রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ মে ২০২১, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:০৪ পূর্বাহ্ণ

বেগুনে পচন রোগে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

প্রকাশিত : ০৫:৪১ AM, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার ১২৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

শেরপুরের চরে গোলবেগুন চাষ ভালো হলেও পচন রোগে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এ বিষয়ে কৃষি দফতর খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। সরেজমিনে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন চরে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বললে তারা তাদের দুশ্চিন্তা ও অভিযোগের কথা জানান। ডাকপাড়া চরের চাষি আবদুল আজিদ বলেন, ‘আগাম গোলবেগুন ২ হাজার টেহা মণ দরে বেচা ধরছি। অহন বাজারে প্রতি মণ বেগুনের দাম ১ হাজার ৬০০ টেহা। এ সময় ধরন্ত বেগুনগাছে এবং বেগুনে পচন ধরছে।’ তিনি ১০ বিঘা জমিতে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করে বেগুন আবাদ করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘অহন গাছে ও বেগুনে পচন ধরল। বিষ দিয়াও কাজ অইতাছে না। অহন চিন্তার মধ্যে আছি। কৃষি বিভাগের কেউ আমাগরে পরামর্শ দেওয়ার জন্য অহনতরি আহে নাই।’ একই এলাকার আশকর আলী ২ লাখ টাকা খরচ করে কয়েক বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাগুনের দাম বালাই আছিল। কিন্তু বাগুনের জোয়ার ও গাছ পইচা যাইতাছে গা।

অহন মাতা-মুতা খারাপ। কৃষি অফিসের বিএসরা আহে নাই। আমগরে বাগুনের খেত দেহে নাই। কোনো পরামর্শ পাইতাছি না।’ উজ্জ্বল মিয়া ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সাত বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন জানিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকার বেগুন বেচতে পেরেছেন। কলেন, ‘অহন বেগুনখেতে পন রোগ দেখা দিছে। চিন্তাই পইরা গেছি গা।’ বেগুনচাষি হামিদুর রহমানেরও অভিজ্ঞতা একই রকম। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে বেগুন ভালো অইছে। গাছও সুন্দর অইছে। চার পাখি জমিতে পৌনে দুই লাখ টেহা খরচ কইরা বেগুন করছি। এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ হাজার টেহার বেগুন বেচছি। মাঝে মাঝে বেগুনগাছে পচন ধরছে। কৃষি অফিসারদের অহনও চর এলাকায় আইতে দেহি নাই।’ চর এলাকার আশরাফ আলী এই বেগুন পাইকারি কেনাবেচা করেন। তিনি ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ দরে বেগুন কিনে ট্রাকে করে ঢাকা পাঠান বলে জানান। বেগুনখেতে কাজ করেন ওই এলাকার কৃষিশ্রমিক মেরাজ উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘কার্তিক মাসে আমগরে তেমন কামকাইজ থাহে না। চাষিরা এলাকায় বেগুন করায় আমরা গরিব মানুষ কাজ করতাছি। মজুরি দৈনিক ৫০০ টাকা। সংসার বালাই চলতাছে।’ কৃষিশ্রমিক আবদুর রশীদও তাদের দিনকাল ‘বালাই চলতাছে’ বলে জানালেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপপরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘গোলবেগুনের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। আগাম চাষ হওয়ায় চাষিরা দাম বেশি পাচ্ছেন। পচন রোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই জমিতে বেগুন চাষ করায় সমস্যা হচ্ছে। এক বছর বেগুন চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল করে পরের বছর আবার বেগুন চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছি। কৃষিকর্মীরা যাতে ঘন ঘন এলাকায় যান, সেজন্য তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT