রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ৩ মাসেও উদ্ধার হয়নি সরকারি বিএস কোয়ার্টারের সম্পত্তি ◈ শাহজাদপুরে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত ◈ ফুলবাড়ীতে সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও সম্মাননা প্রদান ◈ বগুড়ার শেরপুরে গণডাকাতির ঘটনার আঠারো দিনের মাথায় আবারও ডাকাতির চেষ্টা ◈ বগুড়ার শেরপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত নারীর মৃত্যু, থানায় মামলা গ্রেপ্তার ১ ◈ বগুড়ার শেরপুরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ◈ বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত ◈ বগুড়ায় দুপচাঁচিয়ায় ট্রাক চাপায় নিহত ২ ◈ বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় ৩ জন ছুরিকাহত, আটক ২ ◈ কালিহাতীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মানববন্ধন

তিন মাসে কোটিপতি বাড়ল ৯৪৩ জন

ব্যাংকের হিসাবে সংখ্যা ৭৬ হাজার

প্রকাশিত : ১১:৪৫ AM, ৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার ২৩৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশে অস্বাভাবিক হারে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের (২০১৯) মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ২৮৬টি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭৫ হাজার ৩৪৩টি। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার হিসাব বাড়ল ৯৪৩টি। ১০ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৬৩৬ জন। এ হিসাবে গত ১০ বছরে ৫৬ হাজার ৬৫০ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন করে কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কেউ অবৈধভাবে বেনামে একাধিক হিসাবে টাকা রাখলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। কাজেই কোটিপতি হিসাবের প্রকৃত সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া দেশের এমন অনেক কোটিপতি রয়েছে যাদের ব্যাংকে কোটি টাকা নেই কিন্তু কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় স্থান পায়নি বলেও মনে করছেন তারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা যেটা দেখাচ্ছে বাস্তবে কোটিপতির সংখ্যা আরও বেশি। অন্যদিকে দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আমাদের দেশের আয় বৈষম্য অতিমাত্রায় ধরে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কোটিপতিদের বড় একটি অংশ কালো টাকার মালিক। এ কালো টাকার সুবাধে সমাজে একটি বিশেষ শ্রেণি ধনী হয়ে যাচ্ছে। অন্য শ্রেণি পেছনে পড়ে যাচ্ছে, তারা গরিব থেকেই যাচ্ছে। জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ প্রবাহের ৭০ শতাংশেরও বেশি ঋণ কোটিপতিদের দখলে। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ আমানতকারী মোট ঋণ প্রবাহের ৭০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছেন। সুতরাং কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যার চেয়ে কোটিপতি ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ১৩০টি। ২০১৮ সালে ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে ছিল ৭৫ হাজার ৩৪৩টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ১০ বছরে ৪০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা ছিল ৩১৪টি। ২০০৯ সালে ৪০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা ৫০টি। এখন রয়েছেন ৩৬৪টি। গত ১০ বছরে ১৭৫ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৩৫ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ৩৫ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৯টি। ২০০৯ সালে এ তালিকায় ছিল ৪৪টি।

জুন শেষে ৩০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা ৩০৭টি। ২৫ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা ৫২২টি। ২০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা বর্তমানে ৯০৯টি। ১৫ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা হিসাব সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৬টি। ১০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা ব্যক্তির হিসাব সংখ্যা ২ হাজার ৯৩০টি। ৫ কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা ব্যক্তির হিসাব সংখ্যা ৮ হাজার ৫৩০টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, দেশের অর্থনীতির ক্রমাগত উন্নতি হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে ধনীর সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের অর্থ বাড়ায় বেশি পরিমাণে ভোগ করছে। এটা খুবই ইতিবাচক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রতিবেদনগুলোয় কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা রয়েছে তবে কোটিপতিদের হিসাব নয়। সুতরাং কোটিপতির সংখ্যা লেখাটা ভুল। যেহেতু কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা দেওয়া আছে সুতরাং এসব হিসাব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের থাকতে পারে এমনকি একই ব্যক্তির একাধিক হিসাবও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮ জনে। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি ছিলেন ২ হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জনে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জনে। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT