্যুতে জনসন এখন আরও চাপের মুখে পড়লেন। আর ব্রেক্সিট ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আরও ক্ষমতা পেলেন এমপিরা। রায়ের পর বিরোধী দলগুলোর নেতারা একযোগে জনসনকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করা জনসন বলেছেন, রায়ের সঙ্গে একমত নই, তবে সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করি। জনসনের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করে জানানো হয়েছে, রায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

গতকাল ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়টি পড়ে শোনান সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রবীণ বিচারক লেডি ব্রেন্ডা হাল। রায় ঘোষণায় তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিটের আগে পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত ছিল ভুল পদক্ষেপ। ব্রিটেনের গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর প্রধানমন্ত্রীর এ পদক্ষেপের প্রভাব ছিল চরম। তিনি আরও বলেন, রানীকে পার্লামেন্ট স্থগিতের অনুরোধের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল না। কারণ এর মধ্য দিয়ে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পার্লামেন্টের সাংবিধানিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রদ করা হয়েছে। ব্রেন্ডা হাল বলেন, ১১ বিচারকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো- পার্লামেন্ট স্থগিত হয়নি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন পার্লামেন্টের, বিশেষ করে দুই কক্ষের স্পিকারের হাতে। রায় ঘোষণার পরপরই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো জানিয়েছেন, বুধবার (আজ) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হবে। স্পিকার জন বারকো প্রথম থেকেই জনসনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, বুধবার পার্লামেন্ট বসলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ফেলেই তাকে দেশে ছুটতে হতে পারে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী লেবার পার্টির নেতা করবিন বলেছেন, জনসনের এখন উচিত তার অবস্থান বিবেচনা করে পদত্যাগ করা। ব্রেক্সিট-বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাট (লিব ডেম) নেত্রী জো সয়িনসন বলেন, সরকার পরিচালনার জন্য জনসন অযোগ্য। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেত্রী নিকোলা স্টারগনও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সরকার চালানোর অযোগ্য বলে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোদের একজন ব্রেক্সিট-বিরোধী ব্যবসায়ী জিনা মিলার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে নন। জনসনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এমপি জোয়ান্না চেরিসহ বিরোধী দলের ৭০ জনের বেশি এমপি। রায়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। গত ১০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করেন জনসন। বিশ্নেষকরা তখন বলেছিলেন, ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে এমপিরা যাতে কথা বলতে না পারেন তার জন্যই জনসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT