রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:২৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

বৃষ্টি ভেজা বর্ষাকাল – শেখ একেএম জাকারিয়া

প্রকাশিত : ১০:০৫ PM, ৩ জুলাই ২০২১ শনিবার ১৩১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বৃষ্টি ভেজা বর্ষাকাল
শেখ একেএম জাকারিয়া

বৃ্ষ্টির দিনে আনন্দে মাতোয়ারা হওয়া দু’ বাংলার  মানুষের কাছে অন্যরকম এক সুখের রেওয়াজ। বৃষ্টি  দেখলেই দুদেশের কবি মনে কবিতা জেগে ওঠে। কলমখাতা নিয়ে বসে যান কবিতা ও গল্প লিখতে। প্রেমিক মনে  উদয় হয় প্রেমের। জেলেরা মাছ ধরতে ছুটে যায় হাওর খাল বিল নদীতে। কদমগাছে ফোটে কদম ফুল।  দখিনের বাতাসে ভেসে আসে  কদমফুলের ঘ্রাণ। কেউ হারমোনিয়াম নিয়ে রবীন্দ্র সংগীত গাইতে থাকেন,  “এমন দিনে তারে  বলা যায়, এমন ঘন ঘোর বরিষায়।” বৃষ্টি দিনে লেপকাঁথা মুড়ে অনেকেই লম্বা  ঘুম দিতে খুব পছন্দ করে। কেউ আবার পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থনে ব্যস্ত থাকে বৃষ্টি দিনে। গ্রীষ্মের প্রখর তাপে নিসর্গ যখন চঞ্চল হয়ে ওঠে, যখন খাঁ খাঁ রোদে অস্থির হয়ে থাকে  সুবৃস্তৃিত অরণ্য, গরমে অতিষ্ট হয়ে ওঠে জনজীবন,পিপাসিত চাতক যখন বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে  করুণ আকুতি নিয়ে তাকিয়ে থাকে,  কৃষকের চোখ যখন  বিনয়াবনত হয়ে সৃষ্টিকর্তার  নিকট  নিবেদন  জানায়, আল্লাহ মেঘ দে পানি দে, ছায়া দে রে তুই। আর তখনই তৃষ্ণাপীড়িত নিসর্গকে অমৃতে ভরিয়ে দিতে রিমঝিম  বৃষ্টি, প্রফুল্পতা ও কদম ফুলের সুরভী নিয়ে আসে বাঙালির প্রাণের ঋতু বর্ষা। বর্ষায় দেশীয় প্রকৃতি নতুন রূপে সজ্জিত হয়।  মানুষের  পিপাসিত মনে, গাছবৃকে, পুষ্পপত্রে  নতুন প্রাণের সঞ্চরণ ঘটে। নূপুরের রিনিঝিনি পায়ে  অবিশ্রান্ত ধারায় ঝরতে থাকে  বর্ষাবৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে চঞ্চল প্রকৃতি ও প্রাণীকূল। প্রবল বৃষ্টিতে  তলিয়ে যায় মাঠ-ঘাট-নদী-নালা-খাল-বিল-হাওর-ডুবা-পুকুর। মানবজীবনের সব আনন্দ-বেদনা ও  চাওয়া-পাওয়াকে পরম যত্নে ভিজিয়ে দেয় বর্ষা। বৃক্ষের শাখায়, পুষ্পপত্রের ফাঁকে পাখিরা শব্দহীন বসে থাকে। রাখালেরা ভীত ও আড়ষ্ট হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেয় নিজেকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে। এসময় জনবিরল পথের পাশে রাখাল গাছের নিচে নিজেকে কিছুটা রক্ষা করলেও অবুঝ গরুগুলো ভিজে একেবারেই নড়াচড়া করতে অক্ষম অর্থাৎ পারিপাট্যহীন।  আকাশ থেকে ভেসে আসা একটানা মেঘের  গুড় গুড় শব্দে মাঠ-ঘাট পথ-প্রান্তর থাকে জনমানবহীন ।
গাঁয়ের পার্শ্বে স্থিত জলাশয় কিংবা নদীর জলে বৃষ্টির রিনিঝিনি  ফোঁটায় সৃষ্টি হয় হালকা ধূসর রঙের কুয়াশাকৃতির  ঢেউ। এসময় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় বৃষ্টির ঘোলা জলের ধারা বইতে থাকে। সে ঘোলাজল উঁচু স্থান থেকে গড়িয়ে নিঁচু অর্থাৎ নদী বা পুকুরে গিয়ে মিশে। এ দৃশ্যে শিশুদের মন আনন্দে নেচে ওঠে।  তারা খালি গায়ে বাড়ির আঙিনায় নেমে বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করে।  চঞ্চল শিশু-কিশোরেরা নদী বা পুকুরের জলে চিৎ হয়ে হাত পা ছড়িয়ে নদী বা পুকুরের  শান্ত জলে ভাসতে থাকে। বৃষ্টি হলে কিছু কিছু  বাড়ির আঙিনায় পানি জমে থাকে। যারা একটু কমবয়সী ছেলেমেয়ে, যারা ইচ্ছে করলেই পুকুরে বা নদীতে সাঁতার কাটতে পারে না, বিশেষ করে তারাই খাতার কাগজ ছিঁড়ে তৈরি করে  কাগজের নৌকা। সে নৌকা ভাসিয়ে দেয় উঠোনের পানিতে। সে দৃশ্য দেখে খুব আনন্দ উপভোগ করে গৃহবাসী শিশুরা । কিন্তু দুষ্টু শিশু-কিশোরেরা এসব দেখে তাদের মনেও তর সয় না। বর্ষার থই থই পানিতে বড় আকারের কাগজের পালতোলা নৌকা বানিয়ে পুকুর ও নদীজলে ছেড়ে দেয়। হালকা বাতাসে চলতে থাকে কাগজের সেই নৌকাগুলো। ঝিরঝির বৃষ্টিতে  একসময় পানিতে ভরে ওঠে তাদের সেই  পালতোলা নাও। ডুবে যায় পুকুর বা নদী জলে। এ দৃশ্য শেষ হতে না হতেই গায়ের দস্যি ছেলে-মেয়েরা কলাগাছের ভেলা,  চাউড়ি গাছের ভেলা, বাঁশের বেলা বানিয়ে মনের সুখে এপাড়া থকে ওপাড়া,  এ খিত্তা থেকে ও খিত্তা ঘুরে বেড়ায়। বৃষ্টির পর ডোবা-নালা, পুকুরের জল কাঁদাজলে মিশে প্রচণ্ড ঘোলা হয়ে ওঠে। এসব ঘোলা জলে হাপুস-হুপুস করে ভাত খাওয়ার  মতো ডুব সাঁতারে মেতে ওঠে গ্রাম্য বালক-বালিকারা। এই যে বৃষ্টির টাপুর টুপুর  শব্দ বাঙালির মনকে প্রকৃতির মতো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার  করে দিয়ে যায় তা কি আর কোথাও পাওয়া যাবে? পাওয়া যাবে না। এমন সৌন্দর্যে মন হারাতে হলে  পৃথিবীর তাবত মানুষকে আসতেই হবে শেখ ওয়ারিশের “একটা সোনার টুকরা আমার সোনার বাংলাদেশ”, জীবনান্দের  “রূপসীবাংলা”, নজরুলের “বাংলাদেশে।”

বর্ষাবৃষ্টিতে ভেজা মাটির সুধাগন্ধে  মন যেন কেমন আকুলিবিকুলি করে ওঠে। বড় আপন মনে হয় গর্ভধারিণী ও ভিটেমাটিকে। বর্ষায় খাল-বিল, ডোবা-নালা, বিল-ঝিল, পুকুর-নদীর ঘোলা জলে ভেসে বেড়ায় ছোট–বড়  নানা প্রজাতির  মাছ।  হালকা পানির স্রোতে ভেসে চলে  চেলা, কৈ, শিং  পুঁটি, পাবদা, ডানকানা, টাকি, টেংরা মাছের ঝাঁক। বর্ষাদিনে জলের ওপরে ফোঁটা কদম, কেয়া, জুঁই, চামেলি ফুলের গন্ধে  মাতোয়ারা থাকে বাড়ির আশপাশ। প্ৰাণবন্ত তরু ও লতাপাতার সবুজাভ রূপ দুই বাংলাকে বিশেষত বাংলাদেশকে এক অতুলনীয় সাজপোশাকে  সাজায়। ননয়নমনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে বাংলার প্রকৃতি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT