রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কলমাকান্দায় যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ◈ তাহিরপুরে দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাথে থানা পুলিশের মতবিনিময় ◈ ভালুকায় তিতাস গ্যাস অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি এখন ‘নিয়ম’ ◈ করোনার কারনে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানের ৮৫ স্কুল ছাত্রী ◈ হামলার প্রতিবাদে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ◈ বেলান নদীর সাঁকো ভেঙে লাখো মানুষের ভোগান্তি ◈ সেলিম মন্ডল কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী ◈ চরম আর্থিক সংকটে নির্বাচন থেকে পিছু হটলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জসিম ◈ ভূঞাপুরে “প্রতিভা ছাত্র সংগঠন” এর চারা রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন ◈ ফুলবাড়ীয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার

ব্যাংকার থেকে উদ্যোক্তা মৌ

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ PM, ৯ মার্চ ২০২১ মঙ্গলবার ২৫৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মাছুমা আনজুম মৌ, জন্ম বগুড়ায়। বাবা-মার তিন মেয়ের মাঝে মৌ দ্বিতীয়। বাবা একজন সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মা হাউজ ওয়াইফ। বাবা ব্যাংকার হবার কারনে ছোটোবেলা থেকেই মৌয়ের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে বাবার মতো ব্যাংকার হবে এবং বাবার ছেলে নেই যেহেতু, সেহেতু মেয়ে হয়ে ছেলের মতো সে বাবা-মার পাশে দাঁড়াবে। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ২০০৭ সালে পড়াশোনার কারনে মৌ চলে আসেন ঢাকায়। যেহেতু তার স্বপ্ন ছিল বাবার মতো ব্যাংকার হওয়া, যার কারনে বিবিএ এর সাবজেক্ট হিসেবে ফ্যাইনান্সকে বেছে নেয় মৌ। অনার্স তৃতীয় বর্ষে থাকা কালীন সময় মৌয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পরেও মৌ পড়াশোনা চালিয়ে যান। অনার্স শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর জব পেয়ে যান দেশের স্বনামধন্য ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট লংকা বাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড এ।

মৌ বলেন, ‘জবের এক বছর শেষ হতেই ২০১৫ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর এ এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির জন্য আমার একটি মেজর অপারেশন হয়। একই সময় আমার হাজবেন্ড এক বছরের জন্য চায়নাতে একটি কোর্সের জন্য সিলেক্ট হয়। এই রকম অবস্থায় কোন ভাবেই আমাকে দেশে রেখে আমার হাজবেন্ডের একা যাবার ইচ্ছা ছিল না। যার জন্য জব ছেড়ে দিতে হয় এবং হাজবেন্ডের সঙ্গে এক বছরের জন্য চায়না চলে যাই। এক বছর পর দেশে ফিরে এসে আমি আবার ও জব খোঁজ করতে থাকলাম। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারিতে এবি ব্যাংকে জয়েন করি। আর জব করার কারনে আমি থাকতাম ঢাকায় আর আমার হাজবেন্ড থাকতো কক্সবাজার। কিন্তু ২য় বার আবার ও সন্তান সংক্রান্ত জটিলতার কারনে এক পর্যায়ে এসে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি বাধ্য হলাম জব ছেড়ে দিতে। জব ছাড়ার ৩ মাস পরেই করোনার জন্য সারা দেশ লকডাউন হয়ে যায়। লকডাউনে সারাদিন বাসায় একা থাকতাম। এর মাঝে জুলাইতে কক্সবাজার থেকে আমার হাজবেন্ডের ঢাকায় পোস্টিং হয়। তখন ঘরে বসে কিছু করার চিন্তা করতে করতে হঠাৎ মাথায় আসলো অনলাইন বিজনেস এর কথা। ছোটবেলা থেকেই আমি ডিটারমাইন্ড ছিলাম। আমি ঘরে বসে থাকবো না অবশ্যই নিজের একটা আলাদা আইডেন্টিটি তৈরী করবো। এর মাঝে ফেইসবুক গ্রুপ উই (উইমেন্স এন্ড ই-কমার্স ফোরাম) এর সব আপুদের সাফল্যের গল্প পড়ে নিজে উদ্যোক্তা হবার অনুপ্রেরনা পেলাম এবং নিজের মধ্যে আলাদা রকম আত্মবিশ্বাস তৈরি হলো। তখন চিন্তা করতে থাকলাম আমার উদ্যোগকে কিভাবে বাস্তব রূপ দেয়া যায়। অল্প বয়স থেকে আমার শাড়ি এবং ফ্যাশন এর দিকে অনেক আগ্রহ থাকার কারনে আমার মনে হলো, মেয়েদের শাড়ি এবং গহনা আমার ব্যবসার মুল বিষয় হিসেবে বেছে নিলে খুব সহজেই আমার বিজনেসকে এগিয়ে নিতে পারবো। এছাড়া মসলিন শাড়ির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল আগে থেকেই তাই মসলিন শাড়ি এবং আমাদের দেশের তৈরীকৃত গহনাকে আমার ব্যবসার প্রধান পণ্য হিসেবে বেছে নেই। ২০২০ সালের ১লা নভেম্বর প্রথম আমার ‘UniqueO’ পেইজ এর যাত্রা শুরু এবং ২রা নভেম্বর প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে উইতে পোস্ট করি। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমি অনেক ভাল সফলতা পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। আমার পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের গন্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেও গিয়েছে বেশ কয়েকবার’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পুঁজি হিসেবে ছিল খুব অল্প কিছু শাড়ি এবং গহনা। এরপর আস্তে আস্তে শাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করি। সেই শাড়ি গুলোর ছবি তুলে পোস্ট করা শুরু করি। সেখান থেকেই অর্ডার আসতো। আমি খুব বেশি শাড়ি এবং গহনা স্টক করতাম না’।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মৌ বলেন, ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমার পেইজ ‘UniqueO’ কে মসলিন শাড়ি এবং আমাদের দেশের তৈরীকৃত গহনার প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা। আর একটা শো-রুম চালু করা। যেখান থেকে সবাই ইচ্ছে মতো দেখে শাড়ী এবং শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা নিয়ে যেতে পারবে। চ্যালেঞ্জ এর কথা বলতে গেলে, যেহেতু আমি এই লাইনে নতুন তাই মসলিন শাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে হয়েছে। কোথায় স্বল্প মূল্যে সেরা মানের পণ্য পাওয়া যাবে এটা খুজে বের করতে হয়েছে। এছাড়া আমার পেইজ নতুন হবার কারনে প্রতিনিয়ত নতুন সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তার সাথে কিভাবে আমার ব্যবসার উন্নয়ন, প্রসারন এবং নতুনত্ব আনা যায় এটা আমার ব্যবসার চলমান চ্যালেঞ্জ। সব কিছুর পরে আমার পরিবার সব সময় আমার শক্তি এবং সাহস জুগিয়েছে। আমার হাজবেন্ড কখনো আমার কাজকে ছোট করে দেখেনি। সে সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এছাড়া আমার বড় বোন যে সব সময় ছায়ার মতো আমার পাশে ছিলো। সে পাশে না থাকলে ব্যাবসায়ী হওয়ার সপ্ন দেখার সাহস আমি পেতাম না। আমি কখনো হতাশ হয়নি। কখনো হাল ছাড়িনি। আমার জীবনে অনেক উত্থান পতন এসেছে কখনো মনের জোর হারাইনি। সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছি। আত্মবিশ্বাস থাকলে, লক্ষ্যে পৌছাতে সময় লাগবে না। সব কিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে। আমার পরিবার আর আমার প্রিয় ভাইয়া আপুদের কাছে যাদের ভালোবাসায় এই পর্যায়ে এতো কম সময়ে আসতে পেরেছি। সবশেষে এই নারী দিবসে বলতে চাই, ‘প্রতিটি নারী নিজের আপন শক্তিতে আলোকিত করুক এই বিশ্বকে। নারী দিবসে সকল নারীর প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT