রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:৩৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ঘাটাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে ওসির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ শরীয়তপুরে সাংবাদিক নেতা পারভেজ এর উপর হামলা,নিন্দা জানিয়েছে ডামুড্যা প্রেসক্লাব ◈ কালিহাতীতে যাত্রীবাহি বাস নিয়ন্ত্রণ হা‌রিয়ে খা‌দে! নিহত এক ◈ করিমগঞ্জ থানার (ওসি) মমিনুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ (ওসি) নির্বাচিত ◈ ভূঞাপুরে চার মোটরসাইকেল চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ◈ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ◈ চিরিরবন্দরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ ◈ শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের বেসিনে নেই সাবান-পানি, এক বছরেই ব্যবহার অনুপযোগী ◈ ফুলবাড়ীয়ায় হাত ভাঙা বৃদ্ধা ও হাসপাতাল শয্যায় অসহায় রোগীকে অর্থ সহায়তা প্রদান ◈ আড়িয়াল বিলে অস্থায়ী হাঁসের খামার

বিধিনিষেধ শিথিল: সামনে মহাবিপদ অপেক্ষা করছে

প্রকাশিত : ০২:২৯ PM, ৯ অগাস্ট ২০২১ সোমবার ৭২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে টানা ১৫ দিন ধরে দুইশর ওপরে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। একটি আইসিইউ বেডের জন্য এখনই ৪০ জন গুরুতর করোনা রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার ওপর এবার এসেছে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের ঘোষণা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সামনের দিনগুলোতে মহাবিপদ অপেক্ষা করছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, লকডাউন দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য করোনা সংক্রমণ রোধ করা যায়। টিকা-গ্রহীতারাও নিরাপদ নন। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর ভ্যাকসিনের কাজ শুরু হয়। তাই এখন স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরতেই হবে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। মাস্ক না পরলে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, লকডাউন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। লকডাউন দেওয়ায় সংক্রমণ কিছুটা কমবে। তবে লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হলে সংক্রমণ আরো কমত। এখন জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা এবং সবাইকে টিকার আওতায় আনা।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, শনাক্তের হার ও রোগী শনাক্তের সংখ্যা খুবই সামান্য হারে কমতে দেখা যাচ্ছে। তবে সংক্রমণ কমছে, সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না; বরং দেশে করোনার সংক্রমণ এখনো বিপদসীমার অনেক ওপরে আছে। মৃত্যুর হার এখনো কমেনি। সংক্রমণ কমতে শুরু করলে তার এক সপ্তাহ পর মৃত্যু কমতে পারে।

সংক্রমণের এমন উচ্চঝুঁকির মধ্যেই আগামী বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে চলমান লকডাউন তুলে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার থেকে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, যানবাহন, বিপণিবিতান ও দোকানপাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর শিল্পকারখানা ১ আগস্ট থেকেই খোলা রয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বা বিনোদনকেন্দ্র খোলার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকার প্রতিদিন মোট যানবাহনের অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় নামানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেছেন, চলমান লকডাউন যেমনই হোক, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। তবে ঠিকমতো লকডাউন বাস্তবায়িত হলে করোনা সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসত। এখন শনাক্তের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। এখন ব্যাপকভিত্তিক টিকা দিতে হবে। একই সঙ্গে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। শনাক্তের হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত মুখে মাস্ক পরতেই হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, যেহেতু লকডাউন ১১ আগস্ট শেষ হচ্ছে। তাই সংক্রমণ রোধ করতে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। আর ব্যাপক হারে গণটিকা দিতে হবে। দিনের পর দিন লকডাউন দিয়ে রাখা যায় না। দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। তাই লকডাউন শিথিল হলেও সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, গত ২৪ জুলাই এর পর থেকে ০৮ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রতিদিনই করোনায় মারা গেছেন দুইশর বেশি মানুষ। এই ১৫ দিনে মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ৬০৬ জন। এর মধ্যে গত ২৫ জুলাই মারা যান ২২৮ জন; ২৬ জুলাই ২৪৭ জন; ২৭ জুলাই ২৫৮ জন; ২৮ জুলাই ২৩৭ জন; ২৯ জুলাই ২৩৯ জন; ৩০ জুলাই ২১২ জন; ৩১ জুলাই ২১৮ জন; ০১ আগস্ট ২৩১ জন; ০২ আগস্ট ২৪৬ জন; ০৩ আগস্ট ২৩৫ জন; ০৪ আগস্ট ২৪১ জন; ০৫ আগস্ট ২৬৪ জন; ০৬ আগস্ট ২৪৮ জন; ০৭ আগস্ট ২৬১ জন এবং ০৮ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২ হাজার ৬৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৫ হাজার ১০২ জন এবং মহিলা ৭ হাজার ৫৫০ জন। এছাড়া একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ২৯৯ জন। এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১২ লাখ ০৫ হাজার ৪৪৭ জন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT