রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০২:৪৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ বগুড়ার শেরপুরে নির্ঝর নিখোঁজের প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ ৯৭৩ বোতল ফেনসিডিলসহ প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ◈ স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস্ লিমিটেড এর ২.৭৫ কোটি টাকার কাঁচামালসহ কভার্ডভ্যান ডাকাতির আসামি গ্রেফতার। ◈ বঙ্গবন্ধুর মাজারে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রদ্ধা নিবেদন ◈ নাটোরে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবক আটক ◈ চৌমুহনী গোলাবাড়িয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুঁড়ে ছাই ◈ বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে চাটখিলের ইউ এন ও ◈ গোচরা ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অর্থ সম্পাদক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। ◈ রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ মা টুম্পা ও ছেলে বিজয ভাসমান লাশ উদ্ধার। ◈ কালিয়াকৈরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বিদেশি ফল বিক্রি কমে গেছে

প্রকাশিত : ০৩:২৩ AM, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Saturday ৪৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনা ভাইরাসে কাঁপছে চীন। কাঁপছে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের বাজারও। চলমান এ সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের ফল বাজারেও। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরাবাজারে বেড়েছে আপেল, কমলা, নাশপাতি, আঙুরসহ আমদানি করা প্রায় সব ধরনের ফলের দাম। ফলভেদে প্রতিকেজিতে খুচরাবাজারে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে করোনা আতঙ্কে সাধারণ ক্রেতারা কোনো ধরনের বিদেশি ফল কিনছেন না বলে দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের। তাদের হিসাবে বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আমদানিকারক সূত্রে জানা যায়, চায়না থেকে মূলত হানি ফুজি আপেল, ফুজি আপেল, ক্রাউন আপেল, গালা আপেল, লুগাম কমলা, ছোট কমলা, নাশপাতি, আঙুর আমদানি করা হয়। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর চীন থেকে ফল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে সংকটের। তাই দামও বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বাবুবাজারের আপেলের পাইকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারিস এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী মো. জুদান আহমেদ আমাদের সময়কে জানান, চীন থেকে হানি ফুজি, ফুজি আপেলের আমদানি হয় সবচেয়ে বেশি। আমদানি বন্ধ থাকায় এগুলোর কার্টনপ্রতি (২০ কেজি) অনেক দাম বেড়েছে। গত জানুয়ারির ২৫ তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা দাম বেড়েছে।

জুদান জানান, পাইকারি বাজারে হানি ফুজি আপেলের কার্টন (২০ কেজি) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং আগের সপ্তাহে ১ হাজার ৪৫০ টাকা। ফুজি আপেলের কার্টন ২ হাজার ৬০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ২০০ এবং আগের সপ্তাহে দুই হাজার টাকা। ক্রাউন আপেলের কার্টন ২ হাজার ৪৫০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা।

বাদামতলীর বিদেশি ফলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাদামতলী ঢাকা ফার্মের ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান জানান, নাশপাতিসহ আঙুরের দামও বেড়েছে। নাশপাতির কার্টন (৯ কেজি) বিক্রি

হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। অন্যদিকে ছোট চায়না কমলার কার্টন (১০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহেও দাম ছিল ৮০০ টাকা। বেড়েছে অন্য কমলার দামও।

কামরুজ্জামান বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনের সব ফলের আমদানি একেবারেই বন্ধ। সে দেশে এখন সরকারি ছুটি চলায় ব্যাংকিং কার্যক্রমও বন্ধ। কোনো এলসি খোলা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে এক সপ্তাহ পর দেশের ফল বাজার চায়নার ফলশূন্য হয়ে যাবে। এর প্রভাব অন্য দেশ থেকে আমদানিকৃত ফলের দামেও পড়বে।

কারওয়ানবাজারের ফল ব্যবসায়ী হারুন আহমেদ জানান, খুচরাবাজারে আপেল, কমলাসহ সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। প্রতিকেজি হানি ফুজি আপেল বর্তমানে ১৫০ টাকায়। গত সপ্তাহেও যা ছিল ১১০ টাকায়। ফুজি আপেল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে যা ছিল ১৩০ টাকা। অন্যদিকে নাশপাতি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। অন্য আমদানি করা ফলের দাম বেশি। মাল্টা মিসর থেকে আনা হলেও এ সময় এর দাম বাড়তি রয়েছে। প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। একই রকম ফল ভারত থেকে আনা হলেও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। এ ছাড়া আঙুর বর্তমানে ভারত থেকে আনা হলেও কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

বাংলাদেশ ফ্রেস ফ্রুট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, জানুয়ারিতে চীনে নববর্ষের ছুটি থাকাতে এমনিতেই ১৫ দিন সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজ বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। সব মিলিয়ে দীর্ঘসময় ধরে চীন থেকে বাংলাদেশে ফল আসছে না। তাই দাম একটু বাড়তি।

তবে বেশিরভাগ ফলেরই বিকল্প বাজার রয়েছে বলে উল্লেখ করে সিরাজুল আরও বলেন, চীনের বিকল্প হিসেবে ব্রাজিল, চিলি, সাউথ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনাসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এসব দেশ থেকে আপেল, কমলাসহ অন্য ফল আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। আগামী এক মাসের মধ্যে রমজানের আগেই দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে সাধারণ ক্রেতা আপেল, কমলার মতো সব ধরনের বিদেশি ফল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান ফলের খুচরা ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ফলের ব্যবসায় অনেক মন্দা যাচ্ছে। চীনের পরিস্থিতির কারণে এমনিতে ফলের দাম বাড়তি। তার ওপর ভাইরাস ছড়ানোর আতঙ্কে বিক্রিও কম। সব মিলিয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে ব্যবসা।

কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা হানিফ মাহমুদ বলেন, খাবারের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না। কিন্তু সাধারণ মানুষ কী আর তা বোঝে। সবাই এখন দেশি ফল কেনে। ভাইরাসের ভয়ে আপেল, কমলা, নাশপাতিসহ বিদেশি ফল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এতে বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।

এদিকে চীন থেকে আমদানি করা ফলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আমাদের সময়কে তিনি জানান, ফলের মধ্য দিয়ে এ ভাইরাস ছড়ায় না। এ ছাড়া ফলের গায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ লাগলেও একটা নির্দিষ্ট সময় পর (আনুমানিক এক-দেড় ঘণ্টা) ভাইরাস কার্যকর থাকে না। সুতরাং ফলটি আমদানির সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় ভাইরাসটি কার্যত ফলের গায়ে আর কার্যকর থাকে না। তা ছাড়া আমরা ফল খাওয়ার আগে ধুয়ে খাই। এতেও ঝুঁকি পুরোপুরিই কমে যায়। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
25 26 days 12 13 hours 15 16 minutes 47 48 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT