রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:৪২ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

বিশ্ব এইডস দিবস : ভয়াবহ মরণব্যাধি এইডস

প্রকাশিত : ১২:৩৯ PM, ১ ডিসেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার ২৬৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বে প্রতি বছর এ দিনটি বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এই সময়ে সবচে’ বেশি আলোচিত মারাত্মক মরণ ব্যাধি হচ্ছে ‘এইডস’। যার পূর্ণ নাম- ‘এইডস’  (AIDS = Acquired Immuno Deficiency Syndrome)। এটি একটি ঘাতক ব্যাধি, যা এইচআইভি থেকে জন্ম নেয়। এই ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। এইচআইভি অন্যান্য  ভাইরাসের মতো হলেও এর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন। এখনও এরোগের কোনও ভ্যাকসিন বা প্রতিরোধক উদ্ভাবিত হয়নি। এইচআইভি ভাইরাস সৃষ্ট ভয়াবহ  এইডস রোগ ইপিডিমিক আকারে ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এবং যারা এই রোগে মারা গেছে  তাদের প্রতি শোক পালন করতে ‘১লা ডিসেম্বর’ দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও স্বাস্থ্য আধিকারিকগণ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, বিশ্বে বিভিন্ন ব্যক্তি, এইডস প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে এই দিনটি পালন করে।
বিশ্ব এইডস দিবসটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দ্বারা চিহ্নিত, বিশ্ব জনস্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে ঘোষিত, আটটি বিশেষ দিবসের মধ্যে একটি। বাকি সাতটি দিবস হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, বিশ্ব টিকা দিবস, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস এবং বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস।  ভাবনার বিষয় এই যে, বর্তমান বিশ্ব যেখানে কম্পিউটারের সাহায্যে বিশ্বব্যাপী উপাত্ত বিনিময়ের সংযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিজ্ঞানের আলোড়নে উচ্ছলিত, এইডস নামধেয় শঙ্কাজনক ব্যামোর বর্তমানতা সেখানে সভ্যতার  speed breaker। পৃথিবীর সব দেশেই আজ এইডস-এর বিদ্যমানতা লক্ষ করা যায়। ছোটবড় সবাই বিদিত যে, এইডস হলে নিশ্চিত মৃত্যু। এইডস কী কারণে হয় এ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানারকম মত চলিত। দুখের কথা এসব মতের বেশির ভাগই প্ৰলাপ। এইডস সম্পর্কে সমাজে অনেক ভ্ৰমযুক্ত বিশ্বাস বিরাজমান। এসব ভ্ৰমযুক্ত বিশ্বাস দূর করতে হলে সচেতনতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন,যা কেবলমাত্র শিক্ষার দ্বারাই সম্ভব। এইডস এমন এক দুশ্চিকিৎস্য ব্যাধি, যার নিরোধ আছে কিন্তু কোনও প্রতিবিধান নেই। এ ভাইরাস নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ভাইরাস কী? কীভাবে ছড়ায়? কাদের কাছ থেকে ছড়ায় আরও কত কী!  আদতে ভাইরাস হচ্ছে নিউক্লিক প্রোটিন দ্বারা গঠিত, অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম এক ধরণের জীবাণু, যা কী-না সুনির্দিষ্ট পোষক কোষে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে কেবল সেখানেই বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। মানবদেহের জন্য অনিষ্টকর, এমনকিছু ভাইরাস রোগের নাম হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, এইডস, ক্যান্সার, হার্পিস, বসন্ত, হাম, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি। এইডস রোগের জীবাণু বা ভাইরাসের নাম হলো এইচআইভি । এইচআইভি এমন এক ধরণের রেট্রো ভাইরাস যা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উপায়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। HIV-এর পূর্ণরূপ হলো Human Immune Deficiency Virus। পৃথিবীতে দুই ধরণের এইচআইভি পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- HIV1, HIV2। এইডস-এর ইতিহাসে ভাইরাস দুটিকে মোটামুটি সেকেলেই ধরা যায়। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় আজ থেকে প্রায়  ৬০ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৯৫৯ সালে ব্রিটেনে। সত্তর-এর দশকে আফ্রিকায়, ১৯৮১ সালের ৫ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৭৭-৭৮ সালে হাইতি, হাভানায় এবং ১৯৮৪ সালে থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এইডস ছড়িয়ে পড়ে। যে বছর মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে এইডস ধরা পরে সে বছরই অর্থাৎ ১৯৮১ সালেই প্রথম এইডসকে প্রাণঘাতী ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং এই রোগের কারণসমূহও চিহ্নিত হয়। হলিউডের সুপ্রসিদ্ধ অভিনেতা হাডসন ১৯৮৫ সালে যখন এরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তখন পৃথিবীব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, ১৯৮৫ সালেই মানব রক্তে এইডস রোগের ভাইরাস আছে কী-না তার পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়। তৎপর ১৯৮৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে এ রোগ দেখা দেয়।

উল্লিখিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে  প্রতিটি মানুষের এইডস রোগের বিস্তার ও কারণ জানা অত্যন্ত জরুরি ও তাৎপর্যবহ। এইচআইভি ভাইরাস কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মানবদেহের ভেতরে থাকা চার ধরণের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়। এগুলো হলো রক্ত, বীর্য, যোনিরস ও মাতৃদুগ্ধ। এই চারটি তরল পদার্থ যদি কোনও এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে কোনও সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে তবেই তিনি এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। এইচআইভি-তে আক্রান্ত হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ  কারণগুলো হলো-এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে অনিরাপদ যৌন সংগম করা, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করা, এইচআইভি বহনকারী মা-এর মাধ্যমে তার গর্ভস্থ সন্তান অথবা জন্মদানের সময় বা জন্মের পর দুগ্ধদানের মাধ্যমে সন্তান এইচআইভি-তে আক্রান্ত হতে পারে, রক্তদানের সময় দানকৃত ব্যক্তির এইচআইভি থাকলে তা গ্রহণকারীর রক্তে সঞ্চালনের মাধ্যমে গ্রহীতার এইচআইভি হতে পারে। এছাড়া মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ যারা ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য সরাসরি দেহে প্রবেশ করায়, তাদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি অনিরাপদ যৌন মিলনের চেয়েও বেশি।
বিশ্বে এইডস-এর বিস্তার সম্পর্কে বই-পত্রিকাদি পাঠে জানা যায়, UNAIDS ও WHO এর হিসাব অনুযায়ী ২০০৩ সাল পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে ৪০ মিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক ও শিশু  যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত ছিল। বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে এইডস ছড়াচ্ছে। ২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, এইডস আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩.২ মিলিয়ন, এর মধ্যে ৩,৩০,০০০ জনই  শিশু ছিল। আর বাকি ৩ কোটি ৩২ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েই বেঁচে আছে। ২০১৭-এর হিসাব অনুযায়ী, এইডসের জন্য বিশ্বজুড়ে ২৮.৯ মিলিয়ন থেকে ৪১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে, এবং আনুমানিক ৩৬.৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি সংক্রামিত হয়ে বেঁচে আছে, এর ফলে এটি নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয় হিসাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে সাম্প্রতিক উন্নত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পৌঁছোনোর ফলে, ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যায় মৃত্যুর পর এইডস মহামারী থেকে মৃত্যুর হার কমেছে (২০১৬ সালে ১ মিলিয়ন, যেখানে ২০০৫ সালে ছিল ১.৯ মিলিয়ন)। বিশ্বে এ পর্যন্ত মোট ৬ কোটির বেশি লোক এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়াতে এইচআইভি আক্রান্ত নারীপুরুষ ও শিশু ছিল ৫.৮ মিলিয়ন। একই অঞ্চলে ২০০০ সালের হিসাব অনুযায়ী ৭,০০,০০০ জন এইচআইভি আক্রান্ত ছিল। এদের মধ্যে ৪,৫০,০০০ জন পুরুষ ও ২,৫০,০০০ জন নারী। বর্তমানে এ অঞ্চলে ৭২ লাখ লোক এইচআইভি-তে আক্রান্ত। যার মধ্যে ২০০২ সালেই ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু  আক্রান্ত হয়েছিল। গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে অর্থাৎ সর্বদিক বিচারে এশিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই দুঃখজনক। এদিকে আমাদের বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। যার পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ভুটানে এইচআইভি সংক্রমণের হার পর্যায়ক্রমে বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের সাথে এসব দেশের যোগাযোগ থাকার কারণে বাংলাদেশেও এইডস এর বিস্তার ঘটছে। বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত দুটো জেলা সিলেট ও চট্টগ্রামে এইডস-এ আক্রান্তের হার সবচে’ বেশি। এছাড়া সীমান্তে অবস্থিত জেলা যশোর ও রাজশাহীতেও এই হার চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের জন্য এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি থাইল্যান্ডের মতো হুমকি স্বরূপ। বাংলাদেশে এইচআইভি-তে আক্রান্ত হওয়ার সবচে’ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাজ হলো যৌনকর্ম যাদের পেশা।  ইনজেকশন-এর মাধ্যমে দেহে মাদক গ্রহণকারীরাও প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে রয়েছে।  এইডস-এ আক্রান্ত হওয়ার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাজ হলো-কিশোর ও তরুণ সমাজ যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে। অল্প বয়স্ক মহিলা ও মেয়ে শিশু, যাদের অর্ধেকের বেশি শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত।নিজের পরিবার, স্বজন ও সমাজ ছেড়ে আসা ভাসমান মানবসমাজ, যারা সচরাচর-ই একাকিত্বের কারণে যৌনকর্মীদের সঙ্গে রতিক্রিয়া  করে থাকে। এছাড়া মাদকসেবী জনসমাজ যারা অর্থের জন্য অনিরাপদ যৌন মিলনে বাধ্য হয়। এবার এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। এইডস-এর লক্ষণ সমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- মাঝে মাঝে জ্বর, উদরাময়, মাথা ব্যথা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস। মুখের ভেতর, ঠোঁটে ও জিভে সাদা পর্দা পড়া। মারাত্মক দুর্বলতা, হজম শক্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস। শুকনা কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট। গ্রন্থিসমূহ যেমন গলা, বগল, ঊরু ও কোমরের সন্ধিস্হল ফুলে যাওয়া। রাতে ঘাম হওয়া, অনিদ্রা ও ওজন কমে যাওয়া। পিঠে, মুখে ও গলায় ফুসকুরি ইত্যাদি।

মরণ ব্যাধি এইডস-এর কবল থেকে  রক্ষা পেতে হলে এইডস প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি ও তাৎপর্যবহ। এইডস প্রতিরোধে মানবজাতির যা করতে হবে তা নিম্মরূপ- ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। বিশেষত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিশ্বস্ততা বজায় রাখা। যৌন সম্পর্ক স্থাপনে নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করা। এছাড়া বহু নারী সংস্পর্শে আসা ও গণিকালয়ে যাতায়াত বন্ধ করা। রক্তদানের পূর্বে রক্তদাতার রক্তে এইচআইভি- আছে কী-না তা পরীক্ষা করা। অন্যের সুঁই, সিরিঞ্জ, ব্লেড, রেজার, ক্ষুর ইত্যাদি ব্যবহার না করা। এইডস আক্রান্ত মায়ের গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকা। মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা এবং সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি অনলাইন-অফলাইন সব গণমাধ্যমে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো।

সর্বোপরি, এইডস প্রতিরোধে বাস্তবমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে। বিদ্বজ্জনের সমাজে সচেতনতা থাকলে, পুরো জাতিকে সচেতন করে তোলা সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে চলিত শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে পারে না। পাঠ্য পুস্তকে এইডস-এর সচেতনতামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধিতে এ সময়ে নতুন এক জ্যোতিষ্ক হলো জীবন দক্ষতামূলক শিক্ষা (LSE=Life Skill Education) এর মাধ্যমে  রাষ্ট্র বা সমাজের অধিকাংশ লোককে সচেতন করে এইডস-এর মতো ভীতিকর অসুখ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পরিশেষে এটাই বলা, এইডস একটি শঙ্কাজনক মৃত্যুরোগ। যা বিশ্বে দ্রুগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। আজ অবধি এ রোগের কোনও প্রতিষেধক অর্থাৎ প্রতিরোধ করে এমন কোনও ওষুধ উদ্ভাবিত হয়নি। তাই এখন-ই বিস্তৃত পরিসরে সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চালাতে হবে। এই সচেতনতা কার্যক্রম সফল না হলে কিংবা দমন ব্যবস্থা না আসলে এ রোগ খুব দ্রুত ইপিডিমিক আকার ধারণ করবে এবং পুরো বিশ্বকে বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে। মানবজাতির বিদ্যমানতা লুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এইডস নিরোধে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখকঃ শেখ একেএম জাকারিয়া
মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট
সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT